চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গিয়েও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছেন। তার সর্বশেষ অপচেষ্টার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- দেশের ব্যাংক লুটকারী এস আলমের সাথে দিল্লিতে বৈঠক। ওই বৈঠকে ভারতের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন। নয়া দিগন্তের এক প্রতিবেদনে এসব ভয়ঙ্কর তথ্যের কথা জানা গেছে।
যেহেতু বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ভারত স্বাভাবিকভাবে নিজেদের স্বার্থপরিপন্থী মনে করে, তাই এটি অনুমান করা কষ্টসাধ্য নয় যে, শেখ হাসিনার সাথে দিল্লিতে এস আলমের বৈঠকের ব্যবস্থা ভারত সরকারের অনুমোদন ও তত্ত¡াবধানে হয়েছে। ভারতের আচরণ বর্তমানে এতটাই বাংলাদেশবিরোধী যে, দিল্লি ও কলকাতায় শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য অফিস খোলার সুযোগ দিয়েছে মোদি সরকার। উল্লিখিত বৈঠকে শেখ হাসিনাকে এস আলম আড়াই হাজার কোটি টাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এই অর্থ সাইফুল আলম আদানি গ্রুপে থাকা তার তিন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ থেকে দিয়েছেন। এর বাইরে বাকি দুই হাজার কোটি টাকা নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একই সাথে পলাতক এই ব্যবসায়ী ভারতে পালিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার সাথে বাংলাদেশবিরোধী একাধিক বৈঠক করেন। বিতর্কিত এই ব্যবসায়ী এত বেপরোয়া যে, মক্কাতেও পলাতক আওয়ামী নেতাদের সাথে বৈঠক করে দেশবিরোধী ছক এঁকেছেন।
এস আলমের কাছ থেকে নেয়া অর্থ নির্দিষ্ট কিছু খাতে ব্যয় করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে- প্রথমত, আন্তর্জাতিক লবি ও বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারকদের আওয়ামী লীগকে সহযোগিতা করায় ম্যানেজ করা; দ্বিতীয়ত, আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে দেশজুড়ে নাশকতা সৃষ্টি করে এমন এক অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করা, যাতে অন্তর্বর্তী সরকার বিদায় নিতে বাধ্য হয়; তৃতীয়ত, সরকারি আমলা, পুলিশ ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অর্থের বিনিময়ে নিজেদের পক্ষে নেয়া; চতুর্থত, আওয়ামী নেতাকর্মীদের জামিনের লক্ষ্যে খরচ করা। পঞ্চমত, এস আলমের সুগার রিফাইনারিসহ দেশব্যাপী বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের মাধ্যমে সরকারবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলা। এস আলমের দেয়া অর্থ গ্রহণ, বিতরণ ও ব্যবস্থাপনায় গঠিত তিনজনের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এরা হলেন- জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোহাম্মদ আলী আরাফাত ও মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।
দিল্লিতে এস আলমের সাথে শেখ হাসিনার একাধিক গোপন বৈঠক এবং বিপুল অর্থ দেয়ার ঘটনা দেশকে ফের রাজনৈতিক সঙ্কটে ঠেলে দিতে পারে। বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জনগণের অর্থ লুণ্ঠন করে বিদেশে পাচার এবং তা ফের দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার কোনো সাধারণ ব্যাপার নয়; বরং আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি। এ বিষয়ে দেশবাসীর সতর্ক দৃষ্টি ও সচেতনতা এখন অত্যন্ত জরুরি। সেই সাথে অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা, যাতে কেউ দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ না পায়।
আমরা মনে করি, অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতা বাড়িয়ে দেশবিরোধী অপশক্তির দোসরদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া। যাতে পতিত স্বৈরাচারী শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে না উঠতে পারে। কোনোভাবে যেন দেশের আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে না পারে সে দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা। তবে এ কথাও সত্যি যে, এটি শুধু সরকারের একার কাজ নয়; ফ্যাসিবাদবিরোধী সব শক্তির এ বিষয়ে সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে।