রাস্তার ইট তুলে নিলো প্রতারক চক্র

উন্নয়নকাজে অব্যবস্থাপনার চিত্র

Printed Edition

স্থানীয় উন্নয়ন কাজে ফাঁকি দেয়ার বিষয়টি এখন নিয়ম হয়ে গেছে। সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারে ধরেই নেয়া হয় মানসম্পন্ন কাজ হবে না। ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণেও বিপুল অনিয়ম হতে দেখা যায়। কেবল সরকারি অর্থ ভাগবাটোয়ারা করার জন্যও অনেক সময় প্রকল্প প্রণয়ন হয়েছে- এমন দৃষ্টান্ত আছে। যেখানে কোনো জনবসতি নেই সেখানে ব্রিজ বানানো হয়েছে, কোথাও দেখা গেছে, মাঠের মধ্যে ব্রিজ, কোনো সংযোগ সড়ক নেই। ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় এ ধরনের অর্থহীন উন্নয়নের শত শত প্রকল্প দেখা গেছে। এবার দেখা গেল তার চেয়েও বিস্ময়কর এক জালিয়াতি। কয়েক কিলোমিটার সড়কের ইট তুলে নিয়ে গেছে প্রতারকরা।

প্রতারণার ঘটনাটি ঘটেছে জামালপুর সদর উপজেলায়। রশিদপুর ইউনিয়নের ভাঙ্গুরিঘাট থেকে ময়নার মোড় পর্যন্ত সাড়ে তিন কিলোমিটার রাস্তার ইট তুলে নেয়া হয়। জালিয়াত চক্র অভিনব কায়দায় কাজটি সম্পন্ন করে। তারা একটি খবর ছড়িয়ে দেয়, সংশ্লিষ্ট রাস্তাটি পাকা করা হবে। এ জন্য তারা সেখানে একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দাওয়াত দিয়ে সবাইকে মিষ্টিমুখ করানো হয়। সেখানে স্থানীয় সাংসদও আমন্ত্রিত হয়ে উপস্থিত হন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চার কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটি পাকাকরণের কাজ পেয়েছে ঢাকার একটি ঠিকাদার। ওই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সাব-ঠিকাদার আবদুল মান্নান কাজটি করবেন। এরপর পুরো রাস্তা থেকে ইট তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। মাটির রাস্তাটি এখন বৃষ্টিতে কাদায় একাকার। যানবাহন ও মানুষের চলাচল দুঃসাধ্য। দেখা গেল রাস্তা পাকাকরণের কাজ শুরু হচ্ছে না। কয়েক দিন পরে জানা গেল, রাস্তা পাকাকরণের দরপত্রই হয়নি। স্থানীয় সরকারের পক্ষ থেকে এমন কোনো কাজের আদেশ হয়নি। কথিত ঠিকাদার মান্নান ও তার ১০ সহযোগীকে পুলিশে দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কোনো একটি প্রকল্প শুরু হওয়া এবং সেটি শেষ করা অনিশ্চিত একটি বিষয়। এই জালিয়াতির পর স্থানীয় মানুষ চলাচলে বড় ভোগান্তিতে পড়েছে। রাস্তাটি অন্তত আবার কখন ইট বসানো হবে তার ঠিক নেই। ভরা বর্ষার কারণে এ কাজ এখন করা অসম্ভব।

ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা জালিয়াত চক্রের দ্বারা প্রভাবিত হতে পারেন। কিন্তু স্থানীয় সংসদ সদস্য কোনো ধরনের খোঁজখবর না নিয়ে তাদের অনুষ্ঠানে যুক্ত হওয়া আশ্চর্যজনক। এই সুযোগ প্রতারকরা নিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বহীনতার বিষয়টিও এখানে স্পষ্ট। সময়মতো তারা হস্তক্ষেপ করলে ইট তুলে নিতে পারত না। এ ব্যাপারে তাদের জবাবদিহি থাকা উচিত।

সারা দেশে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলমান, সামনে বিপুল উন্নয়নকাজ হবে। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় ক্ষমতাসীন দল ও তাদের আশীর্বাদপুষ্টরা এ ধরনের প্রকল্পকে সরকারি অর্থ লুটেপুটে নেয়ার সহজ সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেছে। রশিদপুরের এই জালিয়াত চক্র গ্রেফতার হলেও এতে বিগত আমলের ছায়া দেখা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে সে জামিন পেয়েছে। আমরা মনে করি, তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার। তা না হলে প্রতারক চক্র অভিনব অন্য কোনো উপায়ে হাজির হয়েছে।

এ ঘটনা থেকে সরকারের সতর্ক হওয়ার তাগিদ পাওয়া যায়। উন্নয়ন প্রকল্প হলেই স্থানীয় ক্ষমতাসীনরা অবৈধ সুযোগ পাবে- এই ধারণা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। জামালপুরের অভিনব এই জালিয়াতির ঘটনা থেকে আমাদের সেই শিক্ষা নেয়া উচিত।