সাক্ষী আনতে ব্যর্থ ইনুর আইনজীবী পরবর্তী শুনানি ২২ ফেব্রুয়ারি
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও ছয়জনকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম গতকাল মঙ্গলবার আবারো পিছিয়ে গেছে। আসামিপক্ষ নির্ধারিত দিনে সাফাই সাক্ষী হাজির করতে না পারায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল গতকাল এই আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো: মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মঙ্গলবার সকালে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে হাসানুল হক ইনুকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে নিয়ে আসা হয়।
মামলার কার্যসূচি অনুযায়ী এদিন আসামিপক্ষের সাফাই সাক্ষ্য দেয়ার কথা ছিল। তবে শুনানির শুরুতে ইনুর আইনজীবীরা আদালতকে জানান, তারা সাক্ষী উপস্থিত করতে পারেননি। এর প্রেক্ষিতে আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করে শুনানির জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
প্রসিকিউশনের দাখিল করা অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, হাসানুল হক ইনুর উসকানি ও সরাসরি নির্দেশে পুলিশ, আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালায়। এই হামলায় আশরাফুল ইসলাম (শ্রমিক), সুরুজ আলী বাবু, আব্দুল্লাহ আল মুস্তাকিন (শিক্ষার্থী), উসামা, বাবলু ফরাজী (ব্যবসায়ী) এবং ইউসুফ শেখ (চাকরিজীবী) নিহত হন।
মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে হত্যা, উসকানি এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের সুনির্দিষ্ট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
হাসানুল হক ইনু জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি এবং সাবেক তথ্যমন্ত্রী। গত ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর তাকে গ্রেফতার করা হয়। জুলাই-আগস্টের সহিংসতায় ভূমিকার জন্য তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।