শুরুটাও শিরোপায় করল পিএসজি

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৫-২৬ মৌসুমটা যেখানে শেষ করেছিল প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি), ২০২৬-২৭ মৌসুমের শুরুটা যেন সেখান থেকেই হলো। হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে পুসকাস অ্যারেনায় উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আর্সেনালকে হারিয়ে বছর শেষ করেছিল পিএসজি। নতুন মৌসুমে উয়েফা সুপার কাপে অ্যাস্টন ভিলাকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা দিয়েই শুরুটা করল ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা। অস্ট্রিয়ার রেড বুল অ্যারেনায় গত পরশু প্রথমে খভিচা কভারাস্কাইয়ার গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ব্রায়ান মাদজোর গোলে সমতায় ফেরে ভিল্লা পার্কের দলটি। শেষ পর্যন্ত জয়সূচক গোলটি করেন ফরাসি উইঙ্গার দেজিরে দুয়ে।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও ইউরোপা লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়নের নিয়ে মৌসুমের শুরুতে যে লড়াইটি হয়, সেটিই হচ্ছে উয়েফা সুপার কাপ। এ নিয়ে টানা দ্বিতীবার এই ট্রফি ঘরে তুলল জিতল পিএসজি। গত মৌসুমে আরেক ইংলিশ কাব টটেনহ্যাম হটস্পারকে টাইব্রেকারে হারিয়ে প্রথম এই শিরোপার স্বাদ পেয়েছিল ফরাসি কাবটি। আর দ্বিতীয়বার ট্রফিটি জিতে তিনটি কাবের পাশে নাম লেখাল লুইস এনরিকের দল। এত দিন তালিকায় ছিল শুধু তিনটি কাবÑ আয়াক্স, এসি মিলান ও রিয়াল মাদ্রিদ। সালজবুর্গে গত পরশু পিএসজিকে নতুন সঙ্গী পেল ইউরোপিয়ান ফুটবলের এই তিন জায়ান্ট।

গত দুই মৌসুম স্বপ্নের মতো কাটে পিএসজির। ২০২৪-২৫ মৌসুমে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বাদ পাওয়ার পাশাপাশি গড়েছিল তারা ট্রেবল জয়ের কীর্তি। ২০২৫-২৬ মৌসুমেও ইউরোপ সেরার ট্রফি ধরে রাখে ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা। সেই সাথে লিগ ওয়ান, ফরাসি সুপার কাপ, ফিফা ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপও জিতে দলটি।

রেড বুল অ্যারেনায় ম্যাচ শুরুর ২০ মিনিটে কাভারাস্কাইয়ার দারুণ গোলে এগিয়ে যায় পিএসজি। ৪৫ মিনিটে ব্রায়ান মাজোর গোলে সমতায় ফেরে ইংলিশ কাব অ্যাস্টন ভিলা। এই গোলের সুবাদে সুপার কাপের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে গোলের রেকর্ড গড়েছেন ১৭ বছর বয়সী এ ইংলিশ স্ট্রাইকার। ভিলার জার্সিতে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে এটা ছিল মাজোর অভিষেক। ৬১ মিনিটে পিএসজিকে আবার এগিয়ে নেন দেজিরে দুয়ে। শেষ পর্যন্ত সেই এগিয়ে যাওয়াটা ধরে রেখে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পিএসজি।

সর্বশেষ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ মোট পাঁচটি ট্রফিজয়ী পিএসজি এবারো ট্রফি জিতেই মৌসুম শুরু করল। আগামী রোববার ফ্রেঞ্চ সুপার কাপে লেন্সের বিপে জিতলে আরো একটি ট্রফি কেবিনেটে শোভা পাবে পিএসজির।

অ্যাস্টন ভিলাকে হারিয়ে ম্যাচ শেষে পিএসজি কোচ এনরিকে বলেন, ‘জানতাম, কঠিন লড়াই হতে চলেছে। তবে আমরা যেভাবে খেলেছি, তা সম্ভব হয়েছে আমার খেলোয়াড়েরা নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করায়। হয়তো আমরা সেরা শারীরিক অবস্থায় নেই; কিন্তু আবার আমরা নিজেদের ডিএনএ দেখিয়ে দিলাম।’

এ নিয়ে ছয়টি ইউরোপিয়ান ট্রফি জিতলেন এনরিকে। অ্যালেক্স ফার্গুসন ও জিওভান্নি ত্রাপাত্তোনি তার সমান ইউরোপিয়ান ট্রফি জিতেছেন। সর্বোচ্চ ১০টি জিতেছেন কার্লো অ্যানচেলোত্তি, সাতটি জিতে দুইয়ে আছেন পেপ গার্দিওলা। তবে এনরিকে একটি জায়গায় অনন্য। ছয়টি ইউরোপিয়ান ফাইনালের সব ক’টিতেই ট্রফি জিতেছেন এনরিকে। স্প্যানিশ কোচ এ পথে পেছনে ফেললেন জিনেদিন জিদানের পাঁচ ফাইনালে পাঁচটি ট্রফি জয়কে।