আমাদের দেশে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ রেলে ভ্রমণ করেন। কিন্তু এ দেশে রেলব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় রেল ভ্রমণ এখনো সীমিত পর্যায়ে রয়েছে। আবার আগে অনেক স্থানে রেল চলাচল সুবিধা থাকলেও এখন তা বন্ধ হয়ে গেছে।

দেশের উত্তর জনপদের ১০ জেলার মানুষের রেলপথে রাজধানীতে যাতায়াতের মাধ্যম ছিল ফুলছড়ির তিস্তামুখ ফেরিঘাট। সেই ঘাটটি দুই যুগ ধরে বন্ধ। ঘাটটি এখন বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছে। লুটপাট হচ্ছে সেখানকার কোটি টাকার রেল-সম্পদ। একটি সহযোগী দৈনিকের ফুলছড়ি (গাইবান্ধা) সংবাদদাতার প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, পঞ্চগড়সহ গাইবান্ধা জেলার কোটি মানুষ তিস্তামুখ ঘাট দিয়ে ফেরিতে বাহাদুরাবাদ হয়ে ঢাকায় যাতায়াত করতেন। রেল কর্তৃপক্ষের সঠিক তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় বন্ধ এ পথের কোটি কোটি টাকার মূল্যবান সম্পদ অরক্ষিত পড়ে রয়েছে। তিস্তামুখ ঘাট থেকে ভরতখালীর শেষ সীমানা পর্যন্ত রেলের জায়গা, কলোনি, কোয়ার্টার, প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছেন। নির্মাণ করেছেন বিভিন্ন স্থাপনা। হরিলুট করে নিয়ে যাচ্ছেন এ রুটের রেললাইনসহ মূল্যবান সব সম্পদ। প্রতিনিয়ত মূল্যবান সম্পদ দখল হয়ে গেলেও এসব দেখার যেন কেউ নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, হরিলুটের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে দফায় দফায় অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার মিলছে না।

বোনারপাড়া রেলস্টেশন থেকে তিস্তামুখ ঘাট পর্যন্ত রুটে অবস্থিত ভরতখালী স্টেশন। দুই পাড়ের সাথে যোগাযোগে তিস্তামুখ ঘাট-বাহাদুরাবাদ ঘাট পর্যন্ত যমুনা নদীতে ফেরি সার্ভিস চালু ছিল। ১৯৯৭ সালে যমুনা সেতু নির্মাণ হলে ফেরি সার্ভিসহ রেলপথটি বন্ধ হয়ে যায়। পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে বোনারপাড়া, ভরতখালী ও তিস্তামুখ ঘাট পর্যন্ত রেল যোগাযোগ। দুই যুগের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকায় ভরতখালী-তিস্তামুখ ঘাটের রেলপথসহ কোটি কোটি টাকার সম্পদ অরক্ষিত হয়ে পড়লে একটি চক্র রেলপথের সব কাঠের মূল্যবান সিøপার চুরি করে নিয়ে গেছে। তিস্তামুখ ঘাট, ভরতখালী রেলস্টেশনের রেলপথে শুধু রেললাইন ছাড়া আর কিছুই নেই।

লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগের বগুড়া-বাদিয়াখালী রেলপথের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ভরতখালী রেলস্টেশনের সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণে সরকারি পাহারাদার নিয়োগ করা আছে। প্রয়োজনে আরো একজন পাহারাদার নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে। অবৈধ-দখলদারদের বিষয়ে বলেন, উচ্ছেদ অভিযানের দায়িত্ব রেলওয়ের ভূসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তার।

কিছু দিন আগে রেলপথ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, রেলওয়েতে এক টাকা আয় করতে আড়াই টাকার মতো খরচ করতে হয়। দুর্নীতি যাতে কমে এবং অপচয় যাতে বন্ধ হয় সে জন্য আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। রেলপথ উপদেষ্টার বক্তব্য আশাজাগানিয়া। কিন্তু আমরা কাজ দেখতে চাই। রেলওয়ের সম্পদ ও সম্পত্তি সব জেলাতে ব্যাপকভাবে লুটপাট হচ্ছে। এগুলো বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। পাশাপাশি তিস্তামুখ ঘাট থেকে বাহাদুরাবাদ পর্যন্ত সেতু অথবা টানেল নির্মাণ করে যাতায়াতের এ পথ সচল করতে হবে। দ্রুততম সময়ে তিস্তামুখ ঘাট চালু করে মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘবে সরকার পদক্ষেপ নেবে, এটি এলাকাবাসীর মতো আমাদেরও প্রত্যাশা।