উপকূলীয় নারীদের জন্য জলবায়ু সহনশীল জীবিকা নির্দেশিকা অনুমোদন
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত ও লবণাক্ততার কারণে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের নারীরা যে বহুমুখী সঙ্কটের মুখে পড়ছেন, তা মোকাবেলায় সমন্বিত জীবিকা পরিকল্পনা ও নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘রেজিলিয়েন্ট ফিউচারস : জেন্ডার-সংবেদনশীল জীবিকা উপকরণ ও জলবায়ু পথরেখা’ বিষয়ক ভ্যালিডেশন কর্মশালায় এসব নির্দেশিকা উপস্থাপন ও চূড়ান্ত করা হয়।
মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে মহিলা বিষয়ক অধিদফতর (ডিডব্লিউএ) এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর (ডিপিএইচই) যৌথভাবে খুলনা ও সাতক্ষীরার পাঁচটি উপজেলায় ‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত লবণাক্ততা মোকাবেলায় উপকূলীয় জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারীদের অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ প্রকল্পের আওতায় ‘ইনস্টিটিউট অব প্রফেশনাল ট্রেইনিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট’ (আইপিটিএম) কর্মশালার আয়োজন করে। এতে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে ইউএনডিপি এবং অর্থায়ন করছে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ) ও বাংলাদেশ সরকার।
কর্মশালায় জানানো হয়, উপকূলীয় নারীদের স্বাবলম্বী করতে প্রশিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ পাঠ্যক্রম (টিওটি), পরিস্থিতিভিত্তিক জেন্ডার-সংবেদনশীল জীবিকা পরিকল্পনা টুলকিট এবং ২০৫০ সাল পর্যন্ত সম্ভাব্য জলবায়ু প্রভাবের পূর্বাভাস সংবলিত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের অংশীজনরা এসব উপকরণের ওপর মতামত প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) জিনাত আরা বলেন, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর অভিযোজন সক্ষমতা বাড়ানো সরকারের অগ্রাধিকার। অনুমোদিত উপকরণগুলো উপকূলীয় নারীদের প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকা এবং ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ইউএনডিপির রেজিলিয়েন্স ও ইনক্লুসিভ গ্রোথ ক্লাস্টারের প্রধান সরদার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, জলবায়ু অভিযোজন প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে, এ প্রকল্প তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের অতিরিক্ত সচিব ও প্রকল্পের জাতীয় প্রকল্প পরিচালক (এনপিডি) আবদুল হাই আল মাহমুদ। তিনি বলেন, অনুমোদিত উপকরণসমূহ জলবায়ু সহনশীল জীবিকা সম্প্রসারণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। কর্মশালায় সরকারি বিভিন্ন দফতরের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী এবং স্থানীয় অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উপকূলীয় লবণাক্ত অঞ্চলে টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।