সব কিছুর এখন ভার্চুয়াল বাস্তবতায় রূপান্তর ঘটছে। ডাক্তার এবং ওষুধও এখন অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে। দুইপক্ষের যোগাযোগকে একেবারে সহজ করে দিয়েছে এ জগৎ। এর নেতিবাচক বা ক্ষতিকর দিকটিও আছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা একে কাজে লাগিয়ে দেদার অর্থ কামিয়ে নিচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে এটি বড় আকারে জনস্বার্থের বিপক্ষে যাচ্ছে। ওষুদের বেচাবিক্রিতে এর অপব্যবহার হচ্ছে। একটি সহযোগী দৈনিকের প্রতিবেদনে রোগীরা কিভাবে অনলাইনে ফাঁদে পড়ছেন; তার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। অন্য দিকে ওষুধ প্রশাসন কিংবা সরকারের এ ব্যাপারে কার্যকর নজরদারি নেই। ফলে অসাধু চক্র অনলাইনে সহজে প্রতারণা চালাতে পারছে।
অনলাইনে অনেকে নিজেদের ডাক্তার পরিচয় দিচ্ছেন। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি ছাড়া জটিল কঠিন রোগের বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিজেদের তুলে ধরছেন। আবার ওষুধের বিজ্ঞাপন নিয়ে আসা হচ্ছে। এক ডোজে রোগ সেরে যাবে এমন প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। কথিত ডাক্তাররা মূলত পরামর্শের নামে নির্ধারিত ব্র্যান্ডের ওষুধ ও নানা ওষুধি পণ্য বিক্রি করেন। এ ক্ষেত্রে হৃদরোগ, কিডনিরোগসহ যাবতীয় জটিল রোগের বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিজেদের জাহির করেন তারা। নানা রোগের সমাধান হিসেবে বিদেশী ওষুধ, ফুড সাপ্লিমেন্ট ও কসমেটিক অনলাইনে বিক্রি করেন। এর সাথে ভেষজ, হার্বাল, আয়ুর্বেদিক, ইউনানি ডাক্তার এবং ওষুধও রয়েছে অনলাইনে।
একেবারে নতুন ওষুধও বাজারজাত করেন। যেগুলোর আগে নামও শোনা যায়নি। ঘরে ওষুধ তৈরি করা হচ্ছে। অনিয়ন্ত্রিত মাত্রা ও পরিমাণে উপাদান মেশাচ্ছেন। যেগুলো মানবদেহের জন্য সহনশীল কি না সেটি যাচাই করা হয়নি। আছে নানা নামে বিদেশী ওষুধ, যেগুলোর ব্যবহারবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে না। ওষুধ সংরক্ষণের যেসব নিয়ম তা মানা হচ্ছে না। মেয়াদের বিষয়টি তাদের ধর্তব্যের মধ্যে নেই। ফলে রোগ দূর হওয়ার বদলে জটিলতা বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা থাকে।
যাচাইহীন এসব ওষুধের চটকদার বিজ্ঞাপনের জন্য অসংখ্য পেজ খোলা হয়েছে। মোটা হওয়া এবং ত্বক ফর্সা করার ওষুধের জন্য ক্রেতারা অনলাইনে বিজ্ঞাপনের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হন। মোটা হওয়ার ওষুধে অতিরিক্ত মাত্রায় স্টেরয়েড ব্যবহার করা হচ্ছে। যেগুলোর ব্যবহারে কিডনি দ্রুত আক্রান্ত হচ্ছে। এমনিতেই বাংলাদেশে কিডনি রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক বাড়ছে। ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে অতিরিক্ত স্যালিসাইলিক অ্যাসিড ব্যবহারে সেগুলো চামড়ার জন্য হয়ে উঠতে পারে ক্ষতিকর। বহু অসুখের সহজ সমাধান দিয়ে দেয়া হচ্ছে অনলাইন পেজগুলোতে। এমনকি ক্যান্সার, আলসারসহ কঠিন রোগে আরোগ্য পেতে অনলাইনে এই অসাধু ডাক্তার ও ওষুধ বিক্রেতা চক্র ফাঁদ পেতে বসে আছে।
সনদ ছাড়া ডাক্তারি করা আইনত দণ্ডনীয়। অনলাইনে যারা অসংখ্য পেজ খুলে ডাক্তার সেজে পরামর্শ দিচ্ছেন তারা রোগ সারানোর বদলে পরিস্থিতি জটিল করার কারণ হতে পারেন। একইভাবে ভেজাল, নকল ও মানহীন ওষুধে সয়লাব করে দেয়া হচ্ছে অনলাইনে সহজ প্রচারণার সুযোগ নিয়ে। যেখানে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের অনুমোদন আছে কি না তার নিশ্চয়তা নেই। এগুলো সাইবার অপরাধের আওতায় পড়ার কথা থাকলেও সেভাবে পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে দেশের মানুষ বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বেন।