৫ প্রার্থীর হলফনামা

নাটোর-৪ আসনে সম্পদে বিএনপি প্রার্থী শীর্ষে, শিক্ষায় এগিয়ে জামায়াত

এবারের নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাই নয়, প্রার্থীদের সম্পদ, শিক্ষা ও পেশাগত অবস্থানের বৈচিত্র্যও ভোটারদের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে

Printed Edition

বড়াইগ্রাম (নাটোর) সংবাদদাতা

নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা প্রার্থীদের হলফনামায় দেখা গেছে, অর্থ-সম্পদের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আব্দুল আজিজ। অন্য দিকে শিক্ষাগত যোগ্যতায় এগিয়ে আছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আব্দুল হাকিম।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এই আসনে বিএনপির আব্দুল আজিজ, জামায়াতের অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল হাকিম, ইসলামী আন্দোলনের মো: এমদাদুল্লাহ, জাতীয় পার্টির এম ইউসুফ আহমেদ এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) মোকছেদুল মোমিন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের সবার মনোনয়নই বৈধ ঘোষণা করা হয়।

হলফনামা অনুযায়ী, বিএনপির প্রার্থী আব্দুল আজিজ পেশায় কৃষক। তিনি এর আগে তিনবার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং একবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাস। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করলেও সে সময় তার মনোনয়ন বাতিল হয়েছিল। এবারের হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেন- উপহার হিসেবে প্রাপ্ত ২০ ভরি স্বর্ণ, নগদ অর্থ ২০ লাখ ৫৪৮ টাকা এবং ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্রে জমা রয়েছে ১৬ লাখ ৮৭ হাজার ৯২ টাকা। স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি মিলিয়ে আয়কর রিটার্নে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৫ কোটি ৭৯ লাখ ৩১৬ টাকা। তার স্ত্রীর আয়কর রিটার্নে সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ৩৬ লাখ ৮৬ হাজার ৬৮৬ টাকা। আট কক্ষবিশিষ্ট একটি বাড়ি থাকলেও তার কোনো গাড়ি নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া তার নামে তিনটি মামলার মধ্যে একটিতে তিনি খালাস পেয়েছেন এবং বাকি দুটি মামলা উচ্চ আদালতে স্থগিত রয়েছে।

জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আব্দুল হাকিম পেশায় অধ্যাপক। তিনি অনার্স ও মাস্টার্সসহ কামিল পাস। এর আগে তিনি দুইবার ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও একবার উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং কিছু দিন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। হলফনামা অনুযায়ী, পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে তার সম্পদের পরিমাণ সবচেয়ে কম। তার মোট সম্পদ ২১ লাখ ৫৭ হাজার ৬৯ টাকা। তার কোনো স্বর্ণ নেই এবং কৃষি জমি বা নিজস্ব বাড়িও নেই। তিনি পৈতৃক বাড়িতে যৌথ পরিবারে বসবাস করেন। তবে বাড়ি না থাকলেও তার একটি ব্যক্তিগত গাড়ি (মাইক্রোবাস) রয়েছে। তার ব্যাংকে জমা রয়েছে ৪৯ হাজার ৩৩২ টাকা এবং নগদ অর্থ ৯ লাখ ১৩ হাজার ৭৩৭ টাকা। বিশেষ ক্ষমতা আইনে তার নামে একটি মামলা থাকলেও পরবর্তীতে তিনি সেই মামলায় খালাস পান।

ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো: এমদাদুল্লাহ পেশায় শিক্ষক এবং শিক্ষাগত যোগ্যতায় দাওরায়ে হাদিস পাস। হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন, তার নগদ অর্থ রয়েছে ১০ লাখ টাকা এবং ব্যাংকে জমা আছে দুই হাজার ১০০ টাকা। তার ছয় ভরি স্বর্ণ রয়েছে। ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত একটি বাড়ি তার মালিকানায় আছে, যা ভাড়া দিয়ে বছরে ৬০ হাজার টাকা আয় করেন। শিক্ষকতা পেশা থেকে তার বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। তার তিন শতাংশ অকৃষি জমিসহ মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৩০ লাখ টাকা।

আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) প্রার্থী মোকছেদুল মোমিন পেশায় চাকরিজীবী। তিনি স্নাতকোত্তর পাস এবং চাকরি থেকে তার বার্ষিক আয় ছয় লাখ টাকা। হলফনামায় তার নগদ অর্থ দুই লাখ ৮৬ হাজার ৪৫৭ টাকা দেখানো হয়েছে। তার একটি প্রাইভেট কার থাকলেও কোনো বাড়ি নেই। এ ছাড়া তার ১০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী, তার মোট সম্পদের পরিমাণ ২৫ লাখ ৭২ হাজার ৪৫৭ টাকা।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী এম ইউসুফ আহমেদ পেশায় ব্যবসায়ী। শিক্ষাগত যোগ্যতায় তিনি পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে সবচেয়ে কম, তিনি অষ্টম শ্রেণী পাস। হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, তার তিনজন স্ত্রী রয়েছেন। তার ৩০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে এবং নগদ অর্থ আছে ১৫ লাখ ৬ হাজার ৮২ টাকা। মৎস্য ও কৃষি খাত থেকে তার বার্ষিক আয় সাত লাখ ৫৬ হাজার টাকা। বসবাসের জন্য ১৩ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত পাকা ভবনসহ কৃষিজমি মিলিয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় এক কোটি ১০ লাখ টাকা। তবে আয়কর রিটার্নে তিনি মোট সম্পদ হিসেবে দেখিয়েছেন ১৫ লাখ ছয় হাজার ৮২ টাকা।

সব মিলিয়ে নাটোর-৪ আসনে এবারের নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাই নয়, প্রার্থীদের সম্পদ, শিক্ষা ও পেশাগত অবস্থানের বৈচিত্র্যও ভোটারদের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।