ইতালির ফুটবল প্রধানের পদত্যাগ
Printed Edition
ক্রীড়া ডেস্ক
চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল ইতালি টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। গত মঙ্গলবার বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপে পেনাল্টি শুট-আউটে হেরে ইতালির জাতীয় দল প্লে-অফ থেকে বিদায় নেয়। এতে দেশটির ফুটবল মহল এবং রাজনৈতিক অঙ্গন এবং সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পরাজয়ের পর বিভিন্ন মহলের সমালোচার পরিপ্রেক্ষিতে পদত্যাগ করেছেন দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান গাব্রিয়েলে গ্রাভিনা। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট এবং অন্যান্য রাজনৈতিক সদস্যরা গ্রাভিনাকে সরানোর দাবি জানান। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি সরাসরি ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান গ্রাভিনার পদত্যাগ দাবি করেছিলেন।
সব মহলের চাপে গ্রাভিনা অবশেষে ফেডারেশনের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন। ইতালি ফুটবল ফেডারেশনের প থেকে গতকাল এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গ্রাভিনা ৮ এপ্রিল চেম্বার অব ডেপুটিজের সপ্তম কমিটির কাছে ইতালীয় ফুটবলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদনের জন্য শুনানিতে অংশ নেবেন। গ্রাভিনা ২০১৮ সালে প্রথমবার ফেডারেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে ২০২১ ও ২০২৫ সালে দায়িত্ব পুনর্নবায়ন করেন। তার নেতৃত্বে ইতালির ফুটবল অনেক দিক থেকে উন্নতির চেষ্টা করলেও সাম্প্রতিক ফলাফল হতাশাজনক।
ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি জানান, ‘ইতালীয় ফুটবলকে পুনরুজ্জীবিত করতে হলে নেতৃত্বে পরিবর্তন অপরিহার্য। এই সংস্কার ফেডারেশনের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করতে হবে।’
এ দিকে মাঠের ব্যর্থতার ােভ ছড়িয়ে পড়েছে সমর্থকদের মধ্যেও। রোমে ফেডারেশন ভবনের সামনে বিােভ করে ডিম নিেেপর মাধ্যমে তাদের ােভ প্রকাশ করেন সমর্থকরা।
পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলেছিল ফেডারেশন প্রধানের সাম্প্রতিক মন্তব্য। তিনি দাবি করেছিলেন, রাষ্ট্র ফুটবলের পাশে যথেষ্ট সহায়তা দিচ্ছে না এবং অন্য খেলাগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। এই মন্তব্যে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
ক্রীড়ামন্ত্রী পাল্টা জবাবে বলেন, নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে অন্য খেলাকে ছোট করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের অ্যাথলেটরাও এ নিয়ে ােভ প্রকাশ করেছেন।
ইতালির জাতীয় দল শেষবার বিশ্বকাপে খেলেছিল ২০১৪ সালে; কিন্তু তখনো তারা গ্রুপ পর্যায় অতিক্রম করতে ব্যর্থ হয়। এরপর তারা রাশিয়া ২০১৮ ও কাতার ২০২২ বিশ্বকাপের জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। গত দুই দশকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইতালির পারফরম্যান্স ভেঙে পড়েছে।
ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ফেডারেশনের নেতৃত্বে স্থিরতা এবং কৌশলগত পরিবর্তনের অভাব দেশের ফুটবলের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতালির জোড়া ব্যর্থতা শুধু খেলোয়াড়দের নয়, পুরো ফুটবল ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন তুলেছে। দেশের জাতীয় ফুটবল সম্প্রদায় ও সমর্থকরা হতাশ হলেও আশা প্রকাশ করছেন নতুন নেতৃত্বের অধীনে ইতালির ফুটবল আবারো শক্তিশালী অবস্থানে ফিরে আসবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গ্রাভিনার পদত্যাগ নতুন কৌশল, যুবক খেলোয়াড়দের সুযোগ এবং গঠনমূলক সংস্কারের পথ খুলে দিতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে ইতালির ফুটবলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইতালির ফুটবলের জন্য এটি একটি নতুন অধ্যায়, যেখানে ব্যর্থতা থেকে শিা নিয়ে পুনরায় শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
খোঁজা হচ্ছে কোচ গাত্তুসোর বিকল্প
বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার পর ইতালি জাতীয় দলের কোচ গেন্নারো গাত্তুসো চাকরি শেষ হওয়ার পথে। ফলে তার বিকল্প নিয়ে ভাবা হচ্ছে। ইতালিয়ান গণমাধ্যমে চারজন প্রার্থীকে নতুন কোচ হিসেবে আলোচনায় আনা হচ্ছে। রবার্তো মানচিনি সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রয়েছেন। তিনি ২০২০ ইউরো জয় করেছেন এবং ইতালির দলের পরিচয় পুনর্গঠন করতে সম।
এছাড়া অ্যান্টোনিও কন্টে ও মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রিও ও প্রার্থী তালিকায় আছেন। কন্টের আগের অভিজ্ঞতা রয়েছে ২০১৪-২০১৬ সময়ের জাতীয় দলে, কিন্তু নাপোলির কাব প্রধানের অনুমোদন দরকার। আলেগ্রিও বর্তমানে মিলানে আছেন এবং ২০২৭ পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত নাম পেপ গার্দিওলা। ম্যানচেস্টার সিটির কোচকে দায়িত্বে আনা গেলে ইতালির প্রথম বিদেশী নির্বাচক হবেন তিনি। তবে তার আগমনের সম্ভাবনা কম, কারণ সিটির সাথে তার বর্তমান চুক্তি চলমান।