রক্তমাখা পতাকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সামনে শেখ আজিজুর
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
মাথায় গুলির ত। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ৩৬টি বুলেটের স্পিন্টারের চিহ্ন। জুলাই আন্দোলনের মাঠে গুরুতর আহত অবস্থায় মাথার রক্ত বন্ধ করতে যে জাতীয় পতাকা বেঁধেছিলেন, সেই পতাকা রক্তে ভিজে গিয়েছিল। সেই রক্তমাখা পতাকা হাতে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাাৎ করলেন শেখ আজিজুর রহমান।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
এই সাাতের মধ্য দিয়ে আজিজুরের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হলো। আজিজুরের ইচ্ছা ছিল ওই পতাকাটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে তুলে দেয়ার। তিনি রক্তরণ ঠেকাতে মাথায় বাঁধা সেই পতাকা প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। সম্প্রতি আজিজুরকে নিয়ে গণমাধ্যমে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ‘গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও শুধু ছাত্রদল করার কারণে মেলেনি জুলাই যোদ্ধার স্বীকৃতি’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে এলে তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে বিষয়টি খোঁজখবর নেয়ার নির্দেশ দেন। সাাতের জন্য নিয়ে আসা হয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে।
এ সময়, প্রধানমন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে আজিজুরের দুঃখ কষ্টের কথা শোনেন। তার আহত হওয়ার ঘটনা, লেখাপড়া, বর্তমান জীবনযাপন এবং সিএনজি চালিয়ে শিাজীবনের খরচ চালানোর বিষয়সহ তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। তার জীবন সংগ্রামের কথাগুলো দারুণভাবে ব্যথিত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে।
প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাাৎ শেষে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন শেখ আজিজুর রহমান। বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাথে সরাসরি দেখা করতে পেরে আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত। নিজের কষ্টের কথা প্রধানমন্ত্রী শুনেছেন এবং তার খোঁজখবর নিয়েছেন; এটিকে জীবনের স্মরণীয় একটি মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন তিনি।
আজিজুর বলেন, এই পতাকাটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আমার তুলে দেয়ার খুব ইচ্ছা ছিল। আজ সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো না।
আজিজুর রহমান সরকারি বাঙলা কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিার্থী। তিনি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তার বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায়।
এতো ত্যাগ আর অবদান যার, সেই যোদ্ধা ছাত্রদল করার কারণে দীর্ঘ দুই বছরেও পাননি জুলাই যোদ্ধার স্বীকৃতি। সংসার আর লেখাপড়ার খরচ চালাতে ধরতে হয়েছে সিওনজি স্টিয়ারিং। জীবনের দু’টি বছর কেটেছে নানা ঘাতপ্রতিঘাতে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনে মিরপুর-১০ ফাইওভারে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে আলোচনায় আসেন আজিজুর। আন্দোলনের একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন।
আহত অবস্থায় মাথার গুলির ত ঢাকতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা মাথায় বেঁধে নেন। রক্তে ভিজে যায় সেই পতাকা। তবু রাজপথ ছাড়েননি। ১৯ জুলাই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। দুই দিনের রিমান্ড শেষে ২১ জুলাই মুক্তি পান তিনি। তবুও ছাত্রদল করায় মেলেনি তার জুলাই যোদ্ধার স্বীকৃতি।
বন্ধ কারখানা চালু ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর
বন্ধ কারখানা চালুর পাশাপাশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকে বন্ধ সরকারি শিল্পকারখানা পুনরায় চালু, বেসরকারীকরণ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা এবং এসব কারখানা চালু করতে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণের ল্েয একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সরকারি শিল্পকারখানাগুলো দ্রুত চালুর ল্েয প্রয়োজনীয় পদপে গ্রহণ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে কার্যক্রমে গতি আনা এবং এসব শিল্পকারখানায় বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে দ্রুত উৎপাদন কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত হয়। প্রধানমন্ত্রী ২০২৬ সালের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া বৈঠকে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বাণিজমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মো: শরীফুল আলম, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপরে (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবন্ধীর হাতে নিয়োগপত্র : তিন প্রতিবন্ধীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে তিনি নিজের কার্যালয়ে প্রবেশের সময় তাদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দিনের প্রথম কর্মসূচি ছিল প্রতিবন্ধীকে নিয়োগপত্র প্রদান। তারা হলেন, গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার আয়শা আক্তার, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার নীলা খাতুন এবং নড়াইল সদর উপজেলার মো: হাসমত আলী। কর্মসংস্থানের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আত্মনির্ভরশীল করা এবং সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই তাদের নিয়োগ দেয়া হয়। আয়শা আক্তার ও নীলা খাতুন দু’জনই শারীরিক প্রতিবন্ধী। জন্ম থেকেই তাদের হাত না থাকা পা দিয়ে লিখে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন।
নীলা খাতুনকে মিরপুরের জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে শিক্ষক পদে এবং আয়শা আক্তারকে গাইবান্ধার বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে কাস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মো: হাসমত আলীকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে সমাজসেবা অধিদফতরের অধীন ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদে।
প্রতিবন্ধী তিন ব্যক্তিকে চাকরি দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা আবদুস সাত্তার দুলাল। নিয়োগপত্র প্রদানের পরপরই প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে তাকে ধন্যবাদ জানান বলে তিনি।
নিয়োগপত্র প্রদানের সময় সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল, সমাজকল্যাণ সচিব মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: তরিকুল আলম এবং সমাজসেবা অধিদফতরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব উপস্থিত ছিলেন।