নারী আসনে বিএনপির এমপি হতে চান একঝাঁক তারকাশিল্পী

Printed Edition
bino-5
নারী আসনে বিএনপির এমপি হতে চান একঝাঁক তারকাশিল্পী

বিনোদন ডেস্ক

বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের দুই মাসের মধ্যেই রাজনৈতিক অঙ্গন সরব হয়ে উঠেছে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন নিয়ে। আগামী ১২ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশেষ করে বিনোদন অঙ্গনের শিল্পীদের মধ্যে ব্যাপক তোড়জোড় লক্ষ করা গেছে। গত দুই দিনে বিএনপি মতাদর্শী একাধিক তারকাশিল্পী সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন। ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন জানিয়েছেন, প্রতি ছয়জন সাধারণ সদস্যের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন হবে। সেই অনুযায়ী বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্ররা মিলে একটি সংরক্ষিত আসন পাবে।

বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ইতিমধ্যে সাত শতাধিক আবেদন জমা পড়েছে। বিনোদন অঙ্গন থেকে এখন পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন সঙ্গীতশিল্পী বেবী নাজনীন (নীলফামারী-৪), কনকচাঁপা (সিরাজগঞ্জ-১), দিলরুবা খান (জয়পুরহাট-২), রিজিয়া পারভীন (কিশোরগঞ্জ), দিঠি আনোয়ার (সিলেট ও কুমিল্লা) এবং নৃত্যশিল্পী ফারহানা চৌধুরী (ময়মনসিংহ-১১)। ফরম সংগ্রহের জন্য প্রার্থীদের ২ হাজার টাকা এবং জমার সময় ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হচ্ছে।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সঙ্গীতশিল্পী বেবী নাজনীন জানান, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে দলের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে চান। অন্যদিকে, ২০১৮ সালে সিরাজগঞ্জ-১ আসন থেকে নির্বাচন করা কনকচাঁপা বলেন, বিগত সময়ে তিনি একরকম অবরুদ্ধ ছিলেন এবং তার কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল। এখন তিনি মহান সংসদে দাঁড়িয়ে জনগণের দুঃখের কথা ও শিল্পীদের সমস্যার কথা বলতে চান। রিজিয়া পারভীনও তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, তিনি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের উন্নয়ন এবং শিল্পীদের পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করতে আগ্রহী।

সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আমান উল্লাহ চৌধুরীর কন্যা ও জাসাস নেত্রী ফারহানা চৌধুরী এবং সঙ্গীতশিল্পী দিলরুবা খানও জনগণের সেবা করার লক্ষ্য নিয়ে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন।

এদিকে দলীয় সূত্রগুলো বলছে, তারকাদের পাশাপাশি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ও মহিলা দলের ত্যাগী নেত্রীরাও এই দৌড়ে রয়েছেন। অনেকেই তাদের বিগত দিনের আন্দোলন ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার প্রোফাইল নীতিনির্ধারকদের কাছে পাঠাচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও জনপ্রিয়তার সমন্বয় ঘটিয়ে কারা দলীয় চূড়ান্ত মনোনয়ন পাবেন, তা নির্ভর করছে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর।

সংরক্ষিত নারী আসনের এই লড়াই রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।