ফিলিস্তিনের গাজায় আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করেছে জাতিসঙ্ঘ। এর আগে সোমালিয়া ও সুদানে আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হয়েছিল। গাজায় খাদ্যসঙ্কট তীব্র। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় পাঁচ লক্ষাধিক বাসিন্দা চরম খাদ্যাভাবে ভুগছেন। প্রতিদিন দুর্ভিক্ষে মৃত্যু বাড়ছে। মৃত্যুর শিকার এসব মানুষের একটি বড় অংশ শিশু। অনেক শিশু খাদ্যাভাবে এতটা দুর্বল হয়ে পড়ছে, কাঁদতে বা খাবার খেতে পর্যন্ত পারছে না। জাতিসঙ্ঘ সতর্ক করে বলেছে, অতি দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যেতে পারে।
খাদ্যনিরাপত্তা-বিষয়ক বৈশ্বিক সংস্থা ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশনের (আইপিসি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৫ আগস্ট পর্যন্ত গাজা নগরী দুর্ভিক্ষের সর্বোচ্চ ধাপে (ধাপ-৫) পৌঁছেছে। এ ধাপ হলো খাদ্যনিরাপত্তার সূচকে সর্বোচ্চ ও মারাত্মক পর্যায়। গাজার ২০ শতাংশ এলাকায় এ দুর্ভিক্ষের প্রভাব বিস্তৃত। আইপিসি জানিয়েছে, যখন পরিবারগুলো সবধরনের চেষ্টা করেও খাদ্য বা অন্যান্য মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে পারে না, তখন ধাপ-৫-এর দুর্ভিক্ষের ঘোষণা দেয়া হয়।
গাজার এ দুর্ভিক্ষ মানবসৃষ্ট। মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষে মানুষ মারা যাবে, আর বিশ্ববাসী চেয়ে চেয়ে দেখবে- তা হতে পারে না। এটি মানবতার চরম অপমান ও লাঞ্ছনা ছাড়া আর কিছু নয়। গাজাবাসীর যেন মানবাধিকার থাকতে নেই। বিশ্ববাসী অবাক বিস্ময়ে দেখছে, গাজায় প্রবেশে ত্রাণের ট্রাকগুলো আটকে রেখেছে ইসরাইল। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, জর্দান ও মিসর সীমান্তে গাজায় প্রবেশে ২২ হাজারের বেশি ত্রাণবাহী ট্রাক অপেক্ষা করছে। এসব ত্রাণবাহী ট্রাক অনতিবিলম্বে গাজায় প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে। ত্রাণ নিতে গিয়েও ইসরাইলের হত্যার শিকার হচ্ছে গাজাবাসী। গাজায় গত ২৭ মের পর থেকে এ পর্যন্ত দুই সহস্রাধিক ত্রাণপ্রত্যাশীকে হত্যা করেছে ইসরাইল। ইসরাইলকে এটি বন্ধে বাধ্য করতে হবে। গাজাবাসীর ওপর ইসরাইলের মানবতাবিরোধী অপরাধ বন্ধে বিশ্বের মানবতাবাদী ও মানবাধিকার নিয়ে সক্রিয় দেশগুলোকে সোচ্চার হতে হবে। কোয়ার্সিভ ডিপ্লোমেসির মাধ্যমে গাজাবাসীকে দুর্ভিক্ষ থেকে রক্ষা করতে হবে।
ইসরাইল শুরু থেকে ফিলিস্তিনে সন্ত্রাস চালাচ্ছে। ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড অবৈধভাবে দখল করতে করতে শেষপ্রান্তে চলে এসেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া গাজাযুদ্ধ ঘিরে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গোটা গাজা দখলের ঘোষণা দিয়েছেন। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজাবাসীকে অন্যত্র সরিয়ে দেয়ার কথা বলেছিলেন। নেতানিয়াহু কিংবা ট্রাম্পের এসব কথাবার্তা স্পষ্টত শক্তিমানকে অন্যায় কাজে ধাবিত করার নামান্তর। বিশ্ব আজ যেন ‘জোর যার মুল্লুক তার’ নীতিতে চলছে। এর অবসান অবশ্যই হতে হবে।
গাজার বর্তমান অবস্থা নিয়ে ইতোমধ্যে ইউরোপের কিছু দেশ নড়েচড়ে বসেছে। কিছু আরব রাষ্ট্রও ইসরাইলের বিপক্ষে কথা বলছে। বাস্তবে গাজাবাসীকে ইসরাইলি আগ্রাসন থেকে বাঁচাতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ এখনো দৃশ্যমান নয়। শুধু কথার ফুলঝুরি আর বিবৃতিতে কাজের কাজ হবে না। কারণ ইসরাইলের বিরুদ্ধে এসব রাষ্ট্র কথা বললেও গাজায় গণহত্যা থেমে নেই। এই গণহত্যা এখনই বন্ধ করতে হবে। সেই সাথে গাজাবাসীকে মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষ থেকে রক্ষা করতে হবে। আমদের প্রত্যাশা, বিশ্ববাসী সবধরনের বিভেদ-বিদ্বেষ ভুলে গাজাবাসীর মানবাধিকার রক্ষায় অতি দ্রুত এগিয়ে আসবে।