স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার হলেও তা থেকে গ্রামের মানুষ অনেকটা বঞ্চিত। সরকার স্বাস্থ্যসেবায় শহরকেন্দ্রিক যতটা মনোযোগী, গ্রামের ক্ষেত্রে ততটাই উদাসীন। ফলে গ্রামে-গঞ্জে সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসক, নার্স, ওষুধ কিংবা অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রীর অভাব লেগেই থাকে। সরকার বদল হয় কিন্তু গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার মানে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয় না। চিকিৎসা পেতে গ্রামের মানুষের দুর্ভোগই শুধু বেড়েছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করার জন্য নানা উদ্যোগ নিচ্ছে।

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার টিয়ারখালী ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হয়েছিল ২০২১ সালে। দীর্ঘ পাঁচ বছর পার হলেও এ হাসপাতালটি এখনো পূর্ণাঙ্গরূপে চিকিৎসাসেবা দেয়া শুরু করতে পারেনি।

নয়া দিগন্তে গত বুধবার প্রকাশিত এক সরেজমিন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৭ কোটি ৪৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত টিয়ারখালী হাসপাতাল নামে ‘২০ শয্যা’ থাকলেও বাস্তবে চিকিৎসার জন্য একটি শয্যারও অস্তিত্ব নেই। চিকিৎসক, প্রয়োজনীয় জনবল এবং জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে হাসপাতালটি এখন সম্পূর্ণ অচল পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিনের অব্যবহার ও অবহেলায় ভবনের বিভিন্ন মূল্যবান অংশ নষ্ট হচ্ছে। হাসপাতাল চত্বরে অবাধে গবাদিপশু চরছে এবং ভবনের সিঁড়িতে পড়ে আছে পশুর মলমূত্র।

হাসপাতালের অধিকাংশ কক্ষই ফাঁকা পড়ে রয়েছে এবং চারপাশ ধুলাবালুতে ঢেকে গেছে। এক্স-রে কিংবা ইসিজিসহ প্রয়োজনীয় কোনো চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যবহার বা কোনো অস্তিত্বই নেই। কেবল একটি কক্ষে একজন নার্সকে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে আসা কয়েকজন রোগীকে বিনামূল্যে কিছু ওষুধ দিতে দেখা গেছে। তবে হাসপাতালের কোথাও নিয়মিত ও স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবার ন্যূনতম পরিবেশ দেখা যায়নি।

মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার সৌমিত্র সিনহা বলেন, উদ্বোধনের পর জনবল সঙ্কটের কারণে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা যায়নি।

স্বাস্থ্য অধিদফতর কিংবা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। এত বড় একটি অবকাঠামো তাহলে কেন নির্মাণ করা হলো। উদ্বোধনের সাথেই সাথেই চিকিৎসাসেবা শুরু করতে না পারা একটি অপচয়। এই অবহেলার দায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কিংবা স্বাস্থ্য অধিদফতর এড়াতে পারে না।

স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া করুণা নয়, অধিকার। এ ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক অবহেলার জবাবদিহি থাকা দরকার।

গ্রামে-গঞ্জে এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রের গুরুত্ব রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগের চিকিৎস দেয়া গেলে সেগুলো আর জটিল আকার ধারণ করে না। প্রাথমিক চিকিৎসা পেলে শহরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতেও ভিড় কমে। মানুষের ভোগান্তির অবসান হয়।

অতীতে দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান অনুন্নত রেখে কাউকে স্বাস্থ্যসেবার বাজার দখলের সুযোগ দেয়া হয়েছিল কি না সে প্রশ্ন সর্বত্র। তবে আমরা বিশ্বাস করি, বর্তমান সরকার অতীতের সরকার থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। আর তাই আমরা আশা করি, টিয়ারখালীর ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে জনবল নিয়োগ দিয়ে পূর্ণাঙ্গরূপে চালু করে সেখানকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।