দাউদকান্দিতে চাল বোঝাই ট্রাক খাদে, প্রাণ গেল ৭ শ্রমিকের

চার জেলায় দম্পতি, সহোদরসহ নিহত আরো ৭ জন

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

কুমিলার দাউদকান্দিতে চালবোঝাই ট্রাক খাদে পড়ে গেলে তাতে থাকা ধান কাটার সাত শ্রমিক নিচে চাপা পড়ে নিতে হয়েছেন। এ ছাড়া খুলনা, নীলফামারী, বরগুনা ও চট্টগ্রামে পৃথক দুর্ঘটনায় এক দম্পতি ও সহোদর দুই ভাইসহ মোট সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এসব দুঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ১৫ জন

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) সংবাদদাতা ও দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দিতে চালবোঝাই ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ধান কাটার সাত শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ছয়জন।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি হাসানপুরে চট্টগ্রামগামী চালবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারালে মঙ্গলবার ভোররাত সোয়া ৩টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার মজুমদার জানান, দিনাজপুর থেকে চট্টগ্রামগামী একটি চালবোঝাই ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-১৩-১২০৯) হাসানপুর তাসফিন পাম্পের উত্তর দিকে চট্টগ্রামমুখী লেনে পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। ফলে ট্রাকটি সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায় এবং ট্রাকের উপরে থাকা কম টাকার যাত্রীরা সবাই নিচে চাপা পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই সাতজনের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। আহত ছয়জনকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) রেফার করা হয়, দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

নিহতরা হলেন- দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার খালিবপুর গ্রামের আমজাদ মিয়ার ছেলে আফজাল হোসেন (৩৫), আলম মিয়ার ছেলে সোহরাব হোসেন (৪০), ফজলুর রহমানের ছেলে ছালেক (৪৫), বিরামপুর উপজেলার ভাইঘর গ্রামের পলাশের ছেলে সুমন (২১), বিষু (৩৫) বাবা অজ্ঞাত, মজিরুল ইসলামের ছেলে আবু হোসেন (৩০) এবং রফিকুল ইসলামের ছেলে আব্দুর রশিদ (৫৫)। হতাহতরা সবাই মৌসুমের ধান কাটতে এই এলাকায় এসেছিলেন।

এ দিকে সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও জেলা প্রশাসকের পক্ষে আর্থিক সহায়তা হিসেবে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে দিয়েছেন ২৫ হাজার এবং আহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১৫ হাজার টাকা করে দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাছরীন আক্তার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেদওয়ান ইসলাম ও হাইওয়ে ওসি ইকবাল বাহার মজুমদার। পরে দাউদকান্দি উপজেলা জামায়াতের অর্থায়নে লাশ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অ্যাম্বুলেন্সে করে যার যার বাড়িতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়।

এ দিকে নিহত সাত কৃষি শ্রমিকের লাশ দিনাজপুরে নিজ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। পরে জানাজার নামাজ শেষে তাদের দাফন হয়েছে। নিহত সাতজনের মধ্যে বিরামপুর উপজেলার জোতবানি ইউনিয়নের ভাইগড় গ্রামের চার কৃষিশ্রমিকের জানাজাপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মো: আনোয়ারুল ইসলাম, দিনাজপুর জেলা জামায়াতের আমির মো: আনিছুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি মুহাদ্দিস ডক্টর এনামুল হক, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য আফজালুল আনাম, জোতবানি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ। নিহত অপর তিনজনের নবাবগঞ্জ উপজেলার খালিদপুর গ্রামে দাফন সম্পন্ন হয়।

খুলনা ব্যুরো জানায়,

সড়ক দুর্ঘটনায় খুলনায় এক দম্পতি নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর রেলিগেট এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী বটিয়াঘাটা উপজেলার ভাদগাতি গ্রামের বাসিন্দা তানভীর হাসান শেখ (৩১) ও স্ত্রী লামিয়া বেগম (২৮) নিহত হন।

