বিগত সরকারের বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে দুর্নীতির মচ্ছব হয়েছে। এ সময় জনগণের উপকারিতা ও অর্থনৈতিক লাভালাভের বিষয়টি উপেক্ষিত হয়েছে। এ ধরনের মেগা উন্নয়ন প্রকল্প এখন পরিণত হয়েছে ‘সাদা হাতি’তে। অনেক প্রকল্প আছে যেগুলো এখনো বাতিল করা যাচ্ছে না। সামনের দিনগুলোতে দেশকে এ ঘানি সামনে টেনে নিয়ে যেতে হবে। এ ধরনের একটি প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। এর বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ভবিষ্যতে এর পরিচালনা নিয়ে দ্বিধা তৈরি হচ্ছে। জ্বালানি কেন্দ্রটি প্রতিশ্রুত সময়ে উৎপাদনে যেতে ব্যর্থ হয়েছে। কখন এটি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে সে সম্পর্কেও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় পাবনার রূপপুরে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরমাণু শক্তি কমিশন কাগজে কলমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করলেও প্রকৃতপক্ষে তাদের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রোসাটম অনেকটা নিজেদের ইচ্ছায় কাজ চালাচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রতিশ্রুত সময়সীমা দেয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। প্রথমে বলা হয়েছিল সঞ্চালন লাইন তৈরি না হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না। দেখা যাচ্ছে, তিনটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন লাইন বিদুৎ সঞ্চালনে প্রস্তুত; কিন্তু কেন্দ্র থেকে সেগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ হচ্ছে না। মোটকথা পরমাণু কেন্দ্র কার্যত বিদ্যুৎ উৎপাদনে এখনো সক্ষম নয়।
প্রথম বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ২০২২ সালে, দ্বিতীয়টি গত বছরে, তৃতীয়টি চলতি বছরের জুনে প্রস্তুত হয়েছে। এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট করে দু’টি ইউনিট থেকে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে। প্রস্তুত হওয়া তিন সঞ্চালন লাইন চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পরিবহনে সক্ষম। নয়া দিগন্তের এক প্রতিবেদনে জানা যাচ্ছে, প্রথম ইউনিট থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর কথা ছিল। পরে পিছিয়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নেয়া হয়, এখন আরো পিছিয়ে দেয়া হচ্ছে। দ্বিতীয় ইউনিট থেকে উৎপাদন শুরুর কথা ছিল ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে, সেটি পিছিয়ে ২০২৫ সালে নেয়া হয়েছিল, এখন এ প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বাস্তবে বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে কখন জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হবে তার নিশ্চিত তারিখ নেই।
শুরুতে তিন গুণ বেশি ব্যয়ে রাশিয়ার সাথে চুক্তি করায় তীব্র সমালোচনায় পড়ে রূপপুর প্রকল্প। স্বৈরাচারী হাসিনা ও তার ভাগনী টিউলিপ সিদ্দিকী এ প্রকল্প থেকে বিপুল অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন; এ নিয়ে মিডিয়ায় রিপোর্ট হয়েছে। রাশিয়ায় ভ্রমণের সময় টিউলিপকে তার খালা হাসিনার সাথে দেখা যায়। এ দিকে রাশিয়ার সহায়তায় ভারতে নির্মিত পরমাণু প্রকল্প এর তৃতীয়াংশ অর্থ ব্যয়ে হয়েছে। অথচ বিপুল অপচয়ের পর প্রতিশ্রুত সময়ে রূপপুরে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। বড় বড় অকাঠামো নির্মাণের পর সময়মতো বিদ্যুৎ উৎপাদনে না আসায় সরকারকে বিপুল অর্থ গচ্ছা দিতে হচ্ছে।
প্রকল্প বিচেনায় রূপপুর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পশকাতর। কয়েক লাখ কোটি টাকা খরচ করে তৈরি করা হয়েছে। এতে কাজ করছে ভারতীয়রাও। ফলে এর নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে। সঙ্গত কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়সীমা ও প্রকল্পের নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের নতুন করে ভাবা উচিত।