সময় এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার। পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই। এগিয়ে যাওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতাগুলো দ্রুত দূর করা দরকার। উন্নয়নের এ যুগে একটি সেতু নির্মাণকাজে মাত্রাতিরিক্ত সময়ক্ষেপণে মানুষ কষ্ট পাবেন; তা মেনে নেয়া যায় না। অথচ বরগুনার আমতলীতে তাই হচ্ছে।
একটি পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, বরগুনার আমতলীতে ছয় বছরেও শেষ হয়নি সেতুর নির্মাণকাজ। এ কারণে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ মানুষ। উপজেলার আঠারগাছিয়া ইউনিয়নের গাজীপুর খালের ওপর সোয়া চার কোটি টাকার সেতুর কাজ ১৯ মাসের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু সেতুর কাজ চলছে ধীরগতিতে। আর প্রকল্প ব্যয়ের বেশির ভাগ টাকা তুলে নিয়েছেন ঠিকাদার।
গাজীপুর বন্দর মাদরাসার পূর্বপাশে গাজীপুর খালের ওপর ২০১৯ সালে চার কোটি ২৩ লাখ ৭৯ হাজার টাকা ব্যয়ে ৪৮ মিটার দৈর্ঘ্য ও সাড়ে সাত মিটার প্রস্থের একটি গার্ডার সেতু নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করে এলজিইডি কার্যালয়। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কাজটি পায় পটুয়াখালীর মেসার্স আবুল কালাম আজাদ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক আবুল কালাম আজাদ কাজটি বিক্রি করেন পটুয়াখালীর আরেক ঠিকাদার তানভীর আহম্মেদ দিপু নামে একজনের কাছে। কাজটির নির্মাণ সময় ধরা হয় ১ জানুয়ারি ২০১৯ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ সাল পর্যন্ত। ১৯ মাসে কাজটি শেষ করার কথা থাকলেও ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে ছয় বছরেও তা শেষ হয়নি। কাজটির ধীরগতির কারণে এ পর্যন্ত দুই দফা সময় বাড়িয়েছেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুনে কাজ শেষ করার কথা ছিল। এরপর তিনি আর সময় না বাড়িয়ে কাজটি ফেলে রাখেন।
কাজটি ফেলে রাখায় বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ঠিকাদারকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া হয়। নোটিশে সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়ে কাজ শুরু করতে বলা হয়। এরপর ঠিকাদার মাত্র কয়েকজন শ্রমিক দিয়ে কাজ চালু রেখেছেন। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদার প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ করে বরাদ্দের দুই কোটি ৮৯ লাখ ৮৭ হাজার টাকা তুলে নেন।
আমরা প্রায়ই লক্ষ করছি, স্থানীয় পর্যায়ে এসব সেতু নির্মাণে যিনি কাজ পান, পরবর্তীতে ওই কাজ তিনি নিজে না করে অন্য কোনো ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করে দেন। এতে করে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের এক ধরনের শৈথিল্য দেখান। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে ঠিকাদারদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এসব বিষয় স্থানীয় প্রকৌশল অধিদফতরকে দেখতে হবে।
কোনো কাজ দীর্ঘসূত্রতায় পড়লে তাকে আঠারো মাসে বছর বলা হয়। আমতলীর সেতু নির্মাণে আঠারো মাসে বছরের হিসাব কাম্য নয়। আমরা স্থানীয় প্রকৌশল অধিদফতরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, অবিলম্বে আমতলী সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।