পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা সুস্বাস্থ্য ও সুস্থতার জন্য প্রাথমিক শর্ত। এটি যেমন প্রত্যেক মানুষের ব্যক্তিজীবনের জন্য অতি জরুরি, ঠিক তেমনিভাবে সামাজিক জীবনের জন্যও অত্যাবশ্যক। দেশে গ্রামীণ জনপদে সরকারিভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য স্থানীয় প্রশাসন বা স্থানীয় সরকারের তেমন কোনো উদ্যোগ না থাকলেও শহরাঞ্চলে রয়েছে এর প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম। এই দায়িত্ব পালন করে সিটি করপোরেশন ও পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দেশের সিটি করপোরেশন বিশেষ করে পৌর শহরগুলোর বর্জ্য অপসারণ ঠিকমতো না হওয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পৌরবাসীর বসবাস করতে হয়। ফলে নানা অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত হন তারা। বিশেষ করে ময়লা-আবর্জনায় মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। এতে করে মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। যেমন এখন দেশে বেড়ে গেছে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু। অথচ বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে যদি মশার লার্ভা এবং প্রজনন ক্ষেত্রগুলো শনাক্ত করে ধ্বংস করা যেত; তা হলে ডেঙ্গুর উপদ্রব অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব ছিল। কিন্তু আমাদের নিজ নিজ কর্তব্যকাজ করার বিষয়ে রয়েছে গাফিলতি। পরিণামে নাগরিক দুর্ভোগ অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে যায়।

ঠিক এমন অবস্থায় পড়েছেন ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার বাসিন্দারা। ৩৩ হাজার জনসংখ্যা নিয়ে পাঁচ বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে সোনাগাজী পৌরসভা ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। কাগজ-কলমে প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হলেও আশানুরূপ নাগরিকসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে উল্টো করের বোঝা বহন করতে হচ্ছে পৌরবাসীকে।

নয়া দিগন্তের এক প্রতিবেদন বলছে, ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার পৌর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় থ্রি-হুইলার পাঁচটি গাড়ি পরিত্যক্ত হয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পৌর অফিস ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর আগারগাঁও থেকে নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পৌর বর্জ্য অপসারণের কাজে ডিসেম্বর ২০২৩ সালে ডিজেল-চালিত পাঁচটি ব্র্যান্ড নিউ থ্রি-হুইলার গাড়ি সোনাগাজী পৌরসভাকে হস্তান্তর করে। হস্তান্তরের পর থেকে জনবল সঙ্কটসহ ভৌগোলিক এলাকা অনুযায়ী ব্যবহার অনুপযোগী মনে করে গাড়িগুলো পৌর ভবনের সামনে খোলা জায়গায় ফেলে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন রোদ-বৃষ্টিতে থাকায় গাড়িগুলো নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

২২ বছরেও সোনাগাজী পৌরসভার বর্জ্য ডাম্পিং ব্যবস্থাপনায় কোনো সুনির্দিষ্ট জায়গা নেই। সেই সাথে বর্জ্য অপসারণ এবং এর অনুকূলে জনবল নিয়োগসহ গাড়ি ব্যবহার করে পৌরবাসীর চাহিদা অনুযায়ী সেবা নিশ্চিত করা এখনো সম্ভব হয়নি। সঙ্গতকারণে পর্যাপ্ত গাড়ি থাকা সত্ত্বেও সময়মতো সোনাগাজী পৌর শহরের বর্জ্য অপসারণ করা যাচ্ছে না। পৌর শহরের বিভিন্ন সড়কে ময়লায় সয়লাব থাকছে। ময়লা-আবর্জনা আর দুর্গন্ধ যেমন অসহনীয় হয়ে উঠেছে, তেমনি মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে। বাস্তবতা হলো- সোনাগাজী পৌর শহরে এখন ছড়িয়ে থাকে আবর্র্জনার স্তূপ, যা থেকে চারদিকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। মশা-মাছি ও পোকামাকড়ের উপদ্রবে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন পৌরবাসী। নাগরিকসেবা বঞ্চিত হয়ে তাদের মধ্যে এখন বিরাজ করছে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ।

সোনাগাজী পৌরবাসীর মতো আমাদেরও চাওয়া, পৌর কর্তৃপক্ষ দ্রুত বর্জ্য অপসারণের গাড়িগুলো মেরামত করে তা ব্যবহার উপযোগী করবে। সেই সাথে শহরের ময়লা-আবর্জনা অপসারণে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।