আইনি নোটিশের পর ব্রিতে তড়িঘড়ি বোর্ড সভা : পদোন্নতি অনুমোদনের উদ্যোগ

Printed Edition

গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-তে সরকারি আদেশ বাস্তবায়ন নিয়ে বিরোধের তদন্ত চলার মধ্যেই তড়িঘড়ি করে বোর্ড অব ম্যানেজমেন্টের সভা আহ্বান করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার এ সভার আলোচ্যসূচিতে রাজস্ব বাজেটভুক্ত শূন্য পদে পদোন্নতির লক্ষ্যে দু’টি ডিপিসির সুপারিশ অনুমোদন এবং নিয়োগ ও পদোন্নতি কমিটি পুনর্গঠনের বিষয় রাখা হয়েছে। গত ৬ আগস্ট কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট সাত কর্মকর্তাকে আইনি নোটিশ দেয়ার মাত্র চার দিনের মাথায় সভা আহ্বান করায় এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত বলে দাবি করা বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

ব্রি’র পরিচালক (প্রশাসন ও সাধারণ পরিচর্যা) ড. আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ১০ আগস্টের চিঠিতে ১৩ আগস্ট বিকেল ৪টায় ৮০তম বোর্ড সভা আহ্বানের কথা জানানো হয়েছে। সভার আলোচ্যসূচিতে পূর্ববর্তী সভার কার্যবিবরণী অনুমোদন ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি অবহিতকরণের পাশাপাশি দু’টি ডিপিসির সুপারিশ অনুমোদন এবং নিয়োগ ও পদোন্নতি কমিটি-১ ও ২ পুনর্গঠনের বিষয় রাখা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, ৬ আগস্টের আইনি নোটিশে সরকারি আদেশ বাস্তবায়নে বাধা, প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করা হয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই পদোন্নতি-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বোর্ডে তোলার মাধ্যমে অতীতে নেয়া বিতর্কিত নিয়োগ ও পদোন্নতির সিদ্ধান্তকে বৈধতা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে তাদের আশঙ্কা।

তাদের আরো অভিযোগ, চাকরিতে যোগদানের তারিখ থেকে সিনিয়রিটি গণনা করার বিধান থাকলেও রুটিন দায়িত্বে থাকা বর্তমান ডিজি ড. মো: রফিকুল ইসলাম তা মানতে নারাজ। ফলে বিধি অনুযায়ী সিনিয়রিটি বিবেচনা না করায় একাধিক বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে তাদের দাবি।

এর আগে সরকারি আদেশ বাস্তবায়ন নিয়ে ব্রি’তে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের ৩ মে ২০২৬-এর স্মারকের মাধ্যমে ব্রি’র জ্যেষ্ঠতম মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আমিনুল ইসলামকে মহাপরিচালকের রুটিন দায়িত্ব পালনের জন্য মনোনীত করা হয় বলে আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই আদেশ বাস্তবায়নে বাধা, প্রধান ফটক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা, পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তি এবং সিসিটিভি, ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও গুরুত্বপূর্ণ নথি ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগও নোটিশে রয়েছে।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শুভ্রত দেবনাথ রানা, ব্রি’র সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ আলী সিদ্দিকীর পক্ষে গত ৬ আগস্ট কৃষি সচিবসহ সাত কর্মকর্তাকে আইনি নোটিশ দেন। নোটিশে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ২০ জুলাইয়ের স্মারক অনুযায়ী গঠিত চার সদস্যের তদন্ত কমিটিকে দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দেয়ার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি তদন্ত চলাকালে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে স্বার্থের সঙ্ঘাতের বিষয়টি বিবেচনার দাবিও জানানো হয়।

আইনি নোটিশে সাত দিনের মধ্যে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত, সিসিটিভি ফুটেজসহ আলামত সংরক্ষণ, সাক্ষীদের সুরক্ষা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করা হয়েছে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্টে রিট করার কথাও জানানো হয়েছে।

এ অবস্থায় তদন্ত শেষ হওয়ার আগে পদোন্নতি ও নিয়োগসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ব্রি’র মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক বিরোধের পাশাপাশি নিয়োগ, পদোন্নতি ও সিনিয়রিটি নিয়ে অভিযোগের নিরপেক্ষ নিষ্পত্তিই এখন সংশ্লিষ্টদের প্রধান দাবি।

ব্রি প্রগতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা নীতিমালা সংশোধন, প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি এবং বেতন স্কেল নির্ধারণ নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, নীতিমালা সংশোধনের মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগের পরিবর্তে পদোন্নতির সুযোগ তৈরি করা হয় এবং ড. হাবিবুর রহমান মুকুলের স্ত্রী ফাতেমা বেগম সুইটিকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। একই সাথে ওই পদকে ৯ম গ্রেডের বেতন স্কেলে উন্নীত করার বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এ ছাড়া ড. মুকুলের বিরুদ্ধে সরকারি শ্রমিককে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার এবং নিজস্ব গাড়ি ব্রি’র বিভিন্ন প্রকল্পে ভাড়ায় ব্যবহারের অভিযোগও করা হয়েছে। সরকারি সফর সংক্ষিপ্ত করে পূর্ণ মেয়াদের টিএ/ডিএ বিল গ্রহণ এবং একই সফরের ব্যয় রাজস্ব ও প্রকল্প দুই খাত থেকে উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন ড. মুকুল। ব্রি’র ডিজি ড. রফিকুল ইসলাম ফোন রিসিভ না করায় এসব বিষয়ে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।