চট্টগ্রামের আনোয়ারায় একটি সড়ক পাকা করার লক্ষ্যে মাটি খুঁড়ে দুই বছর ধরে ফেলে রেখেছেন ঠিকাদার। মাটি খুঁড়ে রাখায় বর্ষা মৌসুমে পানি জমে সড়কটি এখন একরকম খালে পরিণত হয়েছে। ফলে এই সড়ক দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যানবাহন চলাচলসহ মানুষের যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। ‘উন্নয়নের আশ্বাসে’ শুরু হওয়া এই প্রকল্প প্রতিনিয়ত জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে যাতায়াতে এ সড়কের ওপর নির্ভরশীল বিভিন্ন গ্রামের মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের উত্তর সরেঙ্গা-ফকিরপাড়া আবদুচ ছমদ শাহ সড়ক এটি।

একটি সহযোগী দৈনিক খবরে জানা যাচ্ছে, ২০২৩ সালে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের আবদুচ ছমদ শাহ সড়কটি পাকা করার কাজ শুরু হয়। সড়কের মাঝখানে বালু ভরাটের উদ্দেশ্যে মাটি কেটে সড়কটির দুই পাশে ফেলে রাখা হয়েছে। দুই বছর ধরে মাটি খুঁড়ে ফেলে রাখা সড়কটি বৃষ্টির পানিতে কর্দমাক্ত হয়ে যায়। এখন দেখে বোঝার উপায়ই নেই, এটি সড়ক নাকি খাল। এর পরও চলাচলের অনুপযোগী এই সড়ক দিয়ে অনেক কষ্টে যাতায়াত করছে মানুষ। উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ ২০২২-২৩ অর্থবছরে সড়কের কাজ দেয় স্থানীয় ঠিকাদার মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে। এই সড়কের ২ দশমিক ৮৮ কিলোমিটার অংশ কার্পেটিং হওয়ার কথা। সড়কটি নির্মাণে বরাদ্দ দেয়া হয় এক কোটি ২৩ লাখ টাকা। ওই বছরই কার্যাদেশ পেয়ে সড়কটির ৮৫০ মিটার অংশের কার্পেটিং সম্পন্ন করেন ঠিকাদার। বাকি ১ দশমিক ২৩৮ কিলোমিটার সড়কের মাটি খুঁড়ে বিভিন্ন সমস্যা দেখিয়ে কাজ বন্ধ রেখেছেন।

উপজেলার সরেঙ্গা ও ফকিরপাড়ার বাসিন্দাদের চলাচলের একমাত্র সড়ক এটি। এ সড়ক দিয়ে কৃষক ফসল আনা-নেয়া করেন। কিন্তু দুই বছর ধরে এই সড়ক সংস্কারের নামে খুঁড়ে ফেলে রাখায় কৃষকরা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, এলাকার শিক্ষার্থী, রোগী, নারী ও বৃদ্ধদের চলাচলে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সড়কটি। বৃষ্টি হলে স্কুলে যাওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের খুব কষ্ট হয়। মাঝে মধ্যে পা পিছলে পড়ে যায়। স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এই সড়ক দিয়ে গ্রামের শতাধিক শিক্ষার্থী চলাচল করে। এটি দুই গ্রামের একমাত্র সড়ক। ঠিকাদারের এমন অবহেলায় কয়েক হাজার বাসিন্দাকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঠিকাদারকে কাজ করতে বললে তার ক্ষমতা দেখায়। এ দিকে ঠিকাদার মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, বৃষ্টির কারণে কাজ করতে পারছি না। উপজেলা প্রকৌশলী জানান, কোরবানি ঈদের পর ওই সড়কের কাজ শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদার তা করেননি। দ্রুত কাজটি শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে বলা হয়েছে।

সরকারি রাস্তায় কোনো বাধা থাকতে পারে না। কিন্তু চট্টগ্রামের আনোয়ারায় তাই হলো। আমরা আশা করি, কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে।