‘ঈদ’ মানে আনন্দ। পবিত্র ঈদুল ফিতর প্রতি বছরের মতো এবারো আনন্দ ও খুশির বারতা নিয়ে এসেছে মুসলিম উম্মাহর কাছে। রমজানের এক মাস কঠোর সিয়াম সাধনার পর শাওয়ালের প্রত্যাশিত নতুন চাঁদ দেখা গেলে পরদিন সবাই উদযাপন করবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। বাংলাদেশে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী সোম অথবা মঙ্গলবার ঈদ হতে পারে।
রোজার ত্যাগতিতিক্ষা মূলত উন্নত চরিত্র গঠনের অনন্য প্রশিক্ষণ। ঈদ উৎসবে তার প্রতিফলন থাকা বাঞ্ছনীয়। সমাজের ছোট-বড় সবাই এক কাতারে ঈদের আনন্দ উপভোগের সুযোগ পান- এটিই কাম্য। আল্লাহ তায়ালা আমাদের তৌফিক দান করুন। সেই সাথে প্রত্যাশা, বৈষম্যহীন সামাজিক ন্যায্যতা যেন প্রতিষ্ঠা পায়। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সেই মানবিক উপলব্ধি দিন, আজকের দিনে এটিই প্রার্থনা। মনে রাখা দরকার, ঈদ আর দশটি উৎসবের মতো নয়, এটি ধর্মীয় উৎসব। উৎসবের নামে বাড়াবাড়ি বা স্থূলতা পরিহার করা সবার কর্তব্য।
এ দেশের বেশির ভাগ মানুষ গ্রামাঞ্চলে বাস করে। শহরবাসী মানুষও নাড়ির টানে ছুটে যায় গ্রামের বাড়িতে। প্রিয়জনের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি ও উপভোগের রেওয়াজ আমাদের দীর্ঘ দিনের ঐতিহ্য। এর মানবিক ও সামাজিক আবেদন বিপুল। এতে শুধু আমাদের পারিবারিক বন্ধনই দৃঢ় হয় না; বৃহত্তর সামাজিক ব্যবস্থা বিলুপ্তির মোকাবেলায় এটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হওয়ায় ঈদ আমাদের জাতীয় উৎসব। এ উৎসবে ধনী-গরিব ব্যবধান ভুলে সব শ্রেণীর মানুষ ঈদের আনন্দে শরিক হয়। নির্মল আনন্দ উপভোগ করে। দুঃখ-বেদনা, শ্রেণিবৈষম্য ও উঁচু-নিচুর ব্যবধান ভুলে মানুষ এক কাতারে দাঁড়ায় ঈদের দিন। একে-অন্যকে বুকে জড়িয়ে ধরে। শত্রু-মিত্র বেদাভেদ ভুলে যায়। তাই ঈদের তুলনা শুধু ঈদ, আর কিছু নয়।
সচ্ছল মানুষেরা ঈদের সময় ফিতরা আদায় করে। ফিতরা এমন এক ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা যা গরিবের প্রাপ্য। ফিতরা ও জাকাতের বিধান ইসলামে সম্পদের সামাজিক বণ্টনের এক অনন্য ব্যবস্থা। গরিব মানুষও ফিতরার টাকায় অন্তত ঈদের একটি দিন একটু ভালো খেতে পারবে। এ জন্যই ঈদ এক সর্বজনীন উৎসব।
আমরা যখন ঈদ উৎসব করতে যাচ্ছি ঠিক তখন ফিলিস্তিনের গাজায় নারী, শিশুসহ অসংখ্য মানুষ ইসরাইলি বর্বর হামলায় হতাহত হচ্ছে। ঈদের আনন্দ তো দূরের কথা, সামান্যতম স্বস্তির অবকাশও নেই তাদের জীবনে।
তাদের দুরবস্থার কথা ভাবলে কোনো মুসলমানের পক্ষে ঈদে আনন্দ করা সম্ভব নয়। শুধু গাজা নয়, বিশ্বের নানা দেশে মানুষ জুলুম-নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। তাদের দুঃখ লাঘবে আমাদের অবশ্যই যথাসাধ্য সহযোগিতা করা উচিত। গাজার বুভুক্ষু ও মৃতপ্রায় মানুষের জন্য আর্থিক সাহায্য পাঠানোর নানা ব্যবস্থা আছে। যাদের পক্ষে সম্ভব তারা এগিয়ে আসতে পারেন। তাহলে আত্মগ্লানির কিছুটা হলেও লাঘব হতে পারে। ঈদের জামাতে তাদের বিপদ মুক্তিতে আল্লাহর দরবারে দোয়া করব আমরা।
ঈদ আমাদের জীবনে অর্থবহ আনন্দ বয়ে আনুক। তাৎপর্যময় হোক এই উৎসব। জাতীয় জীবনে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ুক। এ প্রত্যাশায় সবাইকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা; ঈদ মোবারক।