শাবিতে নাহিদ ইসলাম
সংস্কার না হলে যে-ই ক্ষমতায় থাকুক, নতুন স্বৈরাচার হয়ে উঠবে
Printed Edition
শাবিপ্রবি প্রতিনিধি
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘সংস্কার না হলে আজকে যারা ক্ষমতায় আছে বা যে-ই ক্ষমতায় থাকুক, এই কাঠামোতে তারা নতুন করে স্বৈরাচার হয়ে উঠবে, নব্য ফ্যাসিবাদ হয়ে উঠবে।’
গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১টায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) মিনি অডিটোরিয়ামে জাতীয় ছাত্রশক্তির আয়োজনে ‘অগ্নিঝরা জুলাই : রক্তের ঋণ ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের জুলাই অভ্যুত্থানের পরে দু’টি প্রধান এজেন্ডা বিচার এবং সংস্কার। আমরা বিচার চাই, কারণ বিচারের মাধ্যমেই কেবল পূর্বতন যে ফ্যাসিস্ট শক্তি তাকে দমন করা সম্ভব, তাকে ন্যায়বিচারের মধ্যে আনা সম্ভব। আর সংস্কারের মাধ্যমে নতুন কেউ স্বৈরাচার হবে না, নব্য ফ্যাসিবাদ হবে না, সেটা নিশ্চিত করা সম্ভব। তিনি বলেন, যদি বিচার না হয়, তাহলে পূর্বতন ফ্যাসিস্ট শক্তিরা ফেরত আসবে। যদি সংস্কার না হয়, আজকে যারা ক্ষমতায় আছে বা যে-ই ক্ষমতায় থাকুক, এই কাঠামোতে তারা নতুন করে স্বৈরাচার হয়ে উঠবে, নব্য ফ্যাসিবাদ হয়ে উঠবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ হচ্ছে ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। প্রত্যেকটা গণতান্ত্রিক দেশে বিশ্ববিদ্যালয়কে, ছাত্রসমাজকে, শিক্ষকদের এজন্য সরকাররা ভয় পায়।’ তিনি বলেন, গণতন্ত্রের মানে হচ্ছে আপনার সাথে আমি দ্বিমত করব, যে আমার সাথে দ্বিমত করে তার মতপ্রকাশের অধিকার থাকবে। আপনারা কথার জবাব কথা দিয়ে দেবেন, এটাই রাজনীতি, এটাই গণতন্ত্র। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশ গঠনের আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এখন আমাদের গড়ার কাজ, দেশ গঠনের কাজ। আর এটা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আপনাদের শুরু করতে হবে।’ তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কার করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম যাতে সঠিকভাবে পরিচালিত হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশ সেটা নিশ্চিত রাখা, সেটা আপনারা নিশ্চিত রাখবেন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এই যে সেন্সরশিপ, আমরা বলব এগুলো বন্ধ করেন। এগুলোর প্রয়োজন নাই। আমি কথা বলে যাচ্ছি, যদি আমার কথা পছন্দ না হয়, আপনারা পাল্টা সমাবেশ করে আমার বিরুদ্ধে কথা বলেন। এটাই হচ্ছে গণতন্ত্র।’
শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এটা বিগত আমলের কৌশল এবং আপনারা পারলে নতুন কৌশল হাজির করেন। শেখ হাসিনাকে কপি কইরেন না। কারণ শেখ হাসিনাকে কিভাবে সরানো হয়েছে, এটা এখানকার বাচ্চা-বাচ্চা পোলাপানরাও জানে।’
তিনি আরো বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ ঠিক করবে কোন সমাবেশে যাবে, কোন সমাবেশে যাবে না। কার পক্ষে ভোট দেবে, কার পক্ষে দেবে না। কিন্তু কথা বলতে গেলে আপনারা এসে দমন করবেন, আক্রমণ করবেন এবং পুলিশ এসে বাধা দেবে, প্রশাসন এসে বাধা দেবে- নিরাপত্তার নামে এটা বাংলাদেশে আর হতে দেয়া যাবে না।’