বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি-এডিপি বাস্তবায়ন নানা কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এটি নতুন নয়। প্রতি বছর কর্মসূচি কাটছাঁট হয় এবং অনেক প্রকল্প অসম্পূর্ণ থেকে যায় অথবা দীর্ঘায়িত হয়। এর ফলে দেশের উন্নয়নের লক্ষ্য প্রায়ই পূরণ হয় না। উন্নয়নের গতি মন্থর হয়ে পড়ে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব খাতের উন্নয়নে দুই লাখ কোটি টাকার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে এক লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং ৭২ হাজার কোটি টাকা আসবে বৈদেশিক উৎস থেকে। মূল এডিপি সংশোধন করে মোট বরাদ্দ কমানো হয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকা। মোট ২৮৬টি প্রকল্প ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কিন্তু এগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হবে কি না সন্দেহ। কারণ এডিপি বাস্তবায়নে অনেক চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। সেগুলো যথারীতি চিহ্নিত করেছে বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ-আইএমইডি। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এ বিভাগের কাজকর্ম রুটিন ওয়ার্কে দাঁড়িয়ে গেছে। অর্থাৎ সমস্যা চিহ্নিত করার কাজটি করলেও কাটিয়ে ওঠার প্রয়োজনীয় কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয় না।
আইএমইডি চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপি বাস্তবায়নের মোট ৩৭টি চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেছে। উন্নয়ন প্রকল্প তৈরি ও অনুমোদন পর্যায় পর্যন্ত রয়েছে ১৭টি চ্যালেঞ্জ। বাস্তবায়ন পর্যায়ে ১৪টি এবং বাস্তবায়নের পরের ধাপে রয়েছে ছয়টি চ্যালেঞ্জ।
একটি জাতীয় দৈনিকের খবরে এসব চ্যালেঞ্জের উল্লেখ করা হয়েছে। এসবের মধ্যে প্রকল্প তৈরিতে অদক্ষতা, নকশায় ত্রুটি, অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দুর্বলতা, মাঠপর্যায়ে প্রকল্প তৈরি ও বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি ও প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটির সভা নিয়মিত না হওয়ার মতো নানা সমস্যা আছে। এ থেকে স্পষ্ট, দেশের উন্নয়ন হচ্ছে নেহাত দায়সারাভাবে।
স্বাভাবিকভাবে বারবার হোঁচট খাচ্ছে বার্ষিক উন্নয়ন লক্ষ্য। চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত হলেও সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেই। সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের। তারা কতটা সক্রিয় বোঝার উপায় নেই। কারণ সমস্যাগুলো বছরের পর বছর অনিষ্পন্ন থেকে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরাও একমত, চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। এ কারণে প্রতি অর্থবছরে হাজার হাজার কোটি টাকা ও সময়ের অপচয় হচ্ছে। মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সক্রিয় উদ্যোগ ছাড়া উন্নয়ন কার্যক্রমে বিরাজমান অব্যবস্থাপনা ও অপচয় দূর করা আদৌ সম্ভব নয়।
বর্তমানে যেভাবে সার্বিক কর্মকাণ্ড চলছে তাকে একধরনের অচলাবস্থা বলা যায়। এর পরিবর্তন হতে হবে। স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর আশা করা গিয়েছিল, অন্তর্বর্তী সরকার গোটা প্রশাসন ঢেলে সাজিয়ে পুরোমাত্রায় সক্রিয় করে তুলবে। তা সম্ভব হয়নি। এর পেছনে শুধু সরকারের অপারগতা নয়, রাজনৈতিক দলগুলোরও ভূমিকা আছে। কিছু দলের কর্মকাণ্ডে রাষ্ট্র-সংস্কারে সরকারের নেয়া উদ্যোগ অকার্যকর করার প্রয়াস দেখা গেছে।
এখন দেখার বিষয়, আগামী নির্বাচনের পরের সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে কি না। গত ১৫ বছরে নিয়োগ পাওয়া অদক্ষ অযোগ্য ব্যক্তিদের বহাল রেখে অবস্থার উন্নয়ন কতটা সম্ভব, সে সংশয় থাকছেই।