জাতীয় নির্বাচনের আগে শাকসু ভোট আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রার্থীদের উদ্বেগ
Printed Edition
শাবিপ্রবি প্রতিনিধি
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২০ জানুয়ারি। এর মাত্র তিন সপ্তাহ পর, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সময়ের এই নৈকট্যকে কেন্দ্র করে শাকসু নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন একাধিক প্রার্থী।
প্রার্থীদের মতে, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় এর প্রভাব ক্যাম্পাসেও পড়তে পারে। বিশেষ করে প্রচারণা, পোস্টার লাগানো, ভোটের দিন নিরাপত্তা এবং বহিরাগত প্রভাব নিয়ে তারা শঙ্কিত।
কমপক্ষে ১০ জন প্রার্থী একযোগে জানান, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যস্ত থাকবেন। ফলে শাকসু নির্বাচনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে কি না, তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘেœ ও নিরাপদ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে জন্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি প্রয়োজন।
স্বতন্ত্র প্যানেলের জিএস পদপ্রার্থী হাফিজুর ইসলাম হাফিজ বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মাত্র ২১ দিন আগে শাকসু নির্বাচন হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই শঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক উত্তাপ, মতাদর্শিক মেরুকরণ ও বহিরাগত প্রভাবের আশঙ্কা থাকায় এর প্রভাব ক্যাম্পাসে পড়তে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদপ্রার্থী জেরিন বলেন, জাতীয় নির্বাচনের সময়ে সারা দেশেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সংবেদনশীল থাকে। এ অবস্থায় নারী প্রার্থী ও নারী ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। ভোটকেন্দ্রে যাতায়াত ও ভোট প্রদানের সময় কোনো ধরনের হয়রানি বা ভীতি প্রদর্শন যেন নারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা না হয়, তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাকসু নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. আবুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেছ বলেন, ভোটগ্রহণ সম্পূর্ণভাবে ক্যাম্পাসের ভেতরে অ্যাকাডেমিক ভবনগুলোতে অনুষ্ঠিত হবে- ফলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা তুলনামূলক সহজ হবে। তবে যেকোনো অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, ভোটের দিন ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে দায়িত্বে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও আশ্বস্ত করেছে যে, শাকসু নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেয়া হবে।