৮০ বছর ধরে নির্যাতিত ফিলিস্তিনিরা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা থেকে মরিয়া হামলা চালিয়েছিল ইসরাইলে। হাজারখানেক লোককে হত্যা ও বেশ কিছু ইসরাইলিকে অপহরণ করে তারা। সে দিন থেকে নির্বিচারে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। হাজার হাজার টন বোমা ফেলে, সব রকম মারণাস্ত্রের সাহায্যে পুরো গাজা এলাকা মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে ইসরাইলি সশস্ত্রবাহিনী। গত ১৬ মাসের বিরতিহীন হামলায় হত্যা করেছে ৫০ সহস্রাধিক ফিলিস্তিনিকে। আহত লক্ষাধিক। তবে এ হিসাব চূড়ান্ত নয়। নিরপেক্ষ বেসরকারি সূত্রে হতাহতের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি।

বিভিন্ন পক্ষের উদ্যোগ ও মধ্যস্থতায় গত ১৯ জানুয়ারি গাজার মুক্তিকামী সংগঠন হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। উল্লসিত ফিলিস্তিনিরা নিজেদের ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘরবাড়িতে ফিরে তাঁবু খাটিয়ে বসবাস করতে শুরু করেন। জাতিসঙ্ঘ ও অন্যান্য দেশের সহায়তায় ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হয়।

কিন্তু যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনা যখন শুরু হবে ঠিক তখন যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গত ১৮ মার্চ নতুন করে হামলা তীব্র করে ইসরাইল। তারা আগেও কোনো আন্তর্জাতিক আইন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি, জাতিসঙ্ঘ বা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বান কোনো কিছুর তোয়াক্কা করেনি। এখনো করছে না। যুদ্ধরত হামাসের বিরুদ্ধে শুধু নয় তারা পুরো বেসামরিক স্থাপনা, হাসপাতাল এমনকি বাস্তুচ্যুত মানুষের তাঁবু শিবিরেও হামলা চালাচ্ছে। গত রোববার ফিলিস্তিনিরা যখন খেয়ে বা না খেয়ে রোজার নিয়ত করে ফজরের নামাজ পড়তে যাচ্ছেন ঠিক সেই সময় রাফাহ এবং খান ইউনিসের কয়েকটি বাস্তুচ্যুত শিবিরে ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় ইসরাইলি বিমান। দু’টি শহর প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। এর চেয়ে বীভৎস নারকীয় হত্যাযজ্ঞ কোনো মানুষ করতে পারে না।

ইসরাইলের মূল শক্তির জায়গা যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রত্যক্ষ মদদে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। সব দিক থেকে অবরুদ্ধ গাজায় পাখির মতো গুলি করে ফিলিস্তিনিদের হত্যা করা তার নেশায় পরিণত হয়েছে। কিন্তু যে আন্তর্জাতিক বিশ্ব উইক্রেনে একজন মানুষ নিহত হলে অস্থির হয়ে পড়ছে, শান্তি স্থাপনে আক্রান্ত ইউক্রেনকে বাধ্য করছে, সেই আন্তর্জাতিক বিশ্ব গাজা তথা ফিলিস্তিনিদের ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়। এমনকি ফিলিস্তিনিদের স্বধর্মীয় ও স্বজাতির আরব দেশগুলোও এ নিয়ে ভাবতে নারাজ। প্রধান আরব শক্তি সৌদি আরব ইউক্রেন-রাশিয়ার শান্তি আলোচনার আয়োজনে ব্যস্ত। জর্দান প্রস্তাব করেছে গাজা থেকে হামাস সদস্যদের নির্বাসনে পাঠানোর। মিসর পাঁচ লাখ গাজাবাসীকে আশ্রয় দিতে প্রস্তুত। এসব ঘোষণা যদি বাস্তবে কার্যকর হয়; তাহলে গাজায় ফিলিস্তিনিদের আর অস্তিত্ব থাকবে না। নেতানিয়াহুর লক্ষ্য পূরণ হবে। তার লক্ষ্য হামাসকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা। পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সরকারও হামাসকে সরে যাওয়ার দাবি জানিয়েছে। কিন্তু ইসরাইল পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের দিয়ে ইচ্ছেমতো জায়গা দখল করাচ্ছে। হামাস ধ্বংস হলে ইসরাইল পশ্চিম তীরও একইভাবে গ্রাস করবে। মাহমুদ আব্বাস সে বিষয়ে সচেতন বলে মনে হয় না।

ইসরাইল গাজা দখলে আরো সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা মুসলিম উম্মাহ জাতিগত নিধনের শিকার ফিলিস্তিনিদের জন্য দোয়া ছাড়া আর কী-ই বা করতে পারি!