পতিত সরকারের পালিয়ে থাকা সদস্যরা দেশবিরোধী নানা অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। ভারতে পালিয়ে থাকা শেখ হাসিনা সামাজিকমাধ্যম ব্যবহার করে ষড়যন্ত্রকারীদের সংগঠিত করছেন। গুম খুন গণহত্যার জন্য তাদের কোনো অনুশোচনা নেই। অভ্যুত্থানকারী ছাত্র-জনতাকে তারা সন্ত্রাসী বলছে এবং ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারকে দখলদার সরকার গণ্য করছে। এ জন্য তারা প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে অন্তর্বর্তী সরকার উৎখাতে অব্যাহত ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করে যাচ্ছে। এর প্রভাবে বিগত সাত মাসে দেশে বারবার অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। সংস্কার ও নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার মসৃণ পালাবদলে এ ফ্যাসিস্ট চক্র বাধা সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে, তাদের বিরুদ্ধে এখনো সেভাবে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি সরকার।

পতিত সরকারি দল আওয়ামী লীগের সদস্যরা শুরুতে পালিয়ে যেতে সর্বশক্তি নিয়োগ করে। এখন তৎপর হতে শুরু করেছে। তবে হাসিনা দিল্লিতে আশ্রয় নেয়ার পর থেকে সামাজিকমাধ্যম ব্যবহার করে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। সেখানে তিনি ছাত্র নেতৃত্ব ও অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যদের খুন হত্যা ও আগুনে পুড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ সদস্য কলকাতা, আগরতলা, মেঘালয় ও দিল্লিতে বসে বাংলাদেশবিরোধী অপতৎপরতা চালাচ্ছেন। এখন দলটির পলাতক সদস্যরা ইউরোপ আমেরিকায় জড়ো হয়ে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। জানা যাচ্ছে, তারা বিভিন্ন জায়গায় গুপ্ত বাহিনী গড়ে তুলছে। এ ধরনের একটি বাহিনী ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’। গত ১৯ ডিসেম্বর এ বাহিনী হাসিনার নেতৃত্বে একটি বৈঠক করে। ওই বৈঠকে দেশকে শান্তিপূর্ণভাবে চালাতে দেবে না মর্মে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেই সাথে অন্তর্বর্তী সরকার উৎখাতে দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়ার ষড়যন্ত্র করা হয়। বৈঠকে ৫৭৭ জন অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ৭৩ জনকে চিহ্নিত করা গেছে। এদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা হয়েছে। বাকি ৫০৪ জনকে চিহ্নিত করতে গোয়েন্দা কার্যক্রম চলছে। রমজান ঘিরে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় মিলিত হয়ে পতিত আওয়ামী লীগাররা অপতৎপরতা চালাচ্ছে। হুমকি-ধমকি এবং দেশদ্রোহিতামূলক বক্তৃতা দিয়ে দেশের ভেতরে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের এ অপতৎপরতা রুখতে হবে। বিশেষ করে ভারতে থাকা বিপুলসংখ্যক আওয়ামী লীগারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। বিবিসি বাংলার এক খবরে জানা যাচ্ছে, শুধু পশ্চিমবঙ্গে পতিত সরকারের ৭০ সংসদ সদস্য আশ্রয় নিয়েছেন। গুম খুনের হোতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ে অসংখ্য অপরাধীকে আশ্রয় দিয়েছে ভারত। প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়ার সভাপতি গৌতম লাহিড়ি জানিয়েছেন, ভারতে আশ্রয় নেয়া আওয়ামী লীগারের সংখ্যা ৪৫ হাজার। এরা বাংলাদেশের নিরাপত্তায় হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সরকারের উচিত এদের প্রত্যেককে শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা। ভারত সরকারের কাছে তাদের প্রত্যাবর্তনের অনুরোধ করা। অন্তত সেখানে বসে যেন বাংলাদেশবিরোধী কোনো অপতৎপরতা চালাতে না পারে সরকারকে সেই নিশ্চয়তা তৈরি করতে হবে। ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যারা দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের সাথে যুক্ত সবাইকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।