সমসাময়িক প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে যোগ্যতা-দক্ষতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। সাধারণত শিক্ষার মাধ্যমে এটি অর্জিত হয়। মানসম্পন্ন শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে মানুষ জীবন চলার জন্য যোগ্যতা-দক্ষতা অর্জন করে থাকে। এ জন্য দরকার কর্মমুখী শিক্ষা। তাই দেখা যায়, বিশ্বের নেতৃত্বস্থানীয় রাষ্ট্রগুলো নিজ নিজ দেশের শিশুদের মানসম্পন্ন শিক্ষায় মনোযোগী ও যত্মশীল।
দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও আমরা নিজেদের উপযোগী টেকসই একটি শিক্ষাব্যবস্থা এখনো প্রণয়ন করতে সক্ষম হইনি। ফলে তীব্র প্রতিযোগিতামূলক বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় অপরাপর জাতি-গোষ্ঠীর চেয়ে পিছিয়ে পড়ছি আমরা। সেই সাথে দারিদ্র্যের কারণে শিক্ষা অর্জনে আমাদের বাধাগ্রস্ত হতে হচ্ছে। দেশে সবার জন্য শিক্ষায় কিছু কিছু কর্মসূচি হাতে নেয়া হলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় তা বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং হচ্ছে। এর সর্বশেষ দৃষ্টান্ত দেয়া যায় স্কুল ফিডিং কার্যক্রমে। দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর শিশুদের শিক্ষামুখী করতে সরকার এ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য হলো- শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা ও ঝরে পড়ার হার কমানো। যাতে দারিদ্র্যের কারণে শিশুদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত না হয়।
এই প্রকল্পে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে পাঁচ হাজার ৪৫২ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে ৯৭ শতাংশ ব্যয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে খাদ্য সরবরাহের জন্য। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রকল্পটির জন্য বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে দুই হাজার ১৬৪ কোটি টাকার বেশি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রকল্পটি শুরু করার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় পিছিয়ে গেছে এটি। সর্বশেষ চলতি মাসে চালু করার সময় নির্ধারণ করা হয়; কিন্তু টেন্ডার জটিলতায় তা আটকে আছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। প্রাথমিকভাবে দেশের আট বিভাগের ৬২ জেলার ১৫০ উপজেলার ১৯ হাজার ৪১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থী এ প্রকল্পের সুবিধাভোগী হবে। এটি চলবে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রকল্পটি সফল হলে সারা দেশের স্কুলগুলোয় পর্যায়ক্রমে মিড ডে মিল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ বা মিড ডে মিল প্রকল্পটির আওতায় স্কুল চলাকালীন শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে পাঁচ দিন পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে বনরুটি, সিদ্ধ ডিম, ইউএইচটি দুধ, ফরটিফাইড বিস্কুট এবং মৌসুমি ফল বা কলা। প্রতিদিনের এ খাদ্যতালিকা শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করবে এবং ক্ষুধার তাড়না থেকে মুক্তি দিয়ে শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়াতে সহায়তা করবে। এ ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়ার হার কমবে এবং বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে গ্রামীণ জনপদের জন্য নেয়া স্কুল ফিডিং কার্যক্রম সরকারের একটি জনমুখী কর্মসূচি বলে আমাদের কাছে মনে হয়েছে। এ প্রকল্প ঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে প্রান্তিক পরিবারের শিশুরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে। সঙ্গত কারণে শিক্ষাবান্ধব এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি গ্রহণযোগ্য নয়। তাই সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে দ্রুততম সময়ে এ প্রকল্প চালুর উদ্যোগ নিতে হবে।