ভোজ্যতেলের সরবরাহ ক’দিন আগে খানিকটা ব্যাহত হয়েছিল। ঈদ সামনে রেখে স্বাভাবিকভাবেই চাহিদা বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে অনেকে সতর্কতা হিসেবে বাড়তি তেল কিনে রাখছেন। আবার যুদ্ধের কারণে ডিজেলের রেশনিং হওয়ায় তেল পরিবহনেও কিছুটা সমস্যা দেখা দেয়। সব মিলিয়ে বাজার অস্থিরতা দেখা দেয়। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে ভোজ্যতেলের মজুদ যথেষ্ট আছে, সঙ্কটের আশঙ্কা নেই। তবে বাজারে ভোক্তাদের এখনো বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে।

রাজধানীর বাজারে বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন— দুটোরই দাম বেড়েছে। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার বোতলজাত তেল লিটারে দুই থেকে তিন টাকা, আর খোলা তেল পাঁচ থেকে আট টাকা বেশি দামে বিক্রি হয়।

গত সোমবার ভোজ্যতেল আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠকের পর বাণিজ্যমন্ত্রী তেলের দাম বাড়বে না বলে আশ্বাস দেন। কিন্তু বাজারে ভিন্নচিত্রই দেখা যায়। খবর অনুযায়ী, প্রায় এক মাস ধরেই খুচরা বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ কম। ব্যবসায়ীদের কাছে নানারকম তথ্য মেলে। ডিলারদের উদ্ধৃত করে কেউ বলেন, কয়েক দিন ধরে তেলবাহী ট্রাক আসছে না। কোম্পানিগুলো তেলের সরবরাহ কমিয়ে দেয়ার কারণে বাজারে টান পড়েছে। যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দামে। যদিও আমদানিকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কেউ কেউ বলছে, ডিজেল সঙ্কটে তেলবাহী পরিবহন পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়ছে। এ কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতেই খুচরা বাজারে দাম বেড়েছে। দাম বেড়েছে চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারেও। কেউ বলেন, ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার কারণে দামের এই উল্লøম্ফন। শুধু ঢাকা বা চট্টগ্রাম নয়, খুলনা-বরিশালেও একই অবস্থা।

চলমান রমজান এবং আসন্ন ঈদ ঘিরে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়া আমাদের বাজার সংস্কৃতির পুরনো রেওয়াজ। ব্যবসায়ীরা যেকোনো অজুহাতে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। সম্প্রতি বাজার পরিদর্শনে যাওয়া একজন ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে ব্যবসায়ী নেতার গর্হিত আচরণে স্পষ্ট হয়, ব্যবসার নৈতিক নিয়ম-নীতি তো দূরের কথা, তারা এখন রাষ্ট্রীয় আইনেরও তোয়াক্কা করতে চান না। এ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সরাসরি জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট এসব বিষয়ে নবনির্বাচিত সরকারের কঠোর হওয়া দরকার। না হলে গত ১৭ বছরের নৈরাজ্যকর শাসনে কিছু মানুষের মধ্যে রাষ্ট্র ও সমাজকে উপেক্ষা করার যে ক্ষতিকর প্রবণতার সৃষ্টি হয়েছে, তা রোধ করা যাবে না।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মাধ্যমে বাজার তদারকি জোরদার করা হবে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে আরো সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেয়া হবে। আমরা বলি, যেকোনো ছুতায় জিনিসপত্রের দাম বাড়ানোর প্রবণতা থেকে ব্যবসায়ীদের ফেরানোর ব্যবস্থা আগে দরকার। সেটি হতে পারে, ব্যবসায়-বাণিজ্যে সততা রক্ষার বিষয়ে তাদের সচেতন করা। কাজটি কিভাবে কোন প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হবে, তা সরকারকেই ভাবতে হবে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে হবে।

মোট কথা, শুধু মুনাফার দিকে না তাকিয়ে যাতে জনমানুষের দুর্ভোগের কথাও মনে রাখেন— এমন মানবিক গুণ ব্যবসায়ীদের মনে জাগিয়ে তুলতে হবে। এই মূল্যবোধ তৈরিতে সরকার-নাগরিক সমাজ, সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। নৈতিক ও মানবিক গুণ ব্যবসায়ীদের লোভ সংবরণে সহায়ক হবে। যেনতেন উপায়ে দাম বাড়ানোর প্রবণতা এতে রোধ হবে।