দেশের আয়তনের ১ দশমাংশ পার্বত্য চট্টগ্রামের দিকে আমাদের নজর কম। সেখানকার সমস্যা জাতীয় পর্যায়ে প্রায়শ কম গুরুত্ব পায়। এ কারণে অনেক সমস্যার সমাধান হয় না। প্রতিকার না পাওয়ায় উপজাতীয় জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
একটি সহযোগী জাতীয় দৈনিকের রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি জানান, রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে জুমের ফসলে বনমোরগ-মুরগির পাল ও ইঁদুরের উপদ্রবে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ইঁদুর ও বনমোরগ-মুরগির পাল জুমের পাকা ধান, মারফা, চিনারসহ বিভিন্ন ফল-ফসল নষ্ট করে চলেছে। স্থানীয়রা ইঁদুর ও মোরগ-মুরগির ব্যাপক উপদ্রবকে ‘ইঁদুর ও মুরগির বন্যা’ নাম দিয়েছে।
২০১৭ ও ২০২২ সালে ‘ইঁদুর বন্যায়’ সহস্রাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও হেডম্যানরা। মুরগি ও ইঁদুরের উপদ্রবের কারণে স্থানীয়রা আবারো খাদ্যসঙ্কটের আশঙ্কা করছেন। বাঘাইছড়ি উপজেলার ১৬৯ নম্বর শিয়ালদাহলুই মৌজার হেডম্যান জুমপুইথাঙ ত্রিপুরা বলেন, ‘ইঁদুর বন্যায় সাজেক ইউনিয়নের ৯টি ত্রিপুরাপাড়া জুমের পাকা-আধাপাকা ধান ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
সাজেকের দুর্গম শিয়ালদাহ মৌজায় ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বসবাস, যাদের জীবন একমাত্র জুম চাষের ওপর নির্ভরশীল। গত আগস্টের শেষে জুমের ধান পাকতে শুরু করে কিন্তু এর মধ্যেই রাতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইঁদুর জুমক্ষেতে গিয়ে ফসল নষ্ট করে ফেলে।
বনমোরগ-মুরগির পাল ও ইঁদুরের উপদ্রবে সাজেক ইউনিয়নের প্রায় এক হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিছু কিছু জুমে এখনো ধান পাকেনি। সেসব জুমে ইঁদুরের পাল ধান গাছের গোড়া কেটে নষ্ট করে দিয়েছে। বহু পরিবার এ বছর পাকা ধান ঘরে তুলতে পারবে না। পাকা ধানের পাশাপাশি মারফা, চিনার, তিলসহ জুমের বিভিন্ন ফসল নষ্ট করে দিচ্ছে ইঁদুর ও বনমোরগ-মুরগির পাল। সেখানে স্থানীয়দের প্রাচীন একটি বিশ্বাস প্রচলিত আছে, এসব বনমোরগ-মুরগি ও ইঁদুর নিধন করলে সেগুলো আরো দ্রুত বেড়ে যায় এবং ব্যাপক আকারে ক্ষতি করে। সে জন্য ভয়ে কেউ কিছু করে না। এ বিষয়ে, সংস্কারের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে হেডম্যানদের সহায়তায় সাধারণ এলাকাবাসীকে সচেতন করে তোলার উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। উপজাতীয়দের মধ্যে অনেক মানুষ আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছেন। তাদের সহায়তা পাওয়া যাবে নিশ্চয়ই। বনমোরগ নিধন না করে সেগুলো নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা এবং বাজারে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার মতো বিষয়গুলো তাদের বোঝানোর সুযোগ আছে কি না খতিয়ে দেখা যেতে পারে। জনগণকে সচেতন করতে এনজিও কার্যক্রম হাতে নেয়াও সম্ভব।
ওই এলাকায় ৩০০ হেক্টর এলাকায় জুমের চাষ হয়েছে। আপাতত এ পর্যন্ত ৫ শতাংশ জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। ইতোমধ্যে ৭৫ শতাংশ ধান পেকেছে। ফসল দ্রুত কেটে ফেললে ক্ষতি কিছু কমতে পারে। স্থানীয় কৃষিবিভাগ এ পরামর্শ দিয়েছে। পরামর্শ দিলে মানুষ মনে করে এটি ভালো কথা, তবে গ্রহণ করতে বাধ্য নয়। জুমচাষের ব্যাপারেও শুধু পরামর্শে কাজ হবে না। বাধ্যতামূলক কিছু করা চাই। সরকারি কর্মকর্তারা পরামর্শ দিয়েই ক্ষান্ত হন। তাতে লাভ হয় না। এ জন্য দরকার নির্দেশ ও বাস্তবায়ন।