ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চাপিয়ে দেয়া চলমান যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। উদ্বেগ দেখা দিয়েছে গোটা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে কর্মরত প্রায় ৬০ লাখ বাংলাদেশী কর্মীর জীবন ও চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে। যারা সেখানে যাওয়ার জন্য অপেক্ষায় আছেন, তারাও পড়েছেন বড় ধরনের অনিশ্চয়তায়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শুরুর পর ঢাকা থেকে শত শত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ইরান, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্দানের আকাশসীমা বন্ধ। ফলে অপেক্ষমাণ অনেক কর্মী যেতে পারছেন না।
চলমান যুদ্ধে এর মধ্যে কয়েকটি দেশে অন্তত চারজন বাংলাদেশী কর্মীর মৃত্যুর খবর জানা গেছে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়া এবং অনেক কর্মীর চাকরি ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
বাংলাদেশের জন্য সমস্যা হলো— শ্রমবাজারের কোনো বৈচিত্র্য নেই। বৈদেশিক কর্মসংস্থানের প্রায় পুরোটা মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর। বিশেষ করে সৌদি আরবের ওপর। প্রায় ৭০ শতাংশ কর্মী যান সৌদি আরবে। অবশিষ্ট ৩০ শতাংশের মধ্যে ২০ শতাংশের গন্তব্য কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো কয়েকটি দেশে। এসব দেশে যাওয়া শ্রমিকদের বেশির ভাগ অদক্ষ অথবা আধা-দক্ষ। দক্ষ জনবল গড়ে তোলার বিষয়টি সব সরকারের সময় উপেক্ষিত থেকেছে।
যেসব দেশে কর্মী পাঠানো হয় সেই তালিকা অবশ্য বিশাল। নাম আছে ১৬৮টি দেশের; কিন্তু বাস্তবতা হলো, ৯০ শতাংশ কর্মী গেছেন মাত্র পাঁচটি দেশে। প্রায় ৫০টির মতো দেশে গেছেন এক-দুজন থেকে শুরু করে ১০ জনের মতো কর্মী।
মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে শ্রমবাজার সম্প্রসারণের বড় সমস্যা দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে না পারা। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও সৌদি আরবের সাথে মোট সাতটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এসব দেশে দক্ষ কর্মী পাঠানোর সুযোগ কাজে লাগানো যায়নি।
বিকল্প বাজার না থাকায় কর্মী পাঠানো ব্যাহত হচ্ছে। এতে অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচারের শঙ্কা বাড়ে।
চলমান পরিস্থিতিতে সরকার প্রবাসীদের সহায়তায় সার্বক্ষণিক হটলাইন ও নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করেছে। যারা পরিস্থিতির কারণে যেতে পারছেন না, তাদের ভিসার মেয়াদ বাড়াতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে অনুরোধ জানিয়েছে। এতে বেশ কয়েকটি দেশ ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।
এখন দরকার যুদ্ধাক্রান্ত দেশগুলোতে কর্মরত বাংলাদেশীদের জীবন ও চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ জন্য বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোকে দায়িত্ব নিতে হবে।
তবে সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো— নতুন শ্রমবাজার তৈরি। এ জন্য দক্ষ কর্মী গড়ে তুলতে হবে। বিষয়টিকে শুধু প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমিত রাখলে চলবে না। নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা সম্পন্ন করতে হবে, যাতে উন্নত দেশগুলোতে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের চিত্র দৃশ্যমান হয়।