দেশের দু’টি পুঁজিবাজারের কোনো উন্নতি হলো না। লুটেরা আওয়ামী সরকারের পতনের পর দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও ঢাকা ও চট্টগ্রামের পুঁজিবাজার একই অবস্থায় আছে। এক দিন ইতিবাচক ধারায় চললে পরের দিনই নেতিবাচক হয়ে ওঠে। অস্থিরতা দেখা দেয়। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার উভয় পুঁজিবাজারে দিনের শুরুটা ভালো হলেও লেনদেনের বিভিন্ন পর্যায়ে সূচকে অস্থিরতা দেখা দেয়। দিন শেষে ঢাকা শেয়ারবাজারে প্রধান সূচক কিছুটা নিম্নমুখী এবং চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে সব সূচক কমবেশি ঊর্ধ্বমুখী ছিল। ডিএসই শরিয়াহ সূচকও ছিল নিম্নমুখী। তবে ডিএসই-৩০ সূচকে উন্নতি হয়। লেনদেনেও প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
মঙ্গলবার ঢাকা শেয়ারবাজারে লেনদেন বেড়েছে। মোট লেনদেন হয় ৮২৪ কোটি টাকার, যা আগের দিনের তুলনায় ১০৬ কোটি টাকা বেশি। চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারেও লেনদেন ১৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১৯ কোটিতে পৌঁছে। লেনদেনের এই বৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বস্তিদায়ক। কারণ লেনদেন বৃদ্ধি পাওয়া মানে বাজারে নতুন বিনিয়োগকারী যুক্ত হওয়া। এর ফলে ভবিষ্যতে বাজার ইতিবাচক ধারায় ফিরতে পারে।
মূলত দীর্ঘ আওয়ামী শাসনামলে পুঁজিবাজারে বারবার কারসাজির মাধ্যমে নির্বিচার লুটপাটের কারণে বাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের যে অনাস্থা সৃষ্টি হয়েছে তা আর ফেরানো যায়নি। এর ফলে কোনো একদিন বাজারে বড় উত্থান হলে পরদিনই মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতা দেখা যায়। বিনিয়োগ অব্যাহত রেখে কেউ আর পুঁজি খোয়ানোর ঝুঁকি নিতে চান না।
বাজার-সংশ্লিষ্টরা যদিও এটিকে বাজারের স্বাভাবিক আচরণ বলেই মনে করেন, তবে তারা আস্থার সঙ্কট অস্বীকার করেন না। অর্থনীতিতে আস্থা মানেই উন্নয়নের নিশ্চয়তা।
এ বিষয়ে নতুন সরকার কী পদক্ষেপ নেয় তা দেখার অপেক্ষায় আছেন সংশ্লিষ্টরা। আর্থিক খাতে নতুন সরকারের নেয়া সংস্কারের ওপরও বাজারের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের অনিয়মে জর্জরিত পুঁজিবাজারে কার্যকর সংস্কার পরিকল্পনা আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পুঁজিবাজার উন্নয়নে কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। তার মধ্যে ছিল সরকারের মালিকানা রয়েছে এমন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে সরকারের শেয়ার কমিয়ে সেগুলোকে পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্ত করা; বেসরকারি খাতের দেশীয় বড় কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত করতে প্রণোদনা দেয়াসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া; কেউ যেন পুঁজিবাজারে কারসাজি করতে না পারে সে জন্য বিদেশী বিশেষজ্ঞ দিয়ে পুঁজিবাজারের সংস্কার করা; পুঁজিবাজারে অনিয়ম ও কারসাজির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া এবং বড় আকারের ঋণের দরকার হয়— এমন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যাংকঋণ নির্ভরতা কমিয়ে পুঁজিবাজার থেকে বন্ড ও ইক্যুইটির মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহে আগ্রহী করে তোলার ব্যবস্থা নেয়া।
অন্তর্বর্তী সরকারের সেসব নির্দেশনার কোনোটিই কার্যকর হয়নি। কিন্তু এটি সত্য, পুঁজিবাজারে বারবার লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া না হলে বাজারে আস্থার সঙ্কট কখনোই কাটবে না। আর আস্থা সৃষ্টি না হলে বাজারের উন্নতি হবে না, এটি নিশ্চিত।
বিএনপির নতুন সরকার এ ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ নেয় এবং কতটা সফল হয়— সেটিই দেখার। পুঁজিবাজারের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাই সেই অপেক্ষায় আছেন।