চরফ্যাসনে টিউবওয়েলে উঠছে না সুপেয় পানি, ১২ হাজার নলকূপ অকেজো
Printed Edition
কামরুজ্জামান চরফ্যাশন (ভোলা)
দ্বীপজেলা ভোলার বৃহত্তম উপজেলা চরফ্যাসন উপজেলাজুড়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে সুপেয় পানির সঙ্কট। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় পৌর শহরসহ ২১টি ইউনিয়নের বিপুলসংখ্যক গভীর নলকূপে পানি উঠছে না। ফলে কয়েক লাখ মানুষ পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, সরকারি উদ্যোগে স্থাপিত প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার গভীর নলকূপের একটি বড় অংশ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। সরকারি হিসাবে ৯ হাজার ৮৫১টি নলকূপ সচল থাকলেও প্রায় আড়াই হাজার সরকারি নলকূপ অকেজো। এর বাইরে ব্যক্তি মালিকানাধীন লক্ষাধিক নলকূপের মধ্যে অন্তত ৪০ হাজারের বেশি নলকূপে বর্তমানে পানি উঠছে না। সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় অর্ধলক্ষ গভীর নলকূপে দেখা দিয়েছে পানিশূন্যতা।
সরেজমিন দেখা গেছে, অনেক বাড়ির নলকূপে দীর্ঘ সময় চাপ দিয়েও পানি মিলছে না। কোথাও অল্প পানি উঠলেও তা ঘোলা কিংবা লবণাক্ত। ফলে বাসিন্দাদের অনেকে বাধ্য হয়ে পুকুর, খাল ও ডোবার পানি ব্যবহার করছেন। তবে শুষ্ক মৌসুমে এসব জলাশয়ের পানি নোংরা ও দূষিত হয়ে পড়েছে। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, ডায়রিয়া ও আমাশয়সহ পানিবাহিত রোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে শিশু-কিশোররা ঝুঁকিতে রয়েছে।
চেয়ারম্যান বাজারের পল্লী চিকিৎসক মো: জাকির হোসেন ফিরোজ বলেন, সম্প্রতি চেয়ারম্যান বাজার জামে মসজিদে পানির সাপ্লাই না থাকায় মুসল্লিদের অজু করতে সমস্যা হয়েছে। চরফ্যাশন পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ব্যবসায়ী হানিফ বলেন, তাদের বাড়ির নলকূপে ঠিকমতো পানি উঠছে না। এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়িতে গিয়ে পানি আনতে হচ্ছে। তিনি বলেন, খাল খনন করে মিঠাপানির উৎস বাড়াতে হবে, না হলে গভীর নলকূপ স্থাপনে নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে।
চরমানিকা ইউনিয়নের সাইফুল হাওলাদার অভিযোগ করেন, ইরি ধান ও তরমুজ চাষে সাবমার্সিবল পাম্পের অতিরিক্ত ব্যবহার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নামিয়ে দিচ্ছে। চরমাদ্রাজ ইউনিয়নের মো: জহিরুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত নলকূপ স্থাপনের ফলে অনেক এলাকায় পানি উঠছে না। সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
জাহানপুর ইউনিয়নের নুরুল ইসলাম হাওলাদার জানান, প্রায় ৩০ বছর ধরে টিউবওয়েলের পানি ব্যবহার করলেও গত তিন মাস ধরে অধিকাংশ নলকূপে পানি উঠছে না। কয়েকটি নলকূপে অল্প পানি মিললেও তা দিয়ে পুরো এলাকার চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের সহকারী প্রকৌশলী কামাল হোসেন বলেন, গত কয়েক বছর ধরে শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর প্রতিবছর গড়ে প্রায় দুই ফুট করে নিচে নামছে। অপরিকল্পিতভাবে খাল-পুকুর-জলাশয় ভরাট, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং সেচকাজে গভীর নলকূপের ব্যবহার এ সঙ্কটকে তীব্র করেছে। তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুম শুরু না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির সম্ভাবনা কম।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লোকমান হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরের সাথে আলোচনা করা হবে। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।