মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশী শ্রমিকের চাহিদা আছে। আগামী কয়েক মাসে দেড় লাখের বেশি জনশক্তি প্রয়োজন হবে দেশটির। বাংলাদেশের বিষয়ে সে দেশের সরকার ও জনগণের মনোভাব ইতিবাচক। কিন্তু তারপরও সেখানে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া কোনোভাবেই সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক গতি পাচ্ছে না। জটিলতার অবসান ঘটছে না জনশক্তি রফতানিতে। এ জন্য মালয়েশিয়া সরকার বা অন্য কেউ দায়ী নয়। দায়ী মূলত বাংলাদেশীরা, যারা এ শ্রমবাজারে কর্মী পাঠান এবং এ বাজার নানাভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন।

সম্প্রতি দেশটির বনায়ন বা প্লান্টেশন খাতে কর্মী পাঠানোর অনুমতি দেয় বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এর সাথে স্বল্পসংখ্যক কর্মীর সংশ্লিষ্টতা থাকলেও এতে যেসব নেতিবাচক লক্ষণ স্পষ্ট হয়েছে তা হতাশাজনক বার্তা দেয়।

নয়া দিগন্তের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, মালয়েশিয়ার প্লান্টেশন সেক্টরে কর্মী পাঠানোর অনুমতি দেয়া হয় সাত মাস আগে। এর আগে প্রায় এক বছর ধরে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো বন্ধ ছিল। তার পরও এ সাত মাসে একজন শ্রমিকও সেখানে যেতে পারেননি। এমনকি যেসব রিক্রুটিং এজেন্সি শ্রমিক পাঠানোর অনুমোদন পেয়েছে- একজন কর্মীর জন্যও বহির্গমন ছাড়পত্রের (স্মার্টকার্ড) আবেদন জমা দেয়নি। অথচ এসব এজেন্সি কর্মী বাছাইয়ের নামে অনেকের কাছ থেকে পাসপোর্ট ও অগ্রিম টাকা নিয়েছে। কতজন কর্মীর কাছ থেকে কী পরিমাণ অর্থ আদায় করা হয়েছে সে তথ্য অবশ্য জানা যায়নি।

এক বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রফতানির সুযোগ অবারিত হলেও তা কেন হাতছাড়া করছেন রফতানিকারকরা- এর কোনো ব্যাখ্যা নেই। মালয়েশিয়ার সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ে আলোচনার পর এ সুযোগ আসে। সে বৈঠকে আরো কিছু অগ্রগতি হয়। জানানো হয়, গত বছর আটকে পড়া শ্রমিকদের ধাপে ধাপে এবং পরবর্তীতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আরো বাংলাদেশী শ্রমিক নেয়া হবে। এভাবে ২৫ হাজারের বেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে পারবেন। বাংলাদেশী শ্রমিকদের জন্য মাল্টিপল ভিসা দেয়ারও আশ্বাস দিয়েছে মালয়েশিয়া। বর্তমানে অন্য সব দেশের মতো শ্রমিকরা মাল্টিপল ভিসা পেলেও বাংলাদেশের শ্রমিকরা পান না। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মালয়েশিয়া সরকারের সাথে দেনদরবার করে সমস্যার সুরাহার চেষ্টা করেছেন এবং অনেকটা সফলও হয়েছেন। মালয়েশিয়া বিদেশী কর্মী নেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে বলেও আশ্বস্ত করেছে।

কিন্তু কোথাও একটা জটিলতা রয়ে গেছে। অনেকে মনে করেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশী শ্রমিক পাঠানোর সার্বিক কার্যক্রম যারা নিয়ন্ত্রণ করেন সেসব বাংলাদেশীর মধ্যকার পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও সহযোগিতার অভাব সমস্যার মূল কারণ।

আরেকটি বিষয় এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই। অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব পালনে নানাভাবে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। সংস্কার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে গতি আনার মতো সাধারণ পদক্ষেপও রুখে দেয়ার অপচেষ্টা চলছে। এনবিআরের আন্দোলন, তথাকথিত দাবি-দাওয়া আদায়ের নামে জনজীবন অচল করার অপপ্রয়াস এর বাস্তব উদাহরণ।

জনগণ আশা করে, সরকার কঠোর হবে এবং জনশক্তি খাতে বিদ্যমান দুষ্টচক্র ভেঙে দেশের পক্ষে মঙ্গলজনক পদক্ষেপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।