শান্তিপূর্ণ দশমিনায় নৈরাজ্য সৃষ্টি ও বিএনপি নেতা লেলিন মেম্বারের ওপর সন্ত্রাসী হামলাকারী দুর্বৃত্ত এবং এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা না হলে থানা ঘেরাওয়ের হুমকি দিয়েছেন উপজেলা শ্রমিক অধিকারের আহ্বায়ক মো: ইলিয়াস হোসেন রাকিব।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সচেতন নাগরিক সমাজের আয়োজনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনে এ হুমকি দেন তিনি।

এ সময় মানববন্ধনে বক্তারা আরো বলেন, বর্তমানে রাষ্ট্রক্ষমতায় বিএনপি কিন্তু তাদের বাহুবলের ক্ষমতায় মাদক, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট হবে এবং তাদের দ্বারা কিছু বিএনপি নেতা হামলার শিকার হবেন—এটা আমরা কল্পনাও করতে পারি নাই। তাই আমরা প্রশাসনকে বলতে চাই, দশমিনা উপজেলার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা না হলে আমরা আরো কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে থানা ঘেরাও করতে বাধ্য হব।

দশমিনা উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি কে এম ইমরান শাহিন ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, ‘৫ আগস্টের পরবর্তী বাংলাদেশ যেখানে মানুষ শান্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সকল কার্যক্রম করার কথা ছিল, সেখানে কিছু চাঁদাবাজ, দখলবাজ, মাদক কারবারি হয়ে সাধারণ মানুষের মনে অশান্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি করছে। ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে সাধারণ জনগণ তার জবাব দিয়েছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পরবর্তী সময় মানুষ দল-মত নির্বিশেষে শান্তিতে বসবাস এবং ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সকল কাজে সুন্দর পরিবেশ পেয়েছেন। এই সুন্দর পরিবেশ বিঘ্ন করার জন্য কিছু সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারামারি-হানাহানি কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছেন। আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, অনতিবিলম্বে সকল মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।’

দশমিনায় যদি কেউ অশান্তির চেষ্টা করে, সুশীল সমাজ আপনাদের বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেবে না। ইদানিং ভিউ ব্যবসায়ী ইলিয়াস আলী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে অপপ্রচার চালাচ্ছেন, আমরা সকল অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

আমরা পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা)-এর অভিভাবক প্রতিমন্ত্রী মহোদয় মো: নুরুল হকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, মানুষ আপনাকে ভোট দিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে সকল ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সুন্দরভাবে শান্তিতে বসবাস করতেছে। এই পরিবেশ বজায় রাখার জন্য আপনার জায়গা থেকে আপনি সর্বোচ্চ শক্ত অবস্থান গ্রহণ করবেন। দশমিনার সাধারণ জনগণ আপনার সাথে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জুয়েল আমিন, উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি আফজাল হোসেন, দেলোয়ার পঞ্চায়েত, সাংগঠনিক সম্পাদক মাতুব্বর ও উপজেলা বিএনপি এবং গণঅধিকার পরিষদের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীসহ উপজেলা সচেতন নাগরিক সমাজ।

এর আগে চলতি মাসের ২৪ আগস্ট রাত দেড়টার দিকে ২ নম্বর আলিপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ও ওই ইউনিয়নের বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো: লেলিনের ওপর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা যুবদলের সমর্থক তালহা তুহিনের সাথে তুচ্ছ কথা কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি হলে একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরপর ওই হামলায় লেলিন আহত হন। পরে ঘটনার কথা শুনতে পেয়ে স্থানীয় গণঅধিকার ও বিএনপি নেতারা গিয়ে উদ্ধার করে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠান।

এরপরে লেলিনের পক্ষ থেকে মোসাম্মৎ আসমা বেগম ৬ জনকে আসামি ও ১০ জনের অধিক অজ্ঞাতনামা আসামি করে দশমিনা থানায় একটি এজাহার দাখিল করেন।

এদিকে দশমিনা থানা ঘেরাও করার বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আতিকুল ইসলাম জানান, ইতিমধ্যে ওই মামলার একজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে, বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে।