শিক্ষকদের অপরাধ আড়ালে একটি দৈনিকের সংবাদ
প্রতিবাদ চবি শিবিরের
Printed Edition
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) অভিযুক্ত তিন শিক্ষকের অপরাধ আড়াল করে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। গত বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে শাখা সভাপতি ইব্রাহীম হোসেন রনি ও সেক্রেটারি মোহাম্মদ পারভেজ দাবি করেন, প্রকাশিত সংবাদটি পক্ষপাতদুষ্ট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
বিবৃতিতে ছাত্রশিবির নেতারা বলেন, গত ১৩ জানুয়ারি ‘সাধারণ শিক্ষার্থীর নামে শিক্ষক হেনস্তাকারীরা শিবির-সম্পৃক্ত’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করে পত্রিকাটি। সেখানে ছাত্রলীগ নেতা ও হত্যা মামলার আসামি শিক্ষক রন্টু দাশের ক্যাম্পাসে আগমনের প্রতিবাদের ঘটনাকে ‘শিক্ষক হেনস্তা’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। অথচ রন্টু দাশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাবে শিক্ষক হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
নেতারা আরো বলেন, সংবাদটিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি শিক্ষক কুশল বরণ চক্রবর্তীর অপরাধও সুকৌশলে আড়াল করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করা এবং আরএসএসের সমর্থক হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গত ৪ জুলাই কুশল বরণের পদোন্নতির বোর্ডে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের ঘটনাকে ভুলভাবে চিত্রায়িত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আইন বিভাগের শিক্ষক হাসান মোহাম্মদ রোমান শুভর বিষয়ে বলা হয়, তিনি জুলাই গণহত্যার সমর্থক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ‘জঙ্গি ট্যাগ’ দিয়ে নির্যাতনের সাথে জড়িত। ২০২২ সালে এক শিক্ষার্থীকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে জেল খাটানোর অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট তার বেতন সাময়িকভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। অথচ গত ১০ জানুয়ারি ভর্তি পরীক্ষায় তাকে দায়িত্ব দেয়ায় চাকসু প্রতিনিধিরা প্রতিবাদ করতে গেলে সেই ঘটনাকেও সংবাদে ‘হেনস্তা’ হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। এ ছাড়া নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের সাথে রোমান শুভর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছে।
নেতারা অভিযোগ করেন, একটি দায়িত্বশীল ছাত্রসংগঠনকে শিক্ষক হেনস্তাকারী হিসেবে চিত্রায়িত করার হীন অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। তারা ওই দৈনিক পত্রিকাকে একপেশে সংবাদ প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার অনুরোধ করেন। বিজ্ঞপ্তি।