মৌসুমি জ্বর ডেঙ্গু আবারো আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে। অনেক জনপদে আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রমণ। বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। মারা যাচ্ছেন আরো বেশি মানুষ।
এবার ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন রাজধানী শহরের বাসিন্দারা। গত তিন দিনে ঢাকায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪২৫ জন। মৃত্যু হয়েছে ছয়জনের। এর পর রয়েছেন বরিশালবাসী। শুধু বরিশাল নয়, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, কুমিল্লাসহ দেশের অনেক জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে ডেঙ্গু। অবস্থা এমন যে, কারো জ্বর হলে পরিবারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ আগামী দুই মাসে আরো বাড়তে পারে।
সরকারি তথ্যমতে, গত জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ১৩ হাজার ১৮৮ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৫১ জনের।
দেশে ২০২৪ সালে ডেঙ্গুতে মারা যান ৫৭৫ জন। ২০২৩ সালে মারা যান এক হাজার ৭০৫ জন। সেটি ছিল ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সর্বোচ্চ সংখ্যা। চলতি বছরের প্রবণতা চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে। কারণ শুধু ডেঙ্গু নয়; এবার ডেঙ্গুর পাশাপাশি ছড়াচ্ছে চিকুনগুনিয়া- এমনকি কোভিড-১৯-এর মতো ভাইরাসও। এ ছাড়াও অনেকে আক্রান্ত হচ্ছেন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণজনিত জ্বর, পানিবাহিত সংক্রমণজনিত জ্বর এবং টাইফয়েড বা প্যারা-টাইফয়েড জ্বরে। সব মিলিয়ে দেশে একটি স্বাস্থ্যগত জরুরি পরিস্থিতি দেখা দেয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না।
কিন্তু বাস্তবতা এই যে, ডেঙ্গুর প্রকোপ ও সংক্রমণের হারের সাথে চিকিৎসাসেবা অথবা প্রতিরোধ কার্যক্রম সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের তৎপরতা আশানুরূপ নয়; ফলে স্থানীয়-সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থাও একই। ঢাকায় সিটি করপোরেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রমও চালু নেই। এমতাবস্থায় একটি জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেয়ার উপযোগী কোনো সমন্বিত উদ্যোগ তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না।
তবে বরগুনায় ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ার কারণ খুঁজে পেয়েছে আইইডিসিআরবি। দেখা গেছে, বরগুনা সদরে এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব স্বাভাবিকের অন্তত সাড়ে আটগুণ বেশি। এর কারণ, উপকূলীয় এ জেলায় সুপেয় পানির অভাবে মানুষ বৃষ্টির পানি ধরে রাখেন; কিন্তু পানি সংরক্ষণের নিয়ম অনুসরণ করেন না। ফলে সে পানিতে এডিস মশা ডিম পাড়ে।
দেশের সবখানে বরগুনার মতো অবস্থা না হলেও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে অসচেতনতা আছে। ডেঙ্গুর উৎস যে এডিস মশা তার প্রজননের প্রধান উৎস হলো- প্লাস্টিকের ড্রাম, বালতি, সিমেন্টের পাত্র, ফুলের টব ও ট্রে, অর্থাৎ পানি রাখার বিভিন্ন পাত্র। এসব ডেঙ্গু ছড়ানোর মুখ্য কারণ।
চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুর বর্তমান পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। আমাদের চিকিৎসা সক্ষমতা সীমিত, তাই প্রতিরোধে জোর দিতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি পদক্ষেপ এখনই বাড়াতে হবে এবং জনসচেতনতা বাড়াতে কার্যকর ব্যবস্থা করতে হবে।
ডেঙ্গু সংক্রমণের এ সময় জনগণকে সচেতন হতে হবে। ঘুমের সময় মশারি ব্যবহার এবং বাড়িঘর পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। পাড়া-মহল্লার বাসিন্দারা একত্র হয়ে পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে পারেন। ঘন ঘন হাত ধোয়ার অভ্যাস আবার ফিরিয়ে আনাও জরুরি।