প্রাকৃতিক পরিবেশকে রক্ষা করেই উদ্ভাবনী পরিকল্পনা করতে হবে : ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার
Printed Edition
ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রাকৃতিক পরিবেশকে রক্ষা করেই উদ্ভাবনী পরিকল্পনা করতে হবে। গাছ কেটে প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করে কোনো কাজকে উন্নয়ন প্রকল্প বলা যাবে না। এই পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ আমাদের জাতীয় সম্পদ, এগুলো হারালে আর ফিরে পাওয়া যাবে না। পরিবেশ অক্ষুণœ রেখেই উন্নয়ন পরিকল্পনায় নতুনত্ব আনতে হবে।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা, গ্রাসরুট নেটওয়ার্কের প্রধান ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার গতকাল (৬ এপ্রিল) ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান চ্যানেলের পাড়ে গাছ কাটার প্রতিবাদে চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বারুহার এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি আরো বলেন, গাবখান এলাকার এই প্রাকৃতিক পরিবেশ শুধু কিছু গাছের সমষ্টি নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ইকোসিস্টেম। এখানে গাছ, পাখি, প্রাণী, মাটি ও পানির মধ্যে একটি স্বাভাবিক ভারসাম্য গড়ে উঠেছে, যা বছরের পর বছর ধরে টিকে আছে। এই ভারসাম্য নষ্ট হলে শুধু গাছই নয়, পুরো খাদ্যশৃঙ্খল ধ্বংস হয়ে যাবে। পাখি কমে গেলে পোকামাকড়ের আধিক্য বাড়বে, সরীসৃপ না থাকলে জীববৈচিত্র্যের নিয়ন্ত্রণ ভেঙে পড়বে, ফলে পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ড. হায়দার জোর দিয়ে বলেন, উন্নয়ন মানেই প্রকৃতি ধ্বংস করা নয়; বরং পরিবেশ সংরক্ষণ করেই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য তিনি পরিবেশবিদ, জীববিজ্ঞানী ও স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান জানান। এ সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম নিলয় পাশা, ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও গাছপালা-নদীনালা রক্ষার আন্দোলনের সভাপতি মো: আককাস সিকদার, উপদেষ্টা দুলাল সাহা ও ফয়েজ ইফতেখার রনি, সদস্য সালেহ হাসানসহ স্থানীয় আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।