বিবিএসের তথ্য

মার্চে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে

বেড়েছে খাদ্যবহির্ভূত খাতে

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

মার্চে দেশে মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমেছে। তবে স্বস্তিতে নেই দেশের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। কারণ মূল্যস্ফীতির ওপর কোনো ভরসা পাচ্ছে না তারা। জানুয়ারিতে ৮.৮৫ শতাংশ থেকে ফেব্রুয়ারিতে মাথাচাড়া দিয়ে ৯.১৩ শতাংশে উন্নীত হয়। মার্চে এসে কমে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিকে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৭১ শতাংশে এসেছে। ২০২৫ সালের মার্চে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯.৩৫ শতাংশ বলে গতকাল বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যে জানানো হয়েছে। তবে খাদ্যবহির্ভূত খাতে জাতীয়সহ গ্রাম ও শহরে মূল্যস্ফীতি আবার বেড়েছে। মজুরি সূচক কিছুটা বেড়েছে।

প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৮.২৪ শতাংশে নেমে এসেছে। যা ফেব্রুয়ারি মাসে ছিল ৯.৩০ শতাংশ। আর গত বছরের মার্চে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৯৩ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে চলতি বছর মার্চে হয়েছে ৯.০৯ শতাংশ। যা গত ফেব্রুয়ারি মাসে ছিল ৯.০১ শতাংশ। তবে ২০২৫ সালের মার্চে ছিল তুলনামূলক বেশি ৯.৭০ শতাংশ।

গ্রামেও মূলস্ফীতি কমেছে: দেশের গ্রামীণ এলাকায় পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে সাধারণ মূল্যস্ফীতি মার্চে কমে হয়েছে ৮.৭২ শতাংশ। যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯.২১ শতাংশ। তবে গত বছরের একই সময়ে অর্থাৎ মার্চ মাসে এটি ছিল ৯.৪১ শতাংশ। চলতি বছর জানুয়ারিতে ৮.৬৩ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি মার্চে কমে ৯.০৭ শতাংশ থেকে ৮.০২ শতাংশে নেমে এসেছে। জানুয়ারিতে ছিল ৮.১৮ শতাংশ। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি সামান্য বেড়ে ফেব্রুয়ারির ৯.৩৪ শতাংশ থেকে মার্চে ৯.৩৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা জানুয়ারিতে ছিল ৯.০৪ শতাংশ।

শহরে নি¤œমুখী ছিল মার্চে: শহরাঞ্চলেও মূল্যস্ফীতির হারের নি¤œমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। চলতি বছর মার্চে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৬৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯.০৭ শতাংশ। তবে জানুয়ারিতে ছিল ৮.৫৭ শতাংশ। আর গত বছর মার্চে ছিল ৯.৬৬ শতাংশ। এদিকে, খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতির হার ফেব্রুয়ারির ৯.৮৭ শতাংশ থেকে কমে মার্চে ৮.৭৮ শতাংশে নেমেছে। যা জানুয়ারিতে ছিল ৮.৬১ শতাংশ। ২০২৫ সালের মার্চে ছিল ৯.১৮ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতির হার শহরেও কিছুটা বেড়ে ফেব্রুয়ারির ৮.৫৭ শতাংশ থেকে মার্চে ৮.৬২ শতাংশ হয়েছে, যা জানুয়ারিতে ছিল ৮.৫৪ শতাংশ। তবে গত ২০২৫ সালের মার্চে ছিল ৯.৯৫ শতাংশ।

মজুরি সূচক হার বেড়েছে: এ দিকে, বিবিএসের তথ্য বলছে, চলতি বছর মার্চ মাসে স্বল্প আয়ের দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকদের গড় মজুরি সামান্য বেড়ে ৮.০৯ শতাংশ হয়েছে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৮.০৬ শতাংশ। আর ২০২৫ সালের মার্চে ছিল ৮.১৫ শতাংশ। যদিও মার্চে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৯.১৩ শতাংশ থেকে ৮.৭১ শতাংশে নেমেছে, তবুও শ্রমজীবী মানুষের প্রকৃত আয় এখনো পিছিয়ে রয়েছে।

ফলে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে টানা ৫০ মাস ধরে প্রকৃত আয় হ্রাসের ধারা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১১.৬৬ শতাংশে পৌঁছায়। যেখানে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ৭.৯৩ শতাংশ। ফলে ৩.৭৩ শতাংশ পয়েন্টের একটি বড় ব্যবধান তৈরি হয়। বর্তমানে সেই ব্যবধান কমে ০.৬২ শতাংশ পয়েন্টে নেমে এসেছে।

খাতভিত্তিক মজুরি হার মার্চে এসেছে কিছুটা বেড়েছে। তিনটি বৃহৎ খাতের মধ্যে কৃষিতে ৮.১১ শতাংশ, শিল্পে ৮.০২ শতাংশ এবং সেবায় ৮.২৩ শতাংশ হয়েছে। যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল কৃষিতে ৮.১০ শতাংশ, শিল্পে ৭.৯৯ শতাংশ ও সেবায় ৮.২০ শতাংশ। গত মার্চ মাসে ছিল কৃষিতে ৮.৩৭ শতাংশ, শিল্পে ৭.৮২ শতাংশ ও সেবা খাতে ৮.৪০ শতাংশ ছিল।