ফ্যাসিস্টের দোসর রোমান শুভকে পুনর্বাসন ও সাইবার হুমকির প্রতিবাদ চাকসুর

Printed Edition

চট্টগ্রাম ব্যুরো

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের দোসর হিসেবে অভিযুক্ত হাসান মোহাম্মদ রোমান শুভকে পুনর্বাসন, চাকসু নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং ও ধারাবাহিক হুমকি, গণমাধ্যমের বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন এবং নিয়োগ ইস্যুসহ সাম্প্রতিক নানা বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)। গতকাল সোমবার দুপুরে চাকসু কার্যালয়ে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে ভাইস প্রেসিডেন্ট ইব্রাহীম হোসেন রনিসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে চাকসু নেতারা বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন ঘটলেও তার অনুসারী ও দোসররা এখনো বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আগের মতো সক্রিয় রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের ‘জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে বহিষ্কার, মাদক সেবন ও এতে শিক্ষার্থীদের প্রলুব্ধ করা, বিরোধী মতের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় নম্বর কম দেয়া এবং অবৈধ নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান নেয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

চাকসু জানায়, গত ৫ আগস্টের পর এসব তথাকথিত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে প্রমাণসহ অভিযোগ দেয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। নির্বাচনের পর থেকে চাকসু এসব ব্যক্তিকে ক্যাম্পাসে পুনর্বাসনের বিরোধিতা করে আসছে। হাসান মোহাম্মদ রোমান শুভ তাদের অন্যতম, যিনি অতীতে ছাত্রলীগের সাথে যুক্ত থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নির্বাচনের আগে আইন অনুষদের একটি সেমিনারে রোমান শুভর উপস্থিতির ছবি নজরে এলে চাকসু প্রতিনিধিরা ডিনের কাছে গিয়ে ব্যাখ্যা চান। তখন জানানো হয়েছিল, তদন্ত চলাকালে তিনি ক্যাম্পাসে ফিরবেন না। তবে গত ১০ জানুয়ারি বি ইউনিট পরীক্ষার দিন চাকসু নেতারা তাকে আইন অনুষদে দেখতে পান। এ সময় তিনি পালানোর চেষ্টা করলে তাকে ধরে প্রক্টর অফিসে হস্তান্তর করা হয়।

চাকসু অভিযোগ করে, প্রশাসনের কাছে মামলা করার অনুরোধ জানানো হলেও তা করা হয়নি। বরং কয়েকটি জাতীয় গণমাধ্যম এ ঘটনাকে ‘মব’ আখ্যা দিয়ে বিভ্রান্তিকর বর্ণনা দিয়েছে এবং একটি শিক্ষক সংগঠন প্রকাশ্যে অভিযুক্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। চাকসু দাবি করে, পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো শারীরিক নির্যাতন বা সহিংসতা হয়নি, যা উপস্থিত সাংবাদিকদের ভিডিও ফুটেজেই স্পষ্ট।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চাকসু গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ করছে, প্রথম আলো, সমকালসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমন কিছু সংবাদ প্রকাশ করেছে, যা বাস্তব ঘটনার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

চাকসু নেতারা আরো বলেন, অভিযুক্তকে ছেড়ে দেয়ার প্রতিবাদ করায় চাকসুর সহ-ছাত্রীকল্যাণ সম্পাদকসহ নারী নেত্রীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সাইবার বুলিং, চরিত্রহনন ও হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে। চাকসু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে এসব ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তি ও অনলাইন পেজগুলো শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।দ