বগুড়া-২ আসনে মান্নার সাথে লড়বেন জিন্নাহ ও শাহাদাতুজ্জামান

Printed Edition
bangla--1
বগুড়া-২ আসনে মান্নার সাথে লড়বেন জিন্নাহ ও শাহাদাতুজ্জামান

আবুল কালাম আজাদ বগুড়া

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের প্রধান চার প্রার্থীর হলফনামা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে আয়-ব্যয়, সম্পদ, ঋণ ও রাজনৈতিক অতীতের ভিন্ন ভিন্ন চিত্র। তিনজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী প্রার্থীর বিপরীতে তুলনামূলক সীমিত আয় ও স্বচ্ছ সম্পদের কারণে আলোচনায় এসেছেন জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত মাদরাসা অধ্যক্ষ আবুল আজাদ মো: শাহাদাতুজ্জামান।

জাতীয় পার্টি : জাতীয় পার্টির প্রার্থী শরিফুল ইসলাম জিন্নাহর হলফনামায় বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে। স্নাতক পাস, বয়স ৭৬ বছর, পেশায় ব্যবসায়ী জিন্নাহ এরশাদ সরকারের শেষ সময়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১৮ ও ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনেও এমপি হন তিনি।

হলফনামা অনুযায়ী কৃষি, ব্যবসা ও বাড়িভাড়া থেকে তার বার্ষিক আয় প্রায় ১৪ লাখ ৬১ হাজার টাকা। তার নামে নগদ রয়েছে এক কোটি ৭৮ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর নামে দুই কোটি ৩০ লাখ টাকা। জমি, বহুতল ভবন, গাড়ি, সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য সম্পদ মিলিয়ে তার সম্পদের বর্তমান মূল্য প্রায় ১৭ কোটি টাকা। তার স্ত্রীর সম্পদের মূল্য প্রায় ১৪ কোটি টাকা। তবে রূপালী ব্যাংকে নিজের নামে ৩০ লাখ এবং ছেলের নামে ৫০ লাখ টাকার ঋণের তথ্য উল্লেখ রয়েছে।

নাগরিক ঐক্য : নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়া-২ আসনে প্রার্থী হয়েছেন বড় অঙ্কের ঋণের বোঝা নিয়ে। স্নাতক পাস, বয়স ৭৪ বছর, ডাকসুর সাবেক ভিপি ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে।

হলফনামায় মান্নার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। তবে ইসলামী ব্যাংক বগুড়া শহরের বড়গোলা শাখায় তার নামে ২২ কোটি টাকার ঋণের তথ্য উল্লেখ রয়েছে। তার নিজের সম্পদের মূল্য আনুমানিক ১০ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর সম্পদের মূল্য প্রায় এক কোটি ১২ লাখ টাকা। মামলার কোনো তথ্য না থাকলেও বিপুল ঋণের বিষয়টি ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিএনপি : বিএনপি জোটের বিকল্প প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর শাহে আলম। ৫৫ বছর বয়সের এই বিএনপি নেতা এমবিএ পাস। উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই ব্যবসায়ীর আয়ের বড় অংশ আসে তার মালিকানাধীন ১৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে।

হলফনামা অনুযায়ী তার বার্ষিক আয় ৯৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা এবং আয়কর পরিশোধ করেছেন ২৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। নগদ অর্থ, জমি, ঢাকায় ফ্ল্যাট ও ব্যবসায়িক শেয়ার মিলিয়ে তার সম্পদের মূল্য কয়েক কোটি টাকা। তবে ঢাকা ও ইসলামী ব্যাংকে তার নামে প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি টাকার ঋণের তথ্যও উল্লেখ রয়েছে।

জামায়াত : তিন ব্যবসায়ী প্রার্থীর ভিড়ে ব্যতিক্রম হিসেবে এবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী আবুল আজাদ মো: শাহাদাতুজ্জামান। কামিল পাস ৭০ বছরের এই নেতা একজন অবসরপ্রাপ্ত মাদরাসা অধ্যক্ষ এবং বর্তমানে কৃষিকাজের সাথে যুক্ত। বিএনপি প্রার্থীকে পরাজিত করে ১৯৯১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।

হলফনামা অনুযায়ী কৃষি খাত থেকে তার বার্ষিক আয় এক লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং শিক্ষকতা ও পরামর্শক কাজ থেকে আয় ৩০ হাজার টাকা। সন্তানদের পাঠানো অর্থসহ স্বামী-স্ত্রীর সম্মিলিত বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা। তার হাতে নগদ রয়েছে প্রায় ২৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর নামে ১৪ লাখ টাকা। স্ত্রীর নামে এক কোটি ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র থাকলেও কোনো ব্যাংকঋণ বা দায়-দেনার তথ্য নেই। কৃষিজমি, তিনতলা ভবন ও যানবাহন মিলিয়ে তার মোট সম্পদের বর্তমান মূল্য প্রায় সাত কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

ভোটারদের সামনে মৌলিক প্রশ্ন : বগুড়া-২ আসনে নির্বাচনী লড়াই এখন আর কেবল আয়-ব্যয় বা সম্পদের পরিসংখ্যানেই সীমাবদ্ধ নেই। ভোটারদের সামনে মূল প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে- সংসদে কে হবেন জনগণের প্রকৃত কণ্ঠস্বর। বিপুল সম্পদ ও ঋণের ভারে নত ব্যবসায়ী রাজনীতিবিদদের বিপরীতে সীমিত আয়, স্বচ্ছ সম্পদ ও সংসদীয় অভিজ্ঞতা নিয়ে আবুল আজাদ মো: শাহাদাতুজ্জামান এই আসনে নৈতিক রাজনীতির বিকল্প হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন। ক্লিন ইমেজের এই সাবেক এমপিকে ঘিরে ইতোমধ্যে ভোটারদের মধ্যে স্পষ্ট আগ্রহ ও আলোড়ন দেখা যাচ্ছে।