এখনো নিপীড়িতরাই বৈষম্যের শিকার

আইনের সমান প্রয়োগ কাম্য

Printed Edition

রাজনৈতিক কর্মীদের প্রতি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বাংলাদেশ পুলিশের আচরণ এখনো বদলায়নি। ২০০৯ সালের পর থেকে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে পুলিশকে বানানো হয়েছিল ক্ষমতাসীনদের পেটোয়া বাহিনী। গোটা বাহিনীতে আওয়ামী দলীয় ক্যাডার ও কর্মীদের নিয়োগ দেয়া হয়। তারা বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বেপরোয়া নির্যাতন চালিয়েছে। পুলিশের দমন-পীড়ন, গায়েবি মামলা এবং বৈষম্যমূলক আচরণে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীর জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ। পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগে বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ভণ্ডুল করেছে, নাশকতার মিথ্যা এমনকি গায়েবি মামলা দায়ের করে বছরের পর বছর হয়রানি করেছে। নির্বিচারে গ্রেফতার ও হেফাজতে নিয়ে নির্যাতন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়। মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার হরণের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে পুলিশ ও অন্য নিরাপত্তা সংস্থা। গুম, খুনসহ হেন অপকর্ম নেই যা করা হয়নি।

ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনে মানুষ আশা করেছিল পরিস্থিতি পাল্টাবে। নতুন নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশে আইনশৃঙ্খলার উন্নতির পাশাপাশি অতীতে নিপীড়িত নেতাকর্মীরা স্বাভাবিক জীবনযাপন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সাংবিধানিক অধিকার ফিরে পাবেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এমন কিছু খবর প্রায়ই সামনে আসছে যাতে মনে হয়, পুলিশের আচরণ এখনো বদলায়নি।

গতকাল নয়া দিগন্তের একটি খবরের শিরোনাম, ‘একই সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় পুলিশের ভিন্ন সিদ্ধান্ত/আওয়ামী লীগ নেতা মুক্ত, বিএনপিকর্মী এখনো কারাগারে।’

ঘটনা গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার। সেখানে জুলাই আন্দোলনে হামলা মামলায় আটক আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রহিমকে পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ও পুলিশকে হত্যার হুমকির ঘটনায় দায়ের হওয়া সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলায় বিএনপিকর্মী শহীদুল ইসলামকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। গত জুনের এ ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ প্রধান বলেছেন, আবদুর রহিম আদালতে জামিন পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু বিএনপিকর্মী শহীদুল ইসলামের গ্রেফতার ও কারাগারে পাঠানোর ব্যাখ্যা কী? তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত হয়েছে কি?

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতারা অভিযোগ করেন, আবদুর রহিম সম্প্রতি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল থেকে পুলিশকে হত্যার হুমকি দেন। সেই মামলায় তাকে গ্রেফতার না দেখিয়ে জামিনের কথা বলে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এর পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ আছে। বলা হচ্ছে, আওয়ামী নেতাকে ছাড়ানোর ব্যবস্থা করেন স্বয়ং স্থানীয় বিএনপির নেতা। সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক ওই নেতার সাথে কথা বলার চেষ্টা করলেও এড়িয়ে গেছেন তিনি।

থানা পুলিশের এই বৈষম্যমূলক আচরণ এখন গাজীপুরে আলোচিত বিষয়। কিন্তু এ ঘটনা একটি বড় প্রশ্ন সামনে এনেছে। এখন বিএনপি সরকারে, জামায়াত বিরোধী দলে। অর্থাৎ- ক্ষমতার কেন্দ্র গত ১৫ বছরের নির্যাতিত দু’টি দলের নিয়ন্ত্রণে। এখনো কি সেই সময়ের নিপীড়িতরা নতুন করে নির্যাতন-হয়রানির শিকার হবেন? স্মরণে রাখা দরকার, ক্ষমতাসীন দলের নেতারা প্রভাব খাটালে সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে আইনের প্রয়োগ হবে না। নৈরাজ্য ফিরে আসবে।

রাষ্ট্র সংস্কারের গণরায় বাস্তবায়ন হয়নি। পুলিশের সংস্কারও আটকে আছে। পুরো বিষয়টি হতাশাজনক।