রাজধানীতে সন্ত্রাসী চক্রের তৎপরতার অভিযোগ সাম্প্রতিক সময়ে প্রায়ই সামনে আসছে। বলা হচ্ছে, রাজধানীর অপরাধ জগতে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা আবার সক্রিয় হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় অবাধে চলছে চাঁদাবাজি। অনেক ক্ষেত্রে তা করা হচ্ছে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম ভাঙ্গিয়ে।

গত দুই বছরে বেশ কিছু শীর্ষ সন্ত্রাসী জামিনে মুক্তি পেয়েছে। তবে এখন সরাসরি অস্ত্র উঁচিয়ে চাঁদার রেওয়াজ নেই। পলাতক সন্ত্রাসীরা কেউ বিদেশ থেকে ফোনে বা ইন্টারনেটে তাদের বাহিনী পরিচালনা করছে। ইন্টারনেটে নির্দেশ পাঠিয়ে দেশে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করছে। কেউবা দেশে আত্মগোপনে থেকে সহযোগীদের দিয়ে চাঁদার নেটওয়ার্ক সক্রিয় রেখেছে। এভাবে ফুটপাথের সাধারণ ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ট্রাক টার্মিনাল, ছোট বড় মার্কেট, ঠিকাদারি ব্যবসায় থেকে চাঁদা আদায় করা হয়, চলে অবৈধ জমি দখল। এসবের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতা থেকেও ঘটে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।

এ বিষয়ে গণমাধ্যমে রিপোর্ট হলেও আইনশৃক্সক্ষলা বাহিনীর জোরালো ভূমিকা দেখা যায় না। পুলিশের বিরুদ্ধেও চাঁদার ভাগ নেয়ার অভিযোগ আছে। ফলে ভুক্তভোগীরা উভয় সঙ্কটে পড়ে আতঙ্কিত ও সন্ত্রস্ত থাকেন। বৈষয়িক ক্ষতি মেনে নিয়েও তা চেপে যান। থানায় অভিযোগ করেন না।

ক্ষমতাসীনরা প্রায়ই সন্ত্রাস চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের ঘোষণা দেন। সে অঙ্গীকার কথার কথা হিসেবে থেকে যায়, বাস্তবে কার্যকর হয় না। চব্বিশের পটপরিবর্তনের পর সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়ার যে আশাবাদের সঞ্চার হয়েছিল তা এখন নিরাশার অন্ধকারে ডুবে গেছে। বিএনপির নতুন সরকার এই বিষয়ে এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। দলটি সম্পর্কে চাঁদাবাজির অভিযোগ এখন চাপা পড়ে আছে। তারপরও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের ঘটনা প্রায়ই প্রকাশ্যে আসে। খুনাখুনির ঘটনাও একেবারে বিরল নয়।

আইনশৃঙ্খলার অবনতির পেছনে নাশকতা বা বাইরের মদদে অন্তর্ঘাত সৃষ্টির আলামত আছে। ফলে পুলিশকে সন্ত্রাসীদের ওপর নজরদারির পাশাপাশি অন্তর্ঘাতী শক্তির ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে হবে। দেশের বাইরে থেকে যারা দেশে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে তাদের ইন্টারপোলের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনতে হবে। সরকার পুলিশের সাবেক আইজি, অসংখ্য অপরাধের হোতা বেনজীরকে এখনো দেশে ফেরাতে পারেনি।

পতিত স্বৈরাচারের দোসর ও সুবিধাভোগীরা এখন সামনে আসতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। সময়মতো সতর্ক না হলে পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। সরকারের উচিত বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় রাখা। তা না হলে কোনো উন্নয়ন প্রচেষ্টা সফলতার মুখ দেখবে না। সমাজে অস্থিরতা নিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বা সামাজিক শান্তি কোনোটা অর্জন করা সম্ভব নয়।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে অভিযোগ করা হয় যে, স্বয়ং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজ জেলা দিয়ে দেশের ভেতরে মাদক পাচার হচ্ছে। কিন্তু ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এমতাবস্থায় আশাবাদের জায়গাটা সত্যিই সঙ্কুচিত হয়ে আসে।

দেশবাসী আশা করেন, কোনো সন্ত্রাসী চক্র যেন অস্থিরতা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে। সেই সাথে সন্ত্রাসীদের অপতৎপরতা অঙ্কুরে বিনষ্ট করা হবে।