গুম ক্রসফায়ার তদন্তে ট্রাইব্যুনালকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে র‌্যাব

সংবাদ সম্মেলনে নতুন ডিজি

Printed Edition

জনবান্ধব করতে সবার সহযোগিতা কামনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

গুম, খুন ও ক্রসফায়ারের তদন্তে সহায়তা চাইলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে বলে জানিয়েছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) নবনিযুক্ত মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত আইজিপি আহসান হাবীব পলাশ। সেই সাথে তিনি র‌্যাবকে একটি পেশাদার, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

গতকাল রোববার রাজধানীর কাওরান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব ডিজি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বিচার প্রক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত কোনো বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা চাইলে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব। আমাদের কাছে যে তথ্য আছে তা দিবো আর কোনো তথ্য না থাকলে আমরা অপারগতা প্রকাশ করব। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল এই বিষয়ে এখনো আমাদের সাথে যোগাযোগ করেনি।

র‌্যাব বিলুপ্তিতে দেশী-বিদেশী সংস্থার চাপের বিষয়ে তিনি বলেন, র‌্যাব বিলুপ্তি বা র‌্যাব সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়ভার র‌্যাবের ওপর বর্তায় না। সরকার এই বিষয়গুলো বিবেচনা করবে। আমাদের (র‌্যাব) কর্তব্য হচ্ছে দায়িত্ব পালন করা। আমরা যেহেতু রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছি, সেহেতু আমাদের মূল কাজই হচ্ছে র‌্যাবকে জনগণের সামনে কাজের মাধ্যমে ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করা। র‌্যাব সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেবে, আমরা আমাদের কাজ করে যাব।

বিগত সময়ে র‌্যাবকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে আহসান হাবীব বলেন, গত দেড় বছর এবং এর আগের সরকারের সময়ে র‌্যাবের কার্যক্রম যদি পর্যালোচনা করে দেখেন, তাহলে দেখবেন, র‌্যাবের অপকীর্তির ইতিহাস বেশি নেই। এতেই প্রমাণিত হয়, র‌্যাবকে যদি সঠিকভাবে পরিচালনা করা যায়, তাহলে র‌্যাব সঠিকভাবে পরিচালিত হতে পারে। আমি মনে করি, এ ব্যাপারে সরকার চেষ্টা করছে, আমাদের ভালো কাজে সম্পৃক্ত করার জন্য এবং আমি আশা করি র‌্যাব সঠিকভাবে পরিচালিত হবে। এ ব্যাপারে আমরা সরকারের কিছু নির্দেশনা পেয়েছি।

তিনি বলেন, জলদশ্যূ বা উগ্রবাদ বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। তবে এসব বিষয়ে আমরা কাজ করছি। আমরা গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করেছি। যে বাদই থাকুক না কেন, আমরা সব বাদই নির্মূল করতে পারব। নির্বাচনসহ নানা কারণে আমরা এদিকে দৃষ্টি দিতে পারিনি। এই ব্যাপারে আমরা এখন তথ্য সংগ্রহ করেছি। আমাদের কাজ চলছে।

র‌্যাব ডিজি বলেন, বাংলাদেশে দিনে দিনে প্রকট আকার ধারণ করছে কিশোর গ্যাং। এই বিষয়ে র‌্যাবের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ ও র‌্যাব যৌথভাবে এ নিয়ে কাজ করছে। কিশোর গ্যাংকে সব সময় আইনের মধ্যে রাখতে সমস্যা হয়। কিন্তু আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে। আপনারাও (সাংবাদিক) উন্মোচন করুন, কারা কিশোর গ্যাংকে সহায়তা করছে। তাহলে আমাদের কাজ সহজ হয়ে যাবে।

র‌্যাবের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আহসান হাবীব বলেন, র‌্যাব পুর্নগঠন, সংস্কার, স্ট্র্যাকচারিং এগুলো সরকারের বিবেচনার বিষয়। তবে মানবাধিকার বা অন্যান্য ত্রুটির বিষয়ে আমরা অভ্যন্তরীণভাবে তদন্ত করি। এ ব্যাপারে কেউ ছাড় পাচ্ছে না। আমি আশা করি, এই কাজগুলোর মাধ্যমে আমরা বেলাশেষে ভালো অবস্থানে যেতে পারব। আমাদের বিরুদ্ধে যে বিষয়গুলো আছে, সেগুলো আস্তে আস্তে সমাধান হয়ে যাবে।

র‌্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপনারা যদি পর্যালোচনা করেন, তাহলে দেখবেন, র‌্যাব গঠনের পর থেকে এখন পর্যন্ত কোন কোন সময় কী কী কারণে এ ঘটনাগুলো ঘটলো, তাহলে দেখবেন, কাজের ক্ষেত্রে কিছু ভিন্নতা, কিছুটা পদস্খলন ছিল বলে এই ঘটনাগুলো ঘটেছে। আমরা যদি এই বিষয়গুলো ঠিক করতে পারি, তাহলে আমার মনে হয় নিষেধাজ্ঞার বিষয় আর থাকবে না।

দায়িত্ব পালনকালে আপনি কোন জায়গায় র‌্যাবকে দেখতে চান? এ প্রশ্নের উত্তরে র‌্যাবের নবনিযুক্ত ডিজি বলেন, আমি অত্যন্ত পেশাদারী, প্রযুক্তিনির্ভর, জনবান্ধব ও মানবিকভাবে যাতে আমরা কাজ করতে পারি সেজন্য ব্যবস্থা নিতে চাই। সবার সহযোগিতা পেলে আমরা সেই জায়গায় যেতে পারব। র‌্যাব আগামীতে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে ইনশাআল্লাহ। এ সময় তেলের সিন্ডিকেটসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে র‌্যাব অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করছে বলেও জানান তিনি।