যেকোনো শহরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব পৌর কর্তৃপক্ষের। কিন্তু আমাদের দেশে অনেক পৌর কর্তৃপক্ষ শহরের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বটি যথাযথভাবে পালন করে না। এতে করে নাগরিক ভোগান্তি বাড়ে।

একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, লাকসাম-নোয়াখালী মহাসড়কের পাশে নাথেরপেটুয়া বাজার ও বিপুলাসার বাজার এলাকায় ময়লার ভাগাড় থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে মহাসড়কের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। কটু গন্ধ ছড়ানো এসব ময়লার স্তূপের পাশ দিয়ে হাজার হাজার যাত্রী, পথচারী ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা নাক চেপে যাতায়াত করছেন। ফলে তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও মিলছে না কোনো প্রতিকার।

লাকসাম-নোয়াখালী মহাসড়কের মনোহরগঞ্জ অংশের খিলাবাজার, নাথেরপেটুয়া বাজার ও বিপুলাসার বাজারের তিনটি স্থানে মহাসড়কের পাশে কাঁচাবাজারের ময়লা-আবর্জনা ও বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলায় সেখানে ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। মহাসড়কের দু’পাশে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা হোটেল-রেস্তোরাঁর বর্জ্য, পচা শাকসবজি, হাঁস-মুরগির বিষ্ঠাসহ নানা ধরনের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। আবার কোথাও কোথাও রাস্তার পিচের ওপর আবর্জনা ফেলে রাখা হয়। এসব ময়লার স্তূপে পশুপাখি ও কুকুর-বিড়াল খাবারের উচ্ছিষ্ট খাওয়ার সময় এলোপাতাড়িভাবে মহাসড়কে ছড়িয়ে পড়ছে। ময়লাগুলো ধুলোয় মিশে বাতাসে উড়ছে। বাতাসে মিশে ময়লা-আবর্জনা আশপাশের বাড়িঘর, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ছে। মনোহরগঞ্জ উপজেলার নাথেরপেটুয়া স্টেশন বাজারে দুর্গন্ধ ছড়ানো বড় ময়লার স্তূপটি এলাকাবাসীর জন্য অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছে।

শুধু কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কের পাশে নয়, দেশের নানা স্থানে মহাসড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে বাছবিচার ছাড়া। স্থানীয় পৌর কর্তৃপক্ষগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা-বিষয়ক কোনো সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম আছে কি না জানা যায় না। অথচ স্বাচ্ছন্দ্য নাগরিক জীবনের জন্য বিষয়টি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। কারণ, এসব ময়লা-আবর্জনা থেকে নানা রোগ-জীবাণু ছড়িয়ে পড়ছে; যা জনস্বাস্থ্যে মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। ময়লা-আবর্জনা এখন আর ফেলনা নয়। এগুলো থেকে জৈবসার ও বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। সুতরাং ময়লা-আবর্জনা যেখানে-সেখানে ফেলনা হিসেবে না দেখে এগুলোর পুনর্ব্যবহারে চিন্তা করতে হবে স্থানীয় পৌর কর্তৃপক্ষের।

নাগরিকরা সরকারকে কর দেন। সুতরাং দৈনন্দিন জীবনে চলাফেরায় এসব প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রশ্নের মুখোমুখি করতে চান তারা। পৌর কর্র্তৃপক্ষ কি জনগণের এসব ভোগান্তির কথা সঠিকভাবে উপলব্ধি করেন? তারা কি জনগণের প্রশ্নের জবাব দেয়ার সৎসাহস রাখেন? সব স্থানীয় পৌর কর্তৃপক্ষকে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রাখাতে মনোযোগী হতে হবে। সেই সাথে মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা বাজারের ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা এবং তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানে সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থাও থাকা জরুরি। অন্যদিকে নাগরিক সাধারণেরও দায়িত্ব ময়লা-আবর্জনা যথাস্থানে ফেলা। জনগণের এ দায়িত্বানুভূতি জাগ্রত করতে পৌর কর্তৃপক্ষের সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।

আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ লাকসাম-নোয়াখালী মহাসড়কের ময়লার ভাগাড় দ্রুত সরিয়ে স্থানটি দিয়ে পথচারী চলাচলের সুনির্মল পরিবেশ সৃষ্টি করবে।