ফেনীর দাগনভূঞায় দক্ষিণ আফ্রিকাপ্রবাসী আবুল মনছুর আহাদ অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘ ১৪ বছরের কষ্টার্জিত দুই কোটি ১৭ লাখ ৯৮ হাজার ৭৯ টাকা তার মেজো ভাই আত্মসাৎ করেছেন।
বুধবার ফেনী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ তুলে ধরেন।
মনছুর আহাদ উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ আবদুল নবী গ্রামের বাসিন্দা খায়েজ আহমদের ছেলে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি ফাস্টফুড ব্যবসা পরিচালনা করে উপার্জিত সব সঞ্চয় দেশে পাঠিয়েছেন। তার মেজো ভাই ওমর আলম ফরহাদের প্রতি বিশ্বাস রেখে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ পাঠান। দেশে ফিরে তার জন্য ফ্ল্যাট, জায়গা এবং ব্যবসার জন্য হাইস গাড়ি কিনে দেয়ার আশ্বাসও দেয়া হয়েছিল।
তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালে দেশে ফিরে দেখেন তার পাঠানো অর্থ দিয়ে ভাই নিজের নামে ফ্ল্যাট, ব্যবসা ও ওষুধের দোকান গড়ে তুলেছেন। কিন্তু তাকে কোনো সম্পদের মালিকানা কিংবা টাকার হিসাব দেয়া হয়নি। বারবার হিসাব চাইলে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়।
আবুল মনছুর আহাদের দাবি, তিনি তার ভাইয়ের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে ৬২ লাখ ৮০ হাজার ১৪৮ টাকা এবং এনএ কনস্ট্রাকশনের হিসাবে ১ কোটি ৫৫ লাখ ১৩ হাজার ৭২৫ টাকাসহ মোট ২ কোটি ১৭ লাখ ৯৮ হাজার ৭৯ টাকা পাঠিয়েছেন।
তিনি আরো জানান, দেশে ফেরার আগে তার হাতে লেখা টাকার হিসাবের একটি চিরকুট ভাইয়ের ছেলে খোরশেদ আলমের কাছে রেখে আসেন। দেশে ফিরে সেই হিসাবও তাকে দেয়া হয়নি। বরং পাওনা টাকা ও হিসাব চাইতে গেলে তাকে পৈত্রিক বাড়িতে যেতে নিষেধ করা হয় এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন।
আবুল মনছুর আহাদ বলেন, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়-স্বজন ও বিভিন্ন মহলের মাধ্যমে একাধিকবার বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করেও কোনো প্রতিকার পাননি। পরে বাধ্য হয়ে তিনি আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি অর্থহীন, অসুস্থ ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আবুল মনছুর আহাদ বলেন, ‘প্রবাসে জীবনের সোনালী সময়গুলো পরিবারের সুখের জন্য উৎসর্গ করেছি। আজ সেই কষ্টের উপার্জনের হিসাব চাইতে গিয়ে আমি অসহায় হয়ে পড়েছি। আমি শুধু আমার কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত চাই, এর বেশি কিছু নয়।’