বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আলোচনা আটকে আছে চীন ইস্যুতে
কিছু বিষয় একমত হলেও কয়েকটি অমীমাংসিত
বাংলাদেশের কর্ম পরিকল্পনা জানতে চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশটি এখনো এলডিসি পর্যায়ে রয়েছে। তাই বিদ্যমান শুল্ক কমপক্ষে ১০ শতাংশ কমিয়ে আনা উচিত।
Printed Edition
বাণিজ্যের ক্ষেত্রে চীনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা চায় না যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের কাঁচামাল আমদানিতে চীনের ওপর প্রায় একচেটিয়া নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনার কথা বলেছে দেশটি। এ বিষয়ে বাংলাদেশের কর্ম পরিকল্পনাও জানতে চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশটি এখনো এলডিসি পর্যায়ে রয়েছে। তাই বিদ্যমান শুল্ক কমপক্ষে ১০ শতাংশ কমিয়ে আনা উচিত। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ নিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার শুল্ক আলোচনার তৃতীয় ও শেষ দিনের বৈঠক গত শুক্রবার ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে আরো কিছু বিষয়ে দুই দেশ একমত হলেও কয়েকটি বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস ইউং বলছে, দ্বিতীয় দফার বাণিজ্য আলোচনার তৃতীয় ও শেষ দিনে আরো কিছু বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। তবে কয়েকটি বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। দুই পক্ষই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, নিজেদের মধ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় আলোচনা চালু থাকবে। তারপর আবার দুই দেশের প্রতিনিধিরা আলোচনায় বসবেন। সেই আলোচনা ভার্চুয়ালি এবং সামনাসামনি দুই প্রক্রিয়াতেই হতে পারে। খুব দ্রুতই সেই সময়-তারিখ নির্ধারিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাণিজ্য উপদেষ্টা, সচিব ও অতিরিক্ত সচিব আগামীকাল (আজ) দেশে ফিরবেন। প্রয়োজন হলে তারা আবার যাবেন। তিন দিনের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন ও নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান আশাবাদী যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একটি ইতিবাচক অবস্থানে পৌঁছানো যাবে।
বাংলাদেশ পক্ষের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন। অন্য দিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নেতৃত্বে ছিলেন বাণিজ্য প্রতিনিধি অ্যাম্বাসাডর জেমিসন গ্রিয়ার।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ তৈয়ব ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন। ভার্চুয়ালি আরো উপস্থিত ছিলেন সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা।
জানা গেছে, আলোচনায় তৈরি পোশাক খাতে চীনের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখানে স্থানীয় মূল্য সংযোজন (ভ্যালু এডিশন) ৪০ শতাংশ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চাপ প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হঠাৎ করে চীনের ওপর বাণিজ্য নির্ভরতা ব্যাপক হারে কমানো সম্ভব নয়। ধীরে ধীরে তা কমিয়ে আনা যেতে পারে। এ প্রসঙ্গে বলা হয়, ডেনিম ও নীটের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ চীনের কাপড়ের ওপর তেমন নির্ভরশীল নয়, তবে ওভেন ক্ষেত্রে এখন চীনের ওপর বাংলাদেশের অনেকখানি নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে সরকার চেষ্টা করছে ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ শিল্প গড়ে তুলে এই নির্ভরতা ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আশ^াস দেয়া হয়, বিষয়টি নিয়ে তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে বাংলাদেশকে জানাবে।
এদিকে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানি বাড়িয়ে দু’দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে আমরা আগ্রহী। এ লক্ষ্যে দ্বিপক্ষীয় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানিতে বাংলাদেশে ওয়ারহাউজ স্থাপনের কথা এরই মধ্যে বলা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র হতে দীর্ঘমেয়াদে এলএনজি আমদানির চুক্তি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে দু’দেশের মধ্যকার এক বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য বাড়বে।