ঈদের আগে ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি শহরে ছিনতাইকারীদের উৎপাত বেড়েছে। পুলিশ সদস্যরাও তাদের কবলে পড়ছেন। সিলেটে নাগরিক সমাজ সরকারের কাছে ছিনতাইকারীদের উৎপাত বন্ধের দাবি জানিয়েছে।
গত শনিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে তারাবিহ নামাজ শেষে হাঁটাহাঁটির সময় ছিনতাইয়ের শিকার হন দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের মহাপরিচালক মোতাহার হোসেন। ছিনতাইকারীরা তার আইফোন, মানিব্যাগ ও হাতঘড়ি ছিনিয়ে নেয়। আইফোনের পাসওয়ার্ড জানতে চেয়ে তাকে মারধরও করা হয়। গত ৪ মার্চ ভোরে ভ্যান নিয়ে যাত্রাবাড়ীর দিকে যাওয়ার সময় ফয়জুর রহমান নামের এক বৃদ্ধ জুরাইনের মুন্সিবাড়ী এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হন। ধারালো অস্ত্রের পোঁচ দিয়ে তার মোবাইল ফোন সেট এবং পাঁচ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। গত সোমবার ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের নগর ভবনের সামনে দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে পিস্তল ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা।
ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির তথ্য মতে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৩০৮টি অভিযোগ দেয়া হয়। আর পুলিশ সদর দফতরের মাসিক অপরাধ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে সারা দেশে ছিনতাইসহ দস্যুতার ঘটনায় ১৬৩টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীতে ২৯টি এবং ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ৪২টি মামলা হয়েছে। এ ছাড়া ফেব্রুয়ারি মাসে ১৩৭টি মামলা হয়।
পুলিশের এসব পরিসংখ্যানের চেয়েও ছিনতাইয়ের ঘটনা অনেক বেশি। কারণ, ছিনতাই হওয়ার পর ভুক্তভোগীদের অনেকে আইনের আশ্রয় নিতে চান না।
সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রথম দিকে আমরা ছিনতাইয়ের ভয়ঙ্কর সব ঘটনা দেখেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় সেগুলো নিয়ন্ত্রণে আসে।
এখন নতুন সরকার আসার পর আবারো ছিনতাই বেড়ে যাওয়ার নানা কারণ থাকতে পারে। অপরাধীদের একটি চক্র বরাবরই ঈদকে কেন্দ্র করে ছিনতাই করে। এগুলো হয় মূলত সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয়তার অভাবে। রাজধানী ও রাজধানীর বাইরের শহরগুলোতে কোথায় কোন স্থানে নিয়মিত ছিনতাই হয় সেগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অজানা নয়। এসব অপরাধপ্রবণ স্থানে নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার করতে হবে। অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত একটি বড় অংশ মাদককারবারি। মাদকাসক্তরা ছিনতাই করে মাদক সেবন করে। এসব মাদককারবারি ছিনতাইকারীদের গ্রেফতার করে জেলে দিলেও নানাভাবে বের হয়ে তারা আবারো ছিনতাইয়ে জড়িয়ে পড়ছে। তাই এই শ্রেণীর ছিনতাইকারীদের হাত থেকে বাঁচতে শুধু আইন যথেষ্ট নয়; বরং এদের কিভাবে পুনর্বাসন করা যায়— সে বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ নিতে হবে।
চব্বিশের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নানা কারণে অনেক কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সেগুলোতে কাজ করা নিম্ন আয়ের অনেক মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে। কাজ হারিয়ে বেকার বনে যাওয়া মানুষদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা জরুরি। নব্য বেকারদের একটি অংশ ছিনতাইয়ে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এর সাথে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ক্রয়ক্ষমতা কমায় স্বল্প আয়ের মানুষদের একটি অংশ ছিনতাইসহ সামাজিক অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে। বিষয়গুলোকে মাথায় নিয়ে সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেয়ার পাশাপাশি ছিনতাই বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর তৎপরতা দরকার।