এবার ঈদযাত্রায় বড় বড় শহর থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ ছুটি কাটাতে গ্রামে গেলেও তাদের মধ্যে একধরনের স্বস্তি ছিল। এবার ঈদে বড় দুর্ঘটনা ঘটেনি। সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির পাশাপাশি সড়ক ব্যবস্থাপনায় আগাম কিছু পদক্ষেপ নেয়ায় মহাসড়কে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। নৌপথেও নিরাপদে মানুষ বাড়ি ফিরেছেন। তবে সব মিলিয়ে নিরাপদ সড়ক আমরা পেয়েছি এমন বলা যাবে না। বিগত ঈদের মৌসুমে সড়কে অস্বাভাবিক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ছিল। এবারে মোটরসাইকেলের বেপরোয়া চলাচল দেখা গেছে। সাথে যুক্ত হয়েছে ব্যাটারিচালিত যানবাহন।

মহাসড়কে ঈদের ঠিক আগে-পরে বড় দুর্ঘটনা আমাদের দেশে সাধারণ ঘটনা। হাসপাতালের রেকর্ডে এর কারণ হিসেবে বাস-ট্রাকসহ অন্যান্য বড় যানবাহনকে উল্লেখ করা হয়। লক্ষণীয়, এখন মাঝারি ও ছোট যান বেশি দুর্ঘটনাপ্রবণ হয়ে উঠেছে; বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত বাহন। এ জন্য হাসপাতালে রোগী নিবন্ধন খাতায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, এবার সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত যানে সমসংখ্যক দুর্ঘটনা ঘটেছে।

সহযোগী একটি দৈনিক ঈদের ছুটির চার দিন রাজধানী এবং আটটি বিভাগীয় শহরে বিশেষায়িত আটটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া সড়ক দুর্ঘটনার রোগীদের তথ্য বিশ্লেষণে দেখেছে, এবারের দুর্ঘটনার ৩২ দশমিক ১৭ শতাংশ মোটরসাইকেল এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ৩২ দশমিক ১০ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত যান সমানভাবে দায়ী। চার চাকার যান ১০ দশমিক ১১ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনায় দায়ী। তবে ২৫ দশমিক ৫০ শতাংশ আহত রোগীর দুর্ঘটনার কারণ নিবন্ধন খাতায় উল্লেখ করা হয়নি।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন বলছে, গত বছরের ঈদের সময় সড়ক দুর্ঘটনার ৫১ দশমিক ৩৬ শতাংশের জন্য মোটরসাইকেল দায়ী।

আমাদের দেশে মহাসড়ক ব্যবস্থাপনায় হাইওয়ে পুলিশ নামে একটি বিভাগ রয়েছে। বিগত বছরগুলোতে ঈদের সময় তাদের লক্ষ্য থাকত উপরি কামাইয়ে দিকে। ফলে ঈদ মৌসুমে সড়কে বিশৃঙ্খলা বাড়ত; কিন্তু এ বছর পুলিশের সে ধরনের চাঁদাবাজি দেখা যায়নি। তবে সড়কে ব্যাটারিচালিত যানের উৎপাত বেড়েছে। সারা দেশের সড়ক-মহাসড়কে এসব ক্ষুদ্র যান ঝুঁকি নিয়ে বেপরোয়া গতিতে ছুটছে। মহাসড়কে এগুলো নিষিদ্ধ হলেও তা মানা হচ্ছে না। তাই মোটরসাইকেলের সাথে পাল্লা দিয়ে চলাচল করা এসব যানের যাত্রী ও পথচারীরা দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছেন।

ব্যাটারিচালিত যান চলাচলের আগে থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ একটি দেশ। এখন রাজধানী ঢাকা, বিভাগীয় শহর এমনকি দেশের আনাচ-কানাচ বিদ্যুৎচালিত যানবাহনে ছেয়ে গেছে। যেহেতু এগুলো চালানোর জন্য কেউ রুট পারমিট নেন না। এমনকি কোনো প্রশিক্ষিত চালক চালান না। তাই যে কেউ ক্ষুদ্র এই যান রাস্তায় নামাতে পারছেন। অন্য দিক পায়ে চালানো রিকশার চেয়ে এগুলো অনেক বেশি গতিসম্পন্ন। ফলে যেখানে সেখানে দুর্র্ঘটনায় পতিত হচ্ছে। এ কারণে মাঝারি ও ছোট দুর্ঘটনা বেড়ে গেছে।

আমরা মনে করি, একটি নিয়ম করে ব্যাটারিচালিত যান চলাচলের মধ্যে আনতে হবে, না হলে সামনের দিনগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনা আরো বাড়বে বৈ কমবে না। সেই সাথে সড়কে তৈরি হবে বিশৃঙ্খলা।