বাণিজ্যমেলায় উপচে পড়া ভিড় ব্যবসায়ীরা খুশি
Printed Edition
গিয়াসউদ্দিন বাবুল পূর্বাচল সংবাদদাতা
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা ধীরে ধীরে জমে উঠছে। নারায়ণগঞ্জের পূর্বাচলের স্থায়ী প্যাভিলিয়নে এবার ৩০তম আসর শুরু হওয়ার পর দ্বিতীয় শুক্রবার ছিল দর্শণার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। গতকাল বেলা ১১টার পর থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। দুপুরের পর ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আগমনে মেলার আশপাশেও লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। এতে বাণিজ্যমেলার দোকানি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যেও উৎফুল্ল দেখা গেছে। মেলার আয়োজকরাও ক্রেতা-দর্শণার্থীদের নিরাপত্তা জোরদার করেছেন। আর্থিক লেনদেনের জন্য বেশ কয়েকটি ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং এর সুবিধা রেখেছেন।
বাণিজ্যমেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার প্রবেশদ্বারে হাজার হাজার মানুষের দীর্ঘ লাইন। সবার মধ্যেই আনন্দ উচ্ছ্বাস। কেউ কেউ ‘মেলায় যাইরে’ গানের সুর তুলে অন্যদের আনন্দ দেয়ার চেষ্টা করছেন। তবে বাড়ি ফেরা দর্শণার্থীদের হাতে হাতে ছিল কেনাকাটা ও আসবাবপত্রের ব্যাগ। ছুটির দিন থাকায় দোকানিরাও বিক্রির স্বার্থে দিয়েছেন বাম্পার অফার। কেউ কেউ দিয়েছেন রাজকীয় অফার। আবার কেউবা দিয়েছেন একটি কিনলে দুইটি ফ্রি। নানা রকম লোভনীয় অফারে বিক্রিতে বেশ সাড়া পেয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এ দিকে মেলাগামী গাড়ির চাপে এশিয়ান বাইপাস সড়ক, গাজীপুর বাইপাস ও ভুলতা-কাঞ্চন সড়কে ছিল দীর্ঘ যানজট। যানজট রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সার্বক্ষণিক ব্যস্ততার মধ্যে সময় কাটাতে দেখা গেছে। যানজটের ফলে মেলায় আগত দর্শনার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। রাস্তা দখল করে অবৈধ পার্কিং ও অবৈধভাবে বসা ফুটপাথের ব্যবসায়ীদের দায়ী করেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রূপগঞ্জের গোলাকান্দাইল এলাকার ভূঁইয়া স্টিল কিং অ্যান্ড ফার্নিচার মালিক গোলজার হোসেন ভূঁইয়া বলেন, বেলা ২টায় বাণিজ্যমেলার উদ্দেশে রওনা দিয়ে সাড়ে ৪টায় মেলার গেটে প্রবেশ করেছি। অথচ ভুলতা থেকে মেলায় যেতে ১৫ মিনিট সময় লাগার কথা।
দাউদকান্দি থেকে আসা শহিদুল্লাহ বলেন, এ বছর প্রথম বাণিজ্যমেলায় এসেছি। দীর্ঘ যানজট পেরিয়ে মেলায় আসতে পেয়ে খুশি। কারুপণ্য ও সাংসারিক প্রয়োজনীয় কিছু আসবাবপত্র কেনাকাটা করতে তিনি মেলায় এসেছেন। বিশেষ অফার পেয়ে সহিদুল্লাহ একটি ইলেকট্রিক চুলা কিনেছেন।
আড়াইহাজারের দুপ্তারা থেকে মেলায় আসা ইলমা কসমেটিক্সের মালিক রিয়াজুল ইসলাম খোকন বলেন, প্রতি বছর একাধিবার বাণিজ্যমেলায় আসা হয়। কিন্তু এবার মেলায় মানসম্মত জিনিসপত্র কম দেখছি। আবার নতুন নতুন কোম্পানি এবার যুক্ত হয়েছে। রাজকীয় অফার পেয়ে একটি ব্লেজার কিনেছি। ছেলেমেয়ের জন্য শীতের পোশাক কিনেছি। তবে মেলায় এলে দেশী-বিদেশী স্টল ঘুরলে নতুনত্ব দেখে খুব ভালো লেগেছে।
গাজীপুরের কাপাসিয়া থেকে আসা মনির হোসেন বলেন, এবার মেলার পরিবেশ খুব সুন্দর লেগেছে। অনেকটাই খোলামেলা। অন্য সময়ের চেয়ে এবার নিম্নমানের পণ্য খুব একটা নেই। তবে মেলার বিশেষ আকর্ষণ শিশুপার্ক খুবই পরিপাটি রাখা হয়েছে।
রূপগঞ্জের বানিয়াদি এলাকা থেকে আসা আল আমিন মিয়া বলেন, এবারের বাণিজ্যমেলায় নারীদের সাজসজ্জা থেকে শুরু করে অধিকাংশ প্লাস্টিক পণ্য নিম্নমানের। গত বছরের মতো এবার নামীদামি ব্রান্ডের পণ্য কম। তবে মানসম্মত বেশ কয়েকটি ফার্নিচার কোম্পানি মেলায় এসেছে। এবারের মেলায় আসা আকিজ গ্রুপের ইলেকট্রিক প্রাইভেটকার বেশ চমক দেখিয়েছে।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর সচিব তরফদার সোহেল রহমান বলেন, এ বছর মেলায় ভারত, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকং, তুরস্ক ও মালয়েশিয়ার ১১টি বিদেশী প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এ বছর মেলায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে ঘটতে না পারে সে দিকে নজর দেয়া হচ্ছে।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর মহাপরিচালক বেবী রানী কর্মকার বলেন, দর্শনার্থীরা এবার প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করেও মেলায় আসছেন। মেলায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার সমস্যা দেখা দেয়নি। বাকি সময়টুকু সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে শেষ করতে প্রশাসনকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন থাকায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। দর্শনার্থীদের জন্য ঢাকার খিলক্ষেত, কুড়িল বিশ্বরোড ও নারায়ণগঞ্জের গাউছিয়া থেকে বিআরটিসির সাটল বাস সার্ভিস চালু রাখা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলছে। সরকারি ছুটির দিন রাত ১০ পর্যন্ত বাণিজ্যমেলা খোলা থাকছে।