তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি বলেছেন, ‘সরকারের সমালোচনা সবাই করতে পারে। সরকারের বিরুদ্ধে বলার অধিকার আছে। সরকারের বিরুদ্ধে ন্যারেটিভ তৈরি করলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়া হবে না। তবে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ন্যারেটিভ তৈরি করা হলে কঠোরহস্তে দমন করা হবে।’
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক আয়োজিত ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচারের বিস্তার প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো: সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক উম্মে হাবীবা মীরা। এসময় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসানসহ বিভিন্ন দফতরের প্রধান, সাংবাদিক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী আরো বলেন, ‘সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের জন্য কমিটি গঠন হয়েছে। ইতোমধ্যে ওই কমিটি সভা করেছে। এটি একটি শক্ত আইন হবে। এই আইন পাস হলে বৃহৎ পরিসরে সবাইকে জানানো হবে। বিশেষ করে সাইবার বুলিংয়ের শিকার নারী ও শিশুদের বিষয়টি কঠোরভাবে দেখা হবে।’
বিগত ফ্যাসিবাদের সময়ে নিজেও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সাইবার বুলিংয়ে আমাকেও অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এই আইন কোনা দল বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে করা হচ্ছে না। সরকারের বিরুদ্ধে ন্যারেটিভ তৈরি বন্ধ করার জন্যও হচ্ছে না। কিন্তু দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে নেরেটিভ তৈরি করা হলে, তা কঠোরহস্তে দমন করা হবে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশকে বেটার করার জন্য আইন করা হচ্ছে। নারী ও শিশুদের সুরক্ষা দিতে নতুন আইন করা হচ্ছে। যদিও আইন করে সব সমস্যার সমাধান করা যায় না। তাই নৈতিক শিক্ষা নিয়েও সরকার কাজ করছে। নৈতিক অবক্ষয়রোধে আইনের প্রয়োগ করার জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। যদি জেনে লাইক কমেন্ট করে তাহলে আইনের আওতায় আসবে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময় খেলার কোনো মাঠ নেই। এজন্য বতর্মান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ এবং প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মিনি স্টেডিয়াম তৈরি করা হবে। এখনকার সময়ের বাচ্চারা বন্দী অবস্থায় থাকে। তাদেরকে খেলাধুলার মাধ্যমে সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা চেষ্টা চলছে।’
তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বতর্মান সময়ে নারী ও শিশুদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার করা হচ্ছে। দেশ ও জনগণের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড অতীতেও হয়েছে। আইন করে সব সমস্যার সামাধান করা যাবে না। তাই আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলে নৈতিক শিক্ষা নিয়ে কাজ করছি।’ এ নিয়ে ভিডিও রিলস হবে এবং বই প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক মো: সাইফুর রহমান বলেন, ‘আজকের সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী অপতথ্য ও গুজবের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি কাঠামো গড়ে তুলতে না পারলে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচারের বিস্তার প্রতিরোধ সম্ভব নয়।’
তিনি বলেন, ‘সচেতনতাই প্রধান কার্যক্রম হিসেবে রাখতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহের এক দিন বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচারের বিস্তার প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচারের বিস্তার প্রতিরোধে পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। এ জন্য সাইবার বুলিং বা নারীদের যৌন হয়রানি প্রতিরোধ করা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেন কেউ অন্যকে হেনস্তা না করি সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’
তথ্য কর্মকর্তা মীর আক্রাম উদ্দিন আহমেদ সমাজের বিভিন্ন স্তরে অপত্যের ব্যাপারে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে প্রচারণা চালানোর জন্য তথ্য প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা প্রদানের অনুরোধ জানান।
সাংবাদিক ইউনিয়ন ময়মনসিংহের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তির তথ্যের পাশাপাশি গুজব, অপতথ্য, মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রয়োগ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।’ এব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সাইবার সুরক্ষা আইনের গঠিত কমিটির সদস্য তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সাংবাদিক আমান উল্লাহ আকন্দ জাহাঙ্গীর বলেন, ‘সাংবাদিকতার পরিচয় দিয়ে যারা অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।’
বক্তারা বলেন, বাস্তব জীবনে সত্যের প্রচারণা বাড়াতে হবে। ভুল তথ্য ও ভুয়া তথ্য প্রচারের কারণে রাষ্ট্র ও ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কাজেই অপতথ্য প্রতিরোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।