পুলিশ জানায়, ফুলতলা থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা রয়েল পরিবহনের একটি বাস রেলিগেট পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ওই মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেল চালক তানভীর হাসান শেখ ও স্ত্রী লামিয়া বেগম ঘটনাস্থলেই মারা যান। স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে বাসটিকে আটক করলেও চালক পালিয়ে যান।

নগরীর দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: শফিকুল ইসলাম বলেন, বাসটিকে জব্দ করা হয়েছে।

নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, নীলফামারীতে ডাম্পট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে দুই সহোদ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো একজন। মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে নীলফামারী-সৈয়দপুর মহাসড়কের পূর্ব সূটিপাড়া জামতলী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন সদর উপজেলার পশ্চিম কুচিয়ারমোড় এলাকার তরিকুল ইসলাম বাবুর ছেলে মো: সিহাব হোসেন (১৯) ও মো: সোয়াদ (৬)। আহত কিশোর একই এলাকার স্টালিনের ছেলে মো: হোসেন (১০)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টেক্সটাইল বাজার থেকে হেঁটে বাড়ি ফিরছিল ওই তিন কিশোর। এ সময় নীলফামারীগামী একটি দ্রুতগতির ডাম্পট্রাক পেছন থেকে তাদের ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই দুই সহোদরের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত মো: হোসেনকে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বরগুনা প্রতিনিধি জানান, বরগুনার আমতলীতে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে ট্রাকচাপায় অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত দুইযাত্রীকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবামিক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আমতলী উপজেলার ফায়ার সার্ভিস স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা হলেন আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের সোনাখালী এলাকার বাসিন্দা মিরাজুল ইসলাম শাওন ও পটুয়াখালীর আলীপুরের মহিষডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা বেল্লাল হোসেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আমতলী থানার ওসি মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মহিষকাটা এলাকা থেকে একটি অটোরিকশা যাত্রী নিয়ে আমতলীর উদ্দেশে আসছিল। এ সময় ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগামী একটি ট্রাক অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। এতে অটোরিকশার যাত্রী ও চালকসহ মোট পাঁচজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাদেরকে বরিশাল শেবামি হাসপাতালে পাঠান। পরে বরিশাল যাওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সে বেল্লাল নামে একজনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়াও গুরুতর আহতদের মধ্যে মিরাজুল ইসলাম শাওন পটুয়াখালী হাসপাতালে পৌঁছলে সেখানে মারা যান।

পটিয়া-চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দইটি মালবাহী ট্রাক ও একটি ট্রলির (ভ্যান গাড়ি) সংঘর্ষে ট্রলিতে থাকা মোহাম্মদ আরমান (১৮) নামে এক ইটভাটা শ্রমিক নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন।

সোমবার সাড়ে ৮টার দিকে মহাসড়কের চন্দনাইশ উপজেলার হাশিমপুর বাগিচা হাট পেট্রল পাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মো: আরমান পিরোজপুরের মোখলেছুর রহমানের ছেলে বলে জানা গেছে। ওই ঘটনায় আহতরা হলেন মো: হাসান (১৮), মো: আশিক (১৯), লিটন (১৮), মোহাম্মদ সিরাজ (২৭) ও মো: হাসান (১৯)

আহতদের মধ্যে মো: হাসানকে মুমূর্ষু অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায় একদল শ্রমিক ইট ভাটায় কাজ শেষে উপজেলার দোহাজারীতে বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা মালবাহী দু’টি ট্রাকও একই দিকে যাচ্ছিল তখন একটি ট্রাকের সাথে ধাক্কা লেগে তিন চাকার ট্রলিটি উল্টে গেলে ছয়জন গুরুতর আহত হয়। তাদের মধ্যে তিনজনকে চন্দনাইশ হাসপাতালে ও তিনজনকে দোহাজারী হাসপাতালে নেয়া হয়। এর মধ্যে চন্দনাইশ হাসপাতালে নেয়া তিনজনের মধ্যে একজনকে কর্মরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।