ঋতুপর্নার বিকল্প শান্তি মার্ডি

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রথমবারের মতো এএফসি নারী চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলতে যাচ্ছে রাজশাহী স্টারস। সর্বশেষ বাংলাদেশ নারী লিগের চ্যাম্পিয়ন দল তারা। এ দলের হয়ে খেলার কথা ছিল ঋতুপর্না চাকমার। তবে মিয়ানমারের কাব আইয়িওয়াদি এফসির সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়ায় তাকে পাচ্ছে না রাজশাহী স্টারস। যদিও তাকে নিয়ে মালয়েশিয়ার যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল কাব কর্তৃপক্ষ। কিন্তু মিয়ানমারের কাব ছাড়েনি। বাংলাদেশ জাতীয় দলের এ ফুটবলার যে পার্শ্ববর্তী কাবেরও গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। তাই আইয়িওয়াদি কাব রেখে দিয়েছে তাকে। এ কাবের হয়ে নারী চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলবেন ঋতুপর্না। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের এ খেলোয়াড়কে না পেয়ে বিকল্পও দলে নিয়েছে রাজশাহী স্টারস। আর তিনি হলেন শান্তি মার্ডি। জানান, রাজশাহী স্টারসের অধিনায়ক শিউলী আজিম। আর দিনাজপুর থেকে উঠে আসা এ সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর ফরোয়ার্ডও শান্তি মার্ডিও নিজের সেরাটা দিতে চান এএফসির আসরে।

ডিফেন্ডার শিউলী আজিম। পেনাল্টি শটও নেন তিনি। ময়মনসিংহের এ ফুটবলারের মতে, আমরা গত লিগে যাদের নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম সে দলের চেয়ে বেটার এবারের দল। অবশ্য দলের সাথে ঋতুপর্না থাকলে ভালো হতো। তবে ঋতুপর্না না থাকলেও আমাদের দলে শান্তি মার্ডি আছে। আমরা তার কাছে ভালো কিছু আশা করছি। এরপর যোগ করেন, ঋতুপর্না একজন অভিজ্ঞ ফুটবলার। তার ভিন্ন কোয়ালিটি আছে। আমার শান্তি মার্ডিরও ভিন্ন কোয়ালিটি আছে। আমি ঠিক ঋতুর বিকল্প বলব না শান্তিকে। তবে শান্তি মার্ডি ঋতুর মতোই গতিসম্পন্ন।

শিউলীর মতে, আমরা নারী চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোয়ালিফাই করার জন্যই যাচ্ছি। এগুতে চাই ম্যাচ বাই ম্যাচ। এ মিশনে অবশ্যই প্রথম ম্যাচটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের ইস্টবেঙ্গলের বিপক্ষে আমাদের প্রথম ম্যাচ। তাদেরকে হারিয়েই শুরু করতে চাই। জানান, আমাদের কাছে সব ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ জানান। এরপর তথ্য দেন, ‘আমাদের দলে বাংলাদেশ ন্যাশনাল টিমের সব ফুটবলার। ইস্টবেঙ্গলে কিন্তু ভারত জাতীয় দলের সব খেলোয়াড় নেই। এরপরও তাদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ হবে। এরপর জানান, কোচ ছোটন স্যারকে পেয়ে আমাদের খুবই ভালো লেগেছে।

শান্তি মার্ডি গত বছর অনূর্ধ্ব-২০ সাফে ভুটানের বিপক্ষে একই দিনে দুই মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচে হ্যাটট্রিকস করেছিলেন ভুটানের বিপক্ষে। কিংস এরিনায় প্রবল বৃষ্টির কারণে মাঠ খেলার অনুপযুক্ত হয়ে যাওয়ায় বিরতির পর খেলা নিয়ে যাওয়া হয় পাশেই বসুন্ধরা কিংসের প্র্যাকটিস গ্রাউন্ডে। প্রথমার্ধে ভুটানের বিপক্ষে এক গোল করা শান্তি বিরতির পর দুই ঘণ্টা বিলম্বে শুরু হওয়া ম্যাচে করেন আরো দুই গোল। এবারের নারী চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তিনি প্রথম খেলতে যাচ্ছেন। যেখানে ঋতুপর্না আরো আগেই এ আসরে অভিষেক ঘটান ভুটানের কাবের হয়ে। শান্তি জানান, আমরা প্রথম এ টুর্নামেন্টে খেলতে যাচ্ছি। চেষ্টা করব নিজের সেরাটা দিয়ে রাজশাহী স্টারসকে সাফল্য এনে দিতে। বাংলাদেশ আর্মির এ খেলোয়াড়ের লক্ষ্য সিনিয়র জাতীয় দলে খেলা। যদিও তিনি সিনিয়র জাতীয় দলে ডাক পেয়েছিলেন। তবে খেলা হয়নি। জানান, জাতীয় দলে নিয়মিত হতে চাই। খেলতে চাই সিনিয়র আপুদের সাথে।

দিনাজপুরে জন্ম হলেও ভালো ফুটবলার হওয়ার জন্য ভর্তি হন পঞ্চগড়ের বোদা ফুটবল অ্যাকাডেমিতে। এরপর বিকেএসপি কাপ খেলে নজরে আসেন জাতীয় দলের সহকারী কোচ মাহাবুবুর রহমান লিটুর। তখন থেকেই তার সামনে এগিয়ে চলা। কৃষক বাবার সন্তান শান্তি মার্ডি। দুই ভাই-দুই বোনের মধ্যে তার ভাইও অল্পস্বল্প ফুটবল খেলে। জাতীয় দলের অপর দুই সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর ফুটবলার সোহাগী কিসকু ও কোহাতি কিসকু তার বড় অনুপ্রেরণা।

কোচ ছোটন জানান, ঋতুপর্নাকে পেলে ভালো হতো। তবে শান্তি মার্ডিও খুব প্রতিভাবান ফুটবলার। গত লিগে যে সেনাবাহিনীর হয়ে খুবই খেলেছে। তাই তাকে এ দলে নেয়া হয়েছে। এরপর বলেন, ঋতুতো ঋতুই। আর শান্তিতো শান্তিই। দুই জনই ভিন্ন কোয়ালিটির ফুটবলার। জাতীয় দলের সাবেক এ কোচের মতে, আমরা কোয়ালিফাই করার জন্যই যাচ্ছি। এ দলের ফুটবলাররা সাফ চ্যাম্পিয়ন। তারা এশিয়ার শীর্ষ পর্যায়ে খেলেছে। তাই এদের নিয়ে সাফল্য পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